প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
তাইওয়ানের দূরবর্তী স্থানে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার রাতইল গ্রামের মো. আনিসুর রহমান (৫২) পাড়ি জমিয়েছিলেন; কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, সেখানে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা যান তিনি।
নিউ তাইপে সিটির একটি হাসপাতালের হিমঘরে তার নিথর দেহ পড়ে রয়েছে। দেশে তার দুই সন্তান বাবার লাশ শেষবারের মতো দেখার জন্য অপেক্ষা করছেন।
আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে আনিসুরের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার খরচ বহন করা পরিবারের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। এই অবস্থায় তার শোকাহত স্ত্রী, সন্তান ও স্বজনরা সরকারের জরুরি সহযোগিতা কামনা করেছেন স্বামীর লাশ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য।
মৃতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কাশিয়ানী উপজেলার রাতইল গ্রামের আবুল বাসার মুন্সী ও ফিরোজা বেগমের ছেলে মো. আনিসুর রহমান চলতি বছরের ২২ জুন জীবিকার সন্ধানে ‘ট্যুরিস্ট ভিসায়’ তাইওয়ান যান। গত ৩১ অক্টোবর সকালে তিনি হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে নিউ তাইপে সিটির ‘ফু জেন ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে’ ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বর্তমানে তার লাশ ওই হাসপাতালের হিমঘরে সংরক্ষিত রয়েছে। আনিসুরের মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছানোর পর থেকে পরিবারে চলছে শোকের মাতম।
মৃত আনিসুরের স্ত্রী শিলা আক্তার জানান, তাদের সংসারে এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী মেয়ে জুম্মী রহমান এবং ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছেলে জারিফ রয়েছে। বাবার মৃত্যুর খবরে তারা ভেঙে পড়েছে। সন্তানদের সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না স্বজনরা। তারা শুধু অপেক্ষা করছে- কখন দেশে ফিরবে বাবার লাশ, শেষবারের মতো তাকে দেখতে পাবে।
স্বামীর লাশ দেশে ফিরিয়ে আনতে সোমবার (২ নভেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন শিলা আক্তার।
আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, তাইওয়ানে অবস্থানরত আনিসুরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ইয়াং জিয়ান-কাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তার মৃত্যু ও লাশ সংরক্ষণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক তথ্য পাওয়া যাবে। সরকারি উদ্যোগে লাশ দেশে আনা হলে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তা গ্রহণের প্রস্তুতিও রয়েছে পরিবারের।
এদিকে আনিসুরের ভাই নাজমুল হক, আজিজুর রহমান ও আফজাল বলেন, বিদেশের মাটিতে ভাইয়ের লাশ পড়ে থাকার বিষয়টি আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। নিজেদের অর্থায়নে লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার মতো আর্থিক সামর্থ্য আমাদের নেই। সরকারের শীর্ষপর্যায় ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর জরুরি হস্তক্ষেপ ছাড়া ভাইকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
লাশ দেশে ফিরিয়ে এনে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ করে দিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর দ্রুত মানবিক সহযোগিতা কামনা করেছেন আনিসুরের স্ত্রী, সন্তান ও স্বজনরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন