০২:৪১ পি.এম
ফিলিপাইনে জনসাধারণের জন্য একটি অশান্ত সময় চলছে। ক’বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় টাইফুনটি শুক্রবারের দিকে ফিলিপাইনের অঞ্চলের দিকে ধেয়ে আসার কারণে ভূমিধসে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া তাইওয়ানে শত শত মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।
টাইফুন 'বাভি' আজ শুক্রবার এবং শনিবার তাইওয়ানের উত্তর ও পূর্ব এবং জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিম দ্বীপপুঞ্জে প্রবলভাবে আঘাত হানার পর চীনের ওপর আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বাভির প্রভাবে সৃষ্ট ভারি বৃষ্টিপাতের ফলে ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ মিন্দানাওতে ভূমিধসে অন্তত পাঁচজন মারা গেছে এবং আরো ছয়জন নিখোঁজ রয়েছেন। এই শক্তিশালী টাইফুন 'বাভি'র কারণে তাইওয়ানের বন্দরনগরী কিলুংয়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা খাদ্য মজুত করছেন, জানালায় টেপ লাগাচ্ছেন এবং দোকানের সামনে বালির ব্যাগ রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা দৃঢ় করছেন।
কিলুংয়ের ৭৬ বছর বয়সী মুদি দোকান মালিক চ্যাং শি-হুও বলেন যে, টাইফুনটি খুব শক্তিশালী হবে বলে জানানো হয়েছে। এজন্য তারা ইনস্ট্যান্ট নুডলস, রুটি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাবার প্রতিষেধক হিসেবে মজুত করছেন। আবহাওয়া পরিস্থিতি যখন আরও খারাপ হতে পারে, তখন দোকান বন্ধ করে দেবেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: জানাজা থেকে ফেরার পথে গ্রেপ্তার ইউপি চেয়ারম্যান, অসন্তোষ জানালেন প্রতিমন্ত্রী
গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানাসে সুপার টাইফুন হিসেবে ধাক্কা খাওয়ার পর প্রশান্ত মহাসাগর পার করার সময় বাভির শক্তি কিছুটা কমেছে। তাইওয়ানের সেন্ট্রাল ওয়েদার অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (সিডব্লিউএ) জানাচ্ছে, শুক্রবার টাইফুনটির সর্বাধিক স্থায়ী বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৬২ কিলোমিটার, এবং দমকা হাওয়ার গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৯৮ কিলোমিটার।
আবহাওয়াবিদ ওয়াং পিং-হসিয়াং বলেন, অনুকূল পরিবেশের অভাবে টাইফুনটি কিছুটা দুর্বল হতে পারে, তবে তাইপে, নিউ তাইপেই, কিলুং ও ইলান এলাকার ওপর এর সবচেয়ে গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে। এছাড়া, মধ্য ও উত্তর তাইওয়ানের পার্বত্য অঞ্চলে ভারি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুসারে, বাভির শক্তিশালী বাতাসের বিস্তৃতি প্রায় ৩৮০ কিলোমিটার। ফলস্বরূপ, এটি গত ৩০ বছরেরও বেশি সময়ে তাইওয়ানে আঘাত হানা সবচেয়ে বড় টাইফুনগুলোর একটি হতে পারে।
টাইফুন 'বাভি'র প্রভাবে শুক্রবার রাজধানী তাইপেইসহ উত্তর ও পূর্ব তাইওয়ানের অনেক স্কুল, অফিস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হাজার হাজার অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। কিলুং শহরের মানুষ প্রয়োজনীয় ফল ও সবজি কেনার জন্য বাজারে ভিড় করছেন। রাস্তার দোকানিরা তাদের দোকানকে সুরক্ষিত করার জন্য কাজ করছেন।
কিলুংয়ের রেস্তোরাঁ মালিক পেনি প্যান বলছেন, গত ১০ বছরে তারা এমন পরিস্থিতি দেখেননি। এদিকে, ঝড়ের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিংতে।
আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা হলো যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরি ‘থিওডোর রুজভেল্ট’
তবে, তাইওয়ানের বিভিন্ন এলাকায় ১ মিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি বেড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে এক হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই পূর্বাঞ্চলের পার্বত্য হুয়ালিয়েন কাউন্টির বাসিন্দা। সেখানে দুটি বাঁধে সার্বক্ষণিক নজর রাখছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, চীনের দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে চলতি সপ্তাহের বৈরী আবহওয়া ইতোমধ্যেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সৃষ্টি করেছে। ঝড় এবং বন্যায় অন্তত ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, এবং অনেক নদী উপচে পড়েছে। বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস মেরিন সার্ভিস জানিয়েছে, এবছর মহাসাগরগুলোতে ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ জুন মাস রেকর্ড করা হয়েছে।
সমুদ্রের তাপমাত্রা বেশি থাকার কারণে ক্রান্তীয় ঝড়ের শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং বাতাসের আর্দ্রতা বাড়িয়ে দেয়, ফলে ঝড়ের সময় ভারী বৃষ্টিপাতের ঝুঁকি বাড়ে। তাই, এল নিনো নামক প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনাও আবার ফিরে এসেছে, যা সাধরণত দুই থেকে সাত বছর পরপর ঘটে।
আরও পড়ুন: ডেমোক্র্যাটদের নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধ, চাক শুমারের চাপে বৃদ্ধি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন