প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
‘রুপালি গিটার’, ‘নীল বেদনা’, ‘মাধবী’, ‘সেই তুমি’, ‘কষ্ট পেতে ভালোবাসি’— আইয়ুব বাচ্চুর গাওয়া এসব জনপ্রিয় গান এবার নতুন সংগীতায়োজনে শোনা যাবে। বিশেষ অ্যালবাম ‘উত্তরাধিকার’ তৈরি করছেন দেশের আটটি ব্যান্ড ও বারোজন শিল্পী। রোববার (১৬ আগস্ট) আইয়ুব বাচ্চুর জন্মদিনে একযোগে মুক্তি পাবে ডাবল সিডি ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অ্যালবামটি। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ ব্যয় হবে আইয়ুব বাচ্চু মিউজিয়াম নির্মাণের কাজে।
অ্যালবামের গানগুলোর কণ্ঠ দিয়েছে দলছুট, আরবোভাইরাস, সোনার বাংলা সার্কাস, শুভযাত্রা, ক্যালিপসো, রকসল্ট, ডোপামিন ও এ কে রাহুল। দলছুট গেয়েছে ‘রুপালি গিটার’, আরবোভাইরাস পরিবেশন করেছে ‘নীল বেদনা’, সোনার বাংলা সার্কাস গেয়েছে ‘গতকাল রাতে’, শুভযাত্রা পরিবেশন করেছে ‘চলো বদলে যাই’, ক্যালিপসো গেয়েছে ‘চাঁদ মামা’, রকসল্ট গেয়েছে ‘অচেনা জীবন’, ডোপামিন গেয়েছে ‘মাধবী’ আর এ কে রাহুল গেয়েছে ‘মন চাইলে মন’। একক শিল্পীদের তালিকায় বাবনা করিম ও রাসেল আলী গেয়েছেন ‘হাসতে দেখো’, রোমেল আলী গেয়েছে ‘এখন অনেক রাত’, চন্দন জামান আলী-মেনন গেয়েছেন ‘মেয়ে’, কানিজ সুবর্ণা ও সাজ্জাদ গেয়েছেন ‘কষ্ট পেতে ভালোবাসি’। এছাড়া পলাশের ‘আপন কেহ নাই’, জয় শাহরিয়ারের ‘কষ্ট কাকে বলে’, অদিতের ‘ঘুমন্ত শহরে’, বখতিয়ার হোসেনের ‘রাতের তারা’, আতিকা ইয়ামিনের ‘ফেরারি এই মন’, অটামনাল মুনের ‘হকার’, কনক আচার্য্যের ‘নীরবে’ এবং তওফিক-এবি-মেননের গাওয়া ‘বাংলাদেশ’ গানটি এই অ্যালবামে স্থান পেয়েছে। পুরো প্রকল্পের গানগুলোর মাস্টারিং করেছেন ইকবাল আসিফ জুয়েল।
শুভযাত্রা ব্যান্ডের ভোকাল শুভ জানিয়েছেন, আইয়ুব বাচ্চুর গান নতুন করে গাওয়া সহজ কাজ নয়। ‘চলো বদলে যাই’ এই অ্যালবামে তাঁরা পরিবেশন করেছেন। শুভ বলেন, ‘সত্যি বলতে, এটা একটা ইমোশনাল জার্নি। বাচ্চু ভাইয়ের গান সহজে কাভার করা যায় না, কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে জানালেও কিছুটা ভয় লাগছিল। চন্দনা ভাবী বললেন, “চলো বদলে যাই” গানটা তুমি ভালো করবে। এরপর আমরা কাজ শুরু করলাম। টানা পাঁচ দিনে গানটি নতুন সংগীতায়োজনে তৈরি করেছি। জানি না শ্রোতাদের কেমন লাগবে, তবে আমাদের প্রচেষ্টা ছিল সম্পূর্ণ।’
আইয়ুব বাচ্চুর গিটারপ্রেম সম্পর্কে ভক্তদের জানা রয়েছে। তিনি অস্ট্রিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্র, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নামী ব্র্যান্ডের গিটার সংগ্রহ করেছিলেন। ‘ফেন্ডার স্ট্রাটোকাস্টার’, আইভানেজের ‘জেম সেভেনটি সেভেন’-সহ প্রায় পঞ্চাশটি গিটার নিয়ে মিউজিয়াম গড়ার পরিকল্পনা করেছে তাঁর পরিবার ও আইয়ুব বাচ্চু ফাউন্ডেশন। বর্তমানে ওই গিটারগুলো মগবাজারের বাসায় সংরক্ষিত রয়েছে। গিটারগুলোর সংরক্ষণ নিয়ে আইয়ুব বাচ্চুর স্ত্রী ও ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ফেরদৌস আক্তার বলেন, ‘যে তাপমাত্রায় রাখা হলে গিটারগুলো ঠিক থাকবে, আমরা সেভাবেই রেখেছি। আইয়ুব বাচ্চুর গিটার তাঁর আরেকটি অস্তিত্বের অংশ। সেটি যত্নে রাখার জন্য যা যা করণীয়, করে যাচ্ছি। যত দিন মিউজিয়াম বা মিউজিক্যাল লাউঞ্জ করতে না পারি, তত দিন এভাবেই যত্নে রাখব।’ তিন বছর আগে পরিবারের উদ্যোগে আইয়ুব বাচ্চুর কয়েকটি গিটার নিয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রামে দুটি প্রদর্শনীও অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
প্রায় আট বছর ধরে আইয়ুব বাচ্চুর গিটার, এবি কিচেনের যন্ত্রপাতি, ব্যবহৃত ক্যাপ ও টি-শার্টসহ নানা স্মারক নিয়ে মিউজিয়াম গড়ার স্বপ্ন দেখছে তাঁর পরিবার। ২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর ৫৬ বছর বয়সে মারা যান আইয়ুব বাচ্চু। তাঁর চলে যাওয়ার পরও গান, গিটারবাদন ও সৃষ্টির মধ্য দিয়ে ভক্তদের কাছে তিনি আজও সমান প্রাসঙ্গিক। শিল্পীর স্বপ্ন পূরণে ২০২০ সাল থেকে কাজ করে আসছে আইয়ুব বাচ্চু ফাউন্ডেশন, যেটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হয় গত বছরের ৯ জুলাই। ফেরদৌস আক্তার এর আগে প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ‘বাচ্চুর স্বপ্ন পূরণ করতে পারলেই আমি নিজেকে সার্থক মনে করব। চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কবে তা পূরণ হবে, এখনো বুঝতে পারছি না। কারণ যে স্বপ্ন আইয়ুব বাচ্চু দেখেছেন, তা পূরণে পৃষ্ঠপোষকতা খুব জরুরি।’
এবার সেই স্বপ্ন পূরণের পথেই নেওয়া হয়েছে ‘উত্তরাধিকার’ প্রকল্প। প্রকল্পের সমন্বয়ক চিশতি ইকবাল জানান, কিছুদিন আগে ফেরদৌস আক্তার ফোন করে জন্মদিনে বিশেষ কিছু করার ইচ্ছার কথা জানান। এরপর আলোচনা করে ঠিক করা হয় আইয়ুব বাচ্চুর গাওয়া কয়েকটি গান নতুন সংগীতায়োজনে প্রকাশ করা হবে। শেষ পর্যন্ত বিশটি গান নিয়ে দাঁড়ায় পূর্ণাঙ্গ অ্যালবাম ‘উত্তরাধিকার’।
রোববার (১৬ আগস্ট) বেলা তিনটায় অ্যালবামটি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরবেন ফেরদৌস আক্তার। একইদিন প্রকাশিত হবে ডাবল সিডি অ্যালবামটি, পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও মুক্তি পাবে গানগুলো। প্রকল্পটির মিডিয়া পার্টনার হিসেবে রয়েছে দ্য ডেইলি স্টার।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন