প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কওমি সংশ্লিষ্ট সম্মিলিত উলামা মাশায়েখ বাংলাদেশ ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে সংসদ সদস্য শামীম কায়সার লিংকনকে নিয়োগ না দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটি একই সঙ্গে উলামায়ে কেরামের সঙ্গে আলোচনা করে একজন যোগ্য, অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
নেতাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ দাবি না মানলে বাংলাদেশের উলামায়ে কেরামের সঙ্গে সরকারের বিদ্যমান সম্পর্ক ও পারস্পরিক আস্থায় দূরত্ব সৃষ্টি হতে পারে। তারা এ বিষয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর খিলগাঁওয়ে জামিয়া ইসলামিয়া মাখজানুল উলুম মিলনায়তনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব দাবি ও বক্তব্য তুলে ধরা হয়।
এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দিন রাব্বানী। তিনি জানান, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী পদে শামীম কায়সার লিংকনকে মনোনীত করার সংবাদ দেশের আলেম সমাজ ও সাধারণ তাওহিদী জনতার প্রত্যাশার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। লিংকন দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগণের ধর্মীয় মতাদর্শ ও চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নন বলে তিনি দাবি করেন।
মাওলানা মুহিউদ্দিন রাব্বানী বলেন, শামীম কায়সার লিংকন পীর-মাশায়েখ, তাবলিগ জামাতের কার্যক্রম ও চার মাজহাবের বিরোধী এবং লা-মাজহাবি আকিদায় বিশ্বাসী। বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকেই দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগণ হানাফি মাজহাবের অনুসারী। তাই ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর পদে তাকে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয় বলে তিনি দাবি করেন।
শ্রমদাতা এ বিষয়টাকে সামনে রেখে জানান, বাংলাদেশের ধর্মীয় সংস্কৃতি, রীতি-নীতি ও সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগণের বিশ্বাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে যদি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাহলে আলেমদের মর্যাদা রক্ষা হবে এবং সাধারণ মানুষের ধর্মীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরও সহজ হবে।
মুহিউদ্দিন রাব্বানী এ সময় বর্তমান সরকারের ইসলামবান্ধব সরকারের দাবি এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়টি উল্লেখ করেন।
তিনি সতর্ক করে জানান, আলেম-উলামাদের এ ন্যায্য দাবি সরকার যদি মেনে না নেয়, তবে বিদ্যমান পারস্পরিক আস্থার সম্পর্কে ফাটল তৈরি হতে পারে। তিনি আরও বলেন, এই দূরত্ব তৈরি হলে তা সহজে মেরামত করা সম্ভব হবে না। তাই উলামায়ে কেরামের পরামর্শ ও মতামতের ভিত্তিতে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মনোনীত করা সরকারের জন্য কল্যাণকর হবে।
এ সময় প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তারা ধর্ম প্রতিমন্ত্রী নিয়োগের ক্ষেত্রে দেশের আলেম সমাজের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান এবং দাবি করেন যে, এমন ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া হোক যার ধর্মীয় বিষয়ে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।
এ ধরনের কার্যক্রমে আরও উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল হামিদ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সহসভাপতি মুফতি নাজমুল হাসান কাসেমী, জামিয়া ইসলামিয়া মাখজানুল উলুম খিলগাঁওয়ের মুহতামিম মাওলানা জহুরুল ইসলাম, হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি বশিরুল্লাহসহ বিভিন্ন কওমি মাদরাসা ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতারা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন