প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আলাতুলী ইউনিয়নের রানিনগর এলাকায় পদ্মা নদীতে বালু উত্তোলন নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে ইজারাদারপক্ষের। সোমবার (২৯ জুন) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার নারী ও পুরুষ নদীপাড়ে অবস্থান নিয়ে বালু উত্তোলনের বিরোধিতা করেন। খবর পেয়ে প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে লাঠি ও শনকি নিয়ে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল রানিনগর এলাকায় পদ্মা নদীতে বালু উত্তোলনের জন্য আসেন। স্থানীয় কয়েকজন তাদের এতে বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে আশপাশের গ্রামের বাসিন্দারা নদীপাড়ে জড়ো হন। খবর পেয়ে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পদ্মা নদীর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে তারা নদীরক্ষা বাঁধসংলগ্ন এলাকায় আবাস গড়ে তুলেছেন। এর আগেও একাধিকবার উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসনের কাছে বাঁধের কাছ থেকে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে কিন্তু তা কার্যকর করা হয়নি। তাদের আশঙ্কা, বাঁধের নিচ থেকে বালু উত্তোলন হলে নদীভাঙনের ঝুঁকি আরও বাড়বে এবং বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও নদীরক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে পড়বে।
রানিনগর এলাকার বাসিন্দা বাবুল আক্তার ও চরচাকলা গ্রামের সাইদুর রহমান বলেন, তারা একাধিকবার নদীভাঙনের শিকার হয়েছেন। এখন বাঁধের পাশেই বসবাস করছেন। তাই বাঁধের নিচ থেকে বালু উত্তোলন কোনোভাবে তারা মেনে নেবেন না।
স্থানীয় কলেজছাত্র মুশা হক বলেন, সকালে কিছু ট্রলার, নৌকা ও একটি ড্রেজার নিয়ে বালু উত্তোলনের চেষ্টা করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন একত্রিত হয়ে বাধা দিলে বালু উত্তোলন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দিনভর কয়েক হাজার মানুষ নদীপাড়ে অবস্থান করে।
কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, বালু উত্তোলনের বিরোধিতা করায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকরামুল হোসাইন বলেন, বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যান। প্রশাসনের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইকরামুল হক নাহিদ বলেন, ইজারাদারপক্ষ বালু উত্তোলন করতে এলে গ্রামবাসী বাধা দেন। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন