প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎসের নেতৃত্বাধীন মধ্য-ডানপন্থী ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটস (সিডিইউ) দল আসন্ন আঞ্চলিক নির্বাচনকে সামনে রেখে উগ্র ডান ও বামপন্থীদের চাপের মুখে রয়েছে। শুক্রবার প্রকাশিত একটি নতুন জনমত জরিপে এই পরিস্থিতি প্রতিফলিত হয়েছে।
আগামী ২০ সেপ্টেম্বর দুটি আঞ্চলিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে পূর্বাঞ্চলীয় স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যে মের্ৎসের সিডিইউ একটি বড় ধরনের বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে। সেখানে উগ্র ডানপন্থী অলটারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) ৪৪ শতাংশ ভোট পেয়ে বিশাল জয় লাভ করেছে। ১৯৪৫ সালের পর এটি কোনো জাতীয়তাবাদী দলের জন্য সর্বোচ্চ ভোটের হার। বার্লিন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য জানিয়েছে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মেকলেনবুর্গ-ভোরপোমার্ন রাজ্যে সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম জেডডিএফের নতুন জরিপে দেখা গেছে, মের্ৎসের সিডিইউ মাত্র ৭ শতাংশ সমর্থন অর্জন করেছে।
এটি দেশটির কোনো আঞ্চলিক নির্বাচনে সিডিইউর ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ ফলাফল হতে পারে। এমনকি রাজ্য পার্লামেন্টে আসন পেতে প্রয়োজনীয় ৫ শতাংশ ভোটের সীমার নিচে সিডিইউ নেমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।
জরিপে ৩৭ শতাংশ সমর্থন নিয়ে এগিয়ে রয়েছে এএফডি। তাদের খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে মধ্য-বামপন্থী সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটস (এসপিডি), যাদের সমর্থন ৩৪ শতাংশ। বর্তমানে রাজ্যটিতে এসপিডি সরকার পরিচালনা করছে।
জাতীয় পর্যায়ে এসপিডি মার্জের নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের ছোট অংশীদার। গত দুই বছরে দলটি নির্বাচনে একের পর এক বড় ধাক্কা খেয়েছে এবং মেকলেনবুর্গ-ভোরপোমার্নকে নিজেদের ঐতিহাসিক ঘাঁটিগুলোর একটি ধরে রাখতে চাচ্ছে।
জরিপের ফল অনুযায়ী, ১০ শতাংশ সমর্থন নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে উগ্র বামপন্থী ডি লিংকে। বর্তমানে রাজ্য সরকারের এসপিডির ছোট জোটসঙ্গী হিসেবে রয়েছে দলটি।
যদি জরিপের ফল ভোটের দিনেও একই থাকে, তাহলে এসপিডি, ডি লিংকে ও গ্রিনসের মধ্যে তিনদলীয় জোট গঠনের সম্ভাবনা বেশি। কারণ এএফডির সম্ভাব্য কোনো জোটসঙ্গী নেই।
দেশটির প্রায় সব রাজনৈতিক দলই এএফডির সঙ্গে কোনো ধরনের সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। বর্ণবাদ এবং নব্য-নাৎসিদের সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগে উগ্র ডানপন্থী দলটিকে রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ বলেই বিবেচনা করা হয়।
বার্লিনে মেয়র পদে লড়াইও এখনো হাড্ডাহাড্ডি। বর্তমানে সিডিইউ ও এসপিডির জোট সেখানে সরকার পরিচালনা করছে। জাতীয় সরকারের মতোই সেখানে এই দুই দলের জোট রয়েছে। তবে মের্ৎসের সিডিইউর সমর্থন কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জেডডিএফের জরিপে ২৩ শতাংশ সমর্থন নিয়ে ডি লিংকে সামান্য ব্যবধানে সিডিইউর চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। সিডিইউ পেয়েছে ২১ শতাংশ সমর্থন।
এরপর রয়েছে এএফডি ১৭ শতাংশ, গ্রিনস ১৬ শতাংশ এবং এসপিডি ১০ শতাংশ।
মের্ৎসের রক্ষণশীলরা সাধারণত ডি লিংকেকে খুব অপছন্দ করে। দলটি আংশিকভাবে সাবেক কমিউনিস্ট পূর্ব জার্মানির শাসক দলের অবশিষ্ট অংশ থেকে গড়ে উঠেছে।
মেকলেনবুর্গ-ভোরপোমার্নের মতো বার্লিনের জরিপের ফলও ডি লিংকে, গ্রিনস ও এসপিডির বামপন্থী জোটকেই সবচেয়ে সম্ভাব্য সরকার গঠনের ব্যবস্থা হিসেবে দেখাচ্ছে।
মের্ৎসের জন্য এটি একটি বড় ধরনের ধাক্কা হতে পারে। ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার অনুমোদন ইতোমধ্যেই রেকর্ড নিম্নস্তরের কাছাকাছি অবস্থান করছে। মেকলেনবুর্গে উগ্র ডানপন্থীদের জয় এবং বার্লিনে উগ্র বামপন্থীদের জয় পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলবে।
মের্ৎসের নিজ দলই তাকে সরিয়ে দিতে পারে—বার্লিনে এমন আলোচনা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। সংস্কার কর্মসূচি নিয়ে জোটের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে জর্জরিত এই চ্যান্সেলর নানা ভুল বক্তব্যের কারণে প্রায়ই সমালোচনার মুখে পড়ছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন