প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটে ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশিদের প্রতি শোক প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে ক্ষমা চেয়ে বলেন যে, কলকাতার বাংলাদেশি হোটেলপাড়া আরও নিরাপদ করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থতার কারণে একের পর এক আবাসিক হোটেল ও লজ বন্ধ করার কাজে রয়েছেন প্রশাসন। এ ক্ষেত্রে গ্রেফতার হয়েছেন শিখা ইনের মূল মালিক বীরেশ্বর মিত্র।
চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভারতে এসে এখন নিথর দেহে নিজেদের দেশে ফিরেছেন বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি। তাঁদের মৃত্যুর কারণ অগ্নিদগ্ধ হওয়া নয়, বরং অবৈধ আবাসিক হোটেলের দরজা খুলে বের হতে না পারার কারণে দম বন্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ভয়াবহ ঘটনার কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার ব্যবসায়ীরা।
শনিবার (২২ আগস্ট) সন্ধ্যায় মার্কুইস স্ট্রিটে নিহত সাত বাংলাদেশিসহ মোট নয়জনের আত্মার শান্তি কামনায় একটি স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। এই স্মরণসভায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ বাসিন্দারা অংশ গ্রহণ করেন। স্মরণসভায় নিজেদের ভুলত্রুটি স্বীকার করেছেন অনেকে এবং ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সেই লক্ষ্যে তাঁরা সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা মনতোষ সাহা বলেছেন, “আমি একজন বাংলাদেশি ছিলাম। বাংলাদেশি ভাইদের এভাবে চলে যেতে হবে, তা কখনও ভাবিনি।”
শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা হায়দার আলী খান মন্তব্য করেছেন, “বাংলাদেশের ভাই-বোনদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি। ঘটনাটি ইচ্ছাকৃতভাবে ঘটেনি। এত মানুষের প্রাণহানিতে আমরা খুবই দুঃখিত। ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে, সে চেষ্টা করা হবে।”
এদিকে, শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া প্রশাসনের অভিযানের কাজ শনিবারেও অব্যাহত ছিল। দুই দিনে প্রায় ১৬টি আবাসিক হোটেল বন্ধ করা হয়েছে এবং ৫০টির বেশি হোটেলকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার দুপুরে মার্কুইস স্ট্রিট, মির্জা গালিব স্ট্রিট, রফি আহমেদ কিদওয়াই রোডসহ নিউমার্কেট এলাকার বিভিন্ন রাস্তা ও গলিতে আকস্মিক পরিদর্শন করেন রাজ্যের নগর ও পৌর উন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি বলেছেন যে, গেস্ট হাউসগুলো সিল করে দেওয়া হচ্ছে। এসব হোটেলে একেকটিতে রয়েছে পাঁচ-ছয়টি থেকে শুরু করে ১০টি পর্যন্ত কক্ষ।
শিখা ইন আবাসিক লজের প্রকৃত মালিক বীরেশ্বর মিত্রকে শনিবার বিকেলে দক্ষিণ কলকাতার বেহালায় তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এর আগে হোটেলটির লিজগ্রহীতা আবু জাফরকেও গ্রেফতার করা হয়। তাঁর সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন