প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
উত্তর ইথিওপিয়ার তিগ্রাই অঞ্চলের আদিগ্রাত শহরের বাসিন্দারা বিবিসিকে জানিয়েছেন যে, ইরিত্রিয়ার সেনারা ইথিওপিয়ায় প্রবেশ করে এমন একটি অঞ্চলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যেখানে দেশটির সরকারি বাহিনী এবং আঞ্চলিক বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ চলমান রয়েছে।
ইথিওপিয়ার সরকার এবং তিগ্রাই অঞ্চল নিয়ন্ত্রণকারী তিগ্রাই পিপলস লিবারেশন ফ্রন্টের (টিপিএলএফ) মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সেখানে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। ২০২২ সালে দুই বছরের গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটাতে যে শান্তিচুক্তি হয়েছিল, উভয় পক্ষই একে অপরকে দায়ি করছে সেই চুক্তি লঙ্ঘনের জন্য।
ইথিওপিয়া টিপিএলএফকে ইরিত্রিয়ার সমর্থন পাওয়ার অভিযোগ করেছে। যদিও ইরিত্রিয়া এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে টিপিএলএফসহ ইথিওপিয়ার কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী মিলে একটি নতুন জোট গঠন করে। এরপর থেকেই দেশটিতে রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং অস্থিরতা বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, তারা অফ-হোয়াইট রঙের সামরিক পোশাক পরিহিত ইরিত্রিয়ার সেনাদের চিনতে পেরেছেন। রয়টার্সকে আদিগ্রাতের এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, তিনি ওই সময় শহরে উপস্থিত ছিলেন না, তবে তার পরিবারের সদস্যরা তাকে ফোন করে ইরিত্রিয়ার সেনা দেখার কথা জানিয়েছেন। তবে রয়টার্স এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে সক্ষম হয়নি।
ইথিওপিয়ার সরকারি বাহিনীর সঙ্গে লড়াই করা সরকারপন্থী মিলিশিয়া ‘তিগ্রাই পিস ফোর্স’-এর কমান্ডার গেব্রেগজিয়াবহের বেয়েনে জানিয়েছেন, ‘ইরিত্রিয়ার সেনারা সামরিক পোশাক পরে এবং ভারী অস্ত্র নিয়ে তিগ্রাইয়ে প্রবেশ করেছে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এসব সেনাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হচ্ছে। তার দাবি, ইরিত্রিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে তিগ্রাইয়ে সেনা পাঠাচ্ছে, যাতে যুদ্ধ ইরিত্রিয়ার ভেতরে না ছড়িয়ে তিগ্রাইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। এর আগে ইথিওপিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় আফার অঞ্চলের প্রশাসকও দাবি করেছিলেন যে, সেখানে ইরিত্রিয়ার সেনারা লড়াই করছে। তবে রয়টার্স এই দাবির সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।
ইরিত্রিয়ার তথ্যমন্ত্রী ইয়েমানে মেসকেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে সেনারা সীমান্ত পার হয়েছে কিনা, তা সরাসরি অস্বীকার করেননি। তবে তিনি অভিযোগ করেছেন যে, ইথিওপিয়ার সরকার নিজেদের আগ্রাসী কর্মকাণ্ডকে আড়াল করতে ‘আত্মরক্ষার’ একটি মিথ্যা গল্প ছড়াচ্ছে।
যদি এসব দাবিগুলো সত্য হয়, তবে গত ২৩ সেপ্টেম্বর ইথিওপিয়ার সরকারি বাহিনী এবং টিগ্রাই পিপলস লিবারেশন ফ্রন্টসহ সাতটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর জোটের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ শুরুর পর ইথিওপিয়ায় ইরিত্রিয়ার সেনার প্রবেশের এটি হবে প্রথম ঘটনা।
ইথিওপিয়া অভিযোগ করেছে যে, দেশটির সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে লড়াই করা একটি সশস্ত্র জোটকে ইরিত্রিয়া, মিসর ও সুদান সমর্থন দিচ্ছে। তবে তিন দেশই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং সংঘাতে জড়িত থাকার কথা নাকচ করেছে।
ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায় নিজেদের দূতাবাস বন্ধ এবং ১০ জন ইরিত্রীয় কূটনীতিককে বহিষ্কারের ঘোষণার পর ইথিওপিয়া সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে ইরিত্রিয়া।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ইরিত্রিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ইথিওপিয়ার এই পদক্ষেপের জবাবে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া এবং সব ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করা ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় ছিল না। এর আগে সোমবার ইথিওপিয়ার সরকারি বাহিনী তিগ্রাই অঞ্চলের রাজধানী মেকেলে দখল করে।
এর কয়েক দিন আগে টিগ্রাই পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট (টিপিএলএফ) জানিয়েছিল, তারা মেকেলে থেকে সরে গেছে এবং তাদের আঞ্চলিক প্রশাসন সাময়িকভাবে অন্য জায়গায় সরিয়ে নিয়েছে।
এদিকে ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ নতুন করে আরো পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব নিয়েছেন। শপথের পর তিনি বলেন, স্থলবেষ্টিত ইথিওপিয়ার লোহিত সাগরে প্রবেশাধিকার থাকা জরুরি। একই দিনে ইরিত্রিয়া, সোমালিয়া, সুদান ও মিসর ইথিওপিয়ার সংঘাতের রাজনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়ে যৌথ বিবৃতি দিয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন