প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গভীর রাতের নীরবতার মধ্যে ঘটে গেল একটি অদ্ভুত ঘটনা।শ্রীমঙ্গল-ভানুগাছ প্রধান সড়কটি লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের জানকিছড়া স্টিল ব্রিজ এলাকার পাশ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন বিভাগের নিরাপত্তা ও টহল থাকার কথা থাকলেও, সেই সড়কের পাশ থেকে ভোরের আলো ফোটার আগেই একটি বিশাল মৃত সেগুনগাছ অদৃশ্য হয়ে যায়। গাছটি কেটে নিয়ে যাওয়ার এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে—সংরক্ষিত বনের এত নিকট থেকে এত বড় একটি গাছ কাটা পড়ার সময় পাহারাদারদের দৃষ্টি এড়ালো কেন?
ঘটনাটি ঘটে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ভোরে জানকিছড়া স্টিল ব্রিজ এলাকায়।
স্থানীয়দের মতে, গাছটির উচ্চতা প্রায় ৭ ফুট। বাজারে এর মূল্য প্রায় এক লাখ টাকা হতে পারে। তবে গাছটির সঠিক মূল্যায়ন বন বিভাগের পরিমাপ ও যাচাইয়ের পরই নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, রাতের বেলায় বন বিভাগের কিছু বন প্রহরী এবং স্থানীয় বন টহল দলের (সিপিজি) সদস্যরা নিয়মিত দায়িত্ব পালন না করায় চোরচক্র এই সুযোগটি গ্রহণ করেছে।
যদিও এই অভিযোগের সত্যতা তদন্তের আগে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।
ঘটনার পর স্থানীয়দের বর্ণনায় উঠে এসেছে আরও কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। ভানুগাছ বাজারের এক পথচারী জানিয়েছেন, ভোর সাড়ে ৫টার দিকে একটি হলুদ রঙের ত্রিপলঢাকা ট্রাক দ্রুত গতিতে উপজেলা চৌমুহনার দিকে চলে যেতে দেখেছেন। ট্রাকের ওপর লাল গেঞ্জি পরা একজন ব্যক্তি বসেছিলেন। ট্রাকটির সামনে দুটি মোটরসাইকেলে কয়েকজনকে পাহারা দিতে দেখা যায় বলেও তিনি জানান।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার রাতে জানকিছড়া ক্যাম্পের ফটকে বন প্রহরী বাবুল এবং সিপিজি সদস্য বিজয় বাউরি দায়িত্বে ছিলেন। অন্যদিকে, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের প্রধান ফটকে বিট কর্মকর্তা একটি টহল পুলিশের দল নিয়ে ভোর সাড়ে ৫টা পর্যন্ত অবস্থান করছিলেন। ফলে প্রশ্ন উঠছে—একদিকে ক্যাম্পে পাহারা, অন্যদিকে পুলিশের টহল; এর মাঝেও কীভাবে সড়কের পাশের বিশাল গাছটি কেটে নিরাপদে পরিবহন করা হলো?
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের মৌলভীবাজার রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী নাজমুল হক বলেন, ‘মৃত সেগুনগাছ চুরির খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন তিনি। চুরি হওয়া কাঠ উদ্ধার ও জড়িতদের শনাক্তে অভিযান চলছে। বন বিভাগের কেউ জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর আইনগত ও দাপ্তরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ভারপ্রাপ্ত সহকারী বন সংরক্ষক মীর্জা মেহেদী সারোয়ার জানান, ‘ঘটনাটি জানার পর তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। গাছ চুরি বা পাচারের সঙ্গে কোনো স্টাফ বা কর্মচারীর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে কিংবা অপরাধীদের শনাক্ত করা গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তের পরই বিস্তারিত জানা যাবে।’
লাউয়াছড়া জীববৈচিত্র্য রক্ষা আন্দোলনের আহ্বায়ক জলি পাল মন্তব্য করেন, ‘জাতীয় উদ্যান থেকে মাঝে মাঝে গাছ কেটে নেওয়ার ঘটনা শোনা যায়। এভাবে গাছ কমতে থাকলে বনের জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণী হুমকির মুখে পড়বে। পাহারা থাকার পরও কীভাবে বড় গাছ চুরি হচ্ছে, তা খুঁজে বের করা দরকার।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন