প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ ২০২৪ সালে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ মৎস্যচাষী দেশের মধ্যে একটি অবস্থান করে নিয়েছে। একইসঙ্গে, অভ্যন্তরীণ উন্মুক্ত জলাশয়ের মৎস্য আহরণে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎপাদনকারী দেশের হিসেবে ধরে রেখেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ বিষয়টি প্রকাশিত হয়েছে।
‘দ্য স্টেট অব ওয়ার্ল্ড ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বে মৎস্য ও মৎস্যচাষ খাতে মোট উৎপাদন একটি নতুন রেকর্ড স্থাপন করে ২৩ কোটি ৫০ লাখ টনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে জলজ প্রাণীর উৎপাদন ছিল ১৯ কোটি ৫০ লাখ টন এবং শৈবালের উৎপাদন ৪ কোটি টন। ২০২২ সালের তুলনায় মোট উৎপাদন ৫.২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ উৎপাদনের প্রাথমিক বিক্রয়মূল্য প্রায় ৫৬ হাজার ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার হিসেবে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনটি আরও জানাচ্ছে, মোট উৎপাদনের ৬৭ শতাংশ এসেছে সামুদ্রিক জলসীমা থেকে। এর ৫১ শতাংশ উন্মুক্ত জলাশয়ের মৎস্য আহরণ থেকে আসছে এবং ৪৯ শতাংশ মৎস্যচাষ থেকে অর্জিত হয়েছে। বাকি ৩৩ শতাংশ উৎপাদন হয়েছে অভ্যন্তরীণ জলাশয়ে, যেখানে ৮৪ শতাংশই মৎস্যচাষ থেকে এসেছে।
বিশ্বের মৎস্য ও জলজ চাষ উৎপাদনে এখনও শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে এশিয়া। এশিয়া অঞ্চলে বৈশ্বিক উৎপাদনের ৭৬ শতাংশ আসে। লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল ৮ শতাংশ, ইউরোপ ৭ শতাংশ, আফ্রিকা ৬ শতাংশ, উত্তর আমেরিকা ২ শতাংশ এবং ওশেনিয়া ১ শতাংশ অনুযায়ী দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্থানের অবস্থান রাখা হয়েছে।
২০২৪ সালে জলজ প্রাণীর উৎপাদন সর্বকালের সর্বোচ্চ ১৯ কোটি ৫০ লাখ টনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ৫৩ শতাংশ মৎস্যচাষ থেকে এসেছে এবং ৪৭ শতাংশ উন্মুক্ত জলাশয়ের মৎস্য আহরণ থেকে এসেছে। এই উৎপাদনের প্রাথমিক বিক্রয়মূল্য প্রায় ৫৪ হাজার ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মোট জলজ প্রাণী উৎপাদনের ৬১ শতাংশ বা ১১ কোটি ৮০ লাখ টন এসেছে সামুদ্রিক অঞ্চল থেকে। বাকি ৩৯ শতাংশ বা ৭ কোটি ৭০ লাখ টন এসেছে অভ্যন্তরীণ জলাশয় থেকে।
অভ্যন্তরীণ উন্মুক্ত জলাশয়ের মৎস্য আহরণে ২০২৪ সালে শীর্ষস্থানে অবস্থান করছে ভারত, যেখানে উৎপাদন ২২ লাখ টন। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ, যার উৎপাদন ১৪ লাখ টন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হচ্ছে, ২০২৪ সালে বিশ্বে মৎস্যচাষ খাতে উৎপাদন একটি নতুন রেকর্ড তৈরি করে ১৪ কোটি ২০ লাখ টনে পৌঁছেছে। এর আনুমানিক মূল্য ৩৯ হাজার ১০০ কোটি মার্কিন ডলার। মোট উৎপাদনের মধ্যে জলজ প্রাণী ১০ কোটি ৩০ লাখ টন, যার মূল্য প্রায় ৩৭ হাজার ১০০ কোটি মার্কিন ডলার। শৈবাল উৎপাদন ছিল ৩ কোটি ৯০ লাখ টন, যার মূল্য প্রায় ২ হাজার কোটি মার্কিন ডলার।
বিশ্বের মোট মৎস্য উৎপাদনের ৯২ শতাংশই হওয়ার কারণে এশিয়াকে কেন্দ্র করে এবং পরবর্তীতে আছে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল, ইউরোপ, আফ্রিকা, উত্তর আমেরিকা এবং ওশেনিয়া।
বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ মৎস্যচাষী দেশ হল- চীন, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, ভিয়েতনাম ও বাংলাদেশ। এই পাঁচটি দেশ মিলে বিশ্বের ৮৪ শতাংশ মাছ উৎপাদন করছে।
২০২৪ সালে জলজ প্রাণীর চাষও রেকর্ড ১০ কোটি ৩০ লাখ টনে পৌঁছেছে, যা বোঝা যাচ্ছে বৈশ্বিক জলজ খাদ্যের চাহিদা মেটাতে এই খাতের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার বিষয়টিই প্রমাণ করে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মাছ উৎপাদনে শীর্ষ দেশ চীন, যা বৈশ্বিক উৎপাদনের ৫৬ শতাংশের জোগান দিয়েছে। পরবর্তীতে রয়েছে ভারত ১২ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়া ৬ শতাংশ, ভিয়েতনাম ৫ শতাংশ এবং বাংলাদেশ ৩ শতাংশ। এই পাঁচ দেশ মিলিতভাবে মৎস্য উৎপাদনের ৮২ শতাংশ সরবরাহ করেছে।
মৎস্যচাষে উৎপাদিত জলজ প্রাণীর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের অধিক অভ্যন্তরীণ জলাশয়ে চাষ করা হয়েছে, যার মধ্যে ৮৯ শতাংশ পাখনাযুক্ত মাছ। ৯ শতাংশ ছিল খোলসযুক্ত জলজ প্রাণী এবং বাকি অংশ জলজ কচ্ছপ, ব্যাঙ, মোলাস্ক ও অন্যান্য অমেরুদণ্ডী প্রাণীদের অন্তর্ভুক্ত।
সামুদ্রিক এবং উপকূলীয় মৎস্যচাষে ২০২৪ সালে ৩ কোটি ৮০ লাখ টন জলজ প্রাণী উৎপাদিত হয়েছে। এর মধ্যে ৫৩ শতাংশ মোলাস্ক, ২৪ শতাংশ পাখনাযুক্ত মাছ, ২২ শতাংশ খোলসযুক্ত জলজ প্রাণী এবং ২ শতাংশ অন্যান্য সামুদ্রিক অমেরুদণ্ডী প্রাণী উত্পন্ন হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন