প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
এনায়েতুল্লাহ ইসলামিয়া সিনিয়র (ফাজিল) মাদ্রাসার গভর্নিং বডি গঠনের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, যা তদন্তের দাবি করেছে সংশ্লিষ্টরা। গতকাল মঙ্গলবার চাটমোহর উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় এই দাবি উত্থাপন করা হয়। অভিযোগ করা হয়েছে যে, গভর্নিং বডি গঠনের প্রক্রিয়া অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। নিয়মতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত অভিভাবক প্রতিনিধি ও শিক্ষক প্রতিনিধিদের বাদ দিয়ে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ আবু ইসহাক গোপনে গভর্নিং বডি অনুমোদন করেছেন বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। এই গভর্নিং বডির গঠন নিয়ে তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) চাটমোহর উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় এই তদন্তের দাবি করা হয়। চাটমোহর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোঃ মোখলেসুর রহমান বিদ্যুৎ, চাটমোহর পৌর বিএনপির সভাপতি আসাদুজ্জামান আরশেদ, চাটমোহর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আঃ রহিম কালু, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মোঃ জিয়ারুল হক সিন্টুসহ অন্যান্যরা এই দাবি উপস্থাপন করেন। সভার সভাপতির দায়িত্ব পালনকারী সহকারি কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল মাহমুদ এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানান।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, গভর্নিং বডিতে যাদের অভিভাবক প্রতিনিধি ও শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তারা কেউই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি এবং নির্বাচিতও হননি। শুধু তাই নয়, গভর্নিং বডির কোনো সভা ছাড়াই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ আবু ইসহাক একজনকে সহ-সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত দেখিয়েছেন। নিয়মতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত ৩ জন অভিভাবক প্রতিনিধি ও ৩ জন শিক্ষক প্রতিনিধি বাদ দিয়ে এই গভর্নিং বডি অনুমোদন করা হয়েছে। গোপনে অনুমোদিত গভর্নিং বডির বিষয়টি জানাজানি হলে চাটমোহরে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। দাবি উঠেছে কথিত এই গভর্নিং বডি বাতিলের। এরই মধ্যে গত শনিবার গভর্নিং বডির সভা আহ্বান করা হয়, যা মাদ্রাসায় না করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু ইসহাক তার বাড়িতে গোপনে সম্পন্ন করেন বলে জানা গেছে। এদিকে, গভর্নিং বডিকে অবৈধ দাবি করে গভর্নিং বডির দাতা সদস্য ও চাটমোহর পৌর বিএনপির সভাপতি মোঃ আসাদুজ্জামান আরশেদ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, মাদ্রাসায় নিয়ম বহির্ভুতভাবে গভর্নিং বডি গঠিত হয়েছে। কোনো সভা ছাড়াই সহ-সভাপতি নির্বাচিত করা হয়েছে। যাদের নির্বাচনের মাধ্যমে অভিভাবক প্রতিনিধি ও শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন, তাদেরকে গভর্নিং বডিতে রাখা হয়নি। এটি একটি বড় ধরণের জালিয়াতি ও অনিয়ম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যাদের রাখা হয়েছে, তারা কোনো নির্বাচনের মাধ্যমে আসেননি। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কাউকে না জানিয়ে চরম স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে নিজের ইচ্ছেমতো অভিভাবক ও শিক্ষক প্রতিনিধি তৈরি করে গভর্নিং বডি অনুমোদন করিয়েছেন।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ আবু ইসহাকের সাথে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ শফিউল ইসলাম জানান, তিনি গভর্নিং বডি গঠনের বিষয়টি জানেন না। দাতা সদস্যের অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তার নজরে এসেছে। তিনি বলেন, "আমি প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগ পাওয়ার পর নিয়মতান্ত্রিকভাবে অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচন করে নির্বাচিতদের তালিকা প্রকাশ করেছি। তারা কেন, কিভাবে বাদ যায়, সেটা আমার বোধগম্য নয়।" চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুসা নাসের চৌধুরী জানান, অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন