প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সাতক্ষীরায় গত কয়েক দিনের হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর মাঠে হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। অনেক স্থানে প্যান্ট গুটিয়ে, বই-খাতা ও স্কুলব্যাগ বাঁচিয়ে কোনোমতে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে শিশুদের। এর ফলে, একদিকে যেমন পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার দক্ষিণ দেবনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠটি নিচু হওয়ায় প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে চারপাশ থেকে পানি এসে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করে। চলতি বছরেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। মাঠ ছাড়িয়ে, বিদ্যালয়ের শৌচাগারে যাওয়ার পথটিও এখন পানির নিচে। ফলে শিশু শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। বিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মাঠ ভরাট এবং স্থায়ী পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা দাবি জানিয়ে গত কয়েক মাসে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর কোনো সমাধান এখনো মেলেনি। ফলে, প্রতি বর্ষায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের একই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক আবু সাঈদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "রাষ্ট্র যেখানে শিশুদের শিক্ষা ও খেলাধুলার পরিবেশ উন্নয়নে জোর দিচ্ছে, সেখানে জলাবদ্ধতার কারণে এই বিদ্যালয়ের শিশুরা স্বাভাবিকভাবে ক্লাসে অংশ নিতে পারছে না।" বাধ্য হয়ে, অনেক অভিভাবক নিজেদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে পৌঁছে দিচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, মাঠটি দ্রুত ভরাট করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হলে শিক্ষার পরিবেশ ফেরানোর পাশাপাশি শিশুদের খেলাধুলার সুযোগও নিশ্চিত হবে। দক্ষিণ দেবনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জোছনা আরা বলেন, "শিশুদের এই সীমাহীন কষ্ট দেখে চুপ থাকা যায় না। তাই জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত ও স্থায়ী সমাধানের জন্য জোর দাবি জানিয়েছি।" একই চিত্র দেখা গেছে শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ১৪৯ নম্বর শ্রীফলকাটি পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও। সেখানেও মাঠের পানি উপচে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। সমস্যার স্থায়ী সমাধান ও মাঠ ভরাটের জন্য ৮ জুলাই সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শহিদুল ইসলাম। বছরের পর বছর ধরে চলা এই জলাবদ্ধতার স্থায়ী নিরসনে এখন জেলা প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন