০৫:১৬ পি.এম
মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য ভয়াবহ যুদ্ধ এড়াতে মার্কিন প্রশাসনকে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে বার্তা পাঠানো হয়েছিল। নতুন করে ইরানে হামলা না চালাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান জোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। সম্প্রতি এক ফোনালাপে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে এই অনুরোধ জানান যুবরাজ। এরপরই ট্রাম্পও দ্রুত হামলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন।
সৌদি আরবের চিন্তা হল যে, ইরানে যেকোনো বড় ধরনের মার্কিন বা ইসরায়েলি হামলা পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। এটি দেশটির অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র ভিশন ২০৩০ প্রকল্পের জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
ঘটনার শুরু হয়েছে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং বাব-এল-মান্দেব ও হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচলে বাধা সৃষ্টিকে কেন্দ্র করে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র জানতে পেরেছে যে, ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু সৌদি রিয়াদের মনে হচ্ছে, এই মুহূর্তে নতুন কোনো সামরিক অভিযান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।
আরও পড়ুন: ডান পাশে বালুচোর-বাম পাশে মামলাবাজ নিয়ে রাজনীতি করতে চাই না: রুমিন ফারহানা
এদিকে, তেহরান ইতোমধ্যেই সতর্ক করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল যদি নতুন আক্রমণ চালায়, তাহলে তারা ইসরায়েলসহ অন্য অঞ্চলের দেশের জ্বালানি ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত করবে। সাথে আরো, যদি মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশ মার্কিন হামলায় সহায়তা করে, তাহলে তাদেরকেও ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
সৌদি বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাথে লড়াইয়ের মাধ্যমে রিয়াদ একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে বুঝতে পেরেছে যে, কেবল সামরিক শক্তি ব্যবহার করে সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। আর এ কারণেই নতুন করে সামরিক সংঘাতের দিকে না গিয়ে কূটনীতির মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পক্ষে মত দিচ্ছে সৌদি আরব। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক তেলের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে কাতার, ওমানসহ প্রতিবেশী অন্যান্য দেশগুলোও এখন জোর তৎপরতা চালাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন