প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পুরুলিয়া জেলায় ৪৭ বছর বয়সী আকবর মণ্ডল নামে এক মুসলিম ফেরিওয়ালাকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য এবং উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
নিহতের আত্মীয়দের অভিযোগ হলো, তাদের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয়ভীতির পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে এবং দাড়ি থাকার কারণে বহু লোককে জোর করে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দিতে বাধ্য করা হচ্ছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির একটি প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে, গত ৯ জুন বান্ডোয়ান এলাকায় ফেরি করতে গিয়ে হামলার শिकार হন আকবর মণ্ডল। তার ছেলে জুলফিকার বলেন, সেদিন সকালে স্টিলের বাসনপত্র বিক্রি করার সময় সুপুরডিহি গ্রামের একটি বাড়িতে তাকে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে এক ব্যক্তি প্রথমে লাঠি দিয়ে মারপিট করে এবং পরে কুড়াল দিয়ে আঘাত করে।
জুলফিকার জানায়, দুপুরের দিকে বান্দোয়ান থানা থেকে ফোন পেয়ে তিনি হাসপাতালে যান। হাসপাতালে গিয়ে তিনি বাবার মরদেহ দেখতে পান। তার কথা অনুযায়ী, আকবর মণ্ডলের মাথা থেঁতলে দেওয়া হয়েছিল এবং হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু ঘটে।
নিহতের ছেলে আরও অভিযোগ করেন যে, এলাকায় কিছু লোক মুসলিম ফেরিওয়ালাদের দাড়ি দেখে ‘জয় শ্রী রাম’ বলতে বাধ্য করত এবং হুমকি দিত যে, এসব স্লোগান না বললে তাদের ফেরি করতে দেওয়া হবে না। তিনি আরও দাবি করেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরে মুসলিমদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বেড়ে গেছে এবং তারা আতঙ্কের মধ্যে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
পুনিশোল গ্রামের বাসিন্দা খেলাফত হোসেন মণ্ডলও একই অভিযোগ তুলে বলেন, স্থানীয় মুসলিম শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ কাজ করছে এবং কাজের জন্য বের হওয়ার সময় তারা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন।
এদিকে, পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার বৈভব তিওয়ারি জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে বিশ্বনাথ মাহাতো নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বাড়ির ভেতরেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
পুলিশ সুপার বলেন, হত্যার কারণ এখনো সঠিকভাবে জানা যায়নি। প্রাথমিকভাবে বিষয়টি ব্যক্তিগত বিরোধ অথবা ঝগড়ার জেরে ঘটতে পারে। এখন পর্যন্ত ঘটনার পেছনে ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নিহতের পরিবার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন