প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
অটোমেটিক রাইস মিল ব্যবসায়ী মো. ওসমান গনি আদালতের মাধ্যমে নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করেছেন, কারণ পাওনাদারদের সঙ্গে আর্থিক দাবি নিষ্পত্তির কোনো সম্ভাব্য উপায় খুঁজে পাননি। মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীদের মোট ২৫২ কোটি ২৪ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে।
ঢাকার দেউলিয়াবিষয়ক আদালতের বিচারক মো. শহীদুল ইসলাম সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ওসমান গনিকে দেউলিয়া ঘোষণা করে রায় প্রদান করেন। এই রায় তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দেওয়া হয়।
মামলায় ২৬৭ জনকে বিবাদী করা হয়েছিল। আইনজীবী মো. রুহুল আমিন ৭২ জন বিবাদীর পক্ষে বলেন, ওসমান গনি ঋণ ও ব্যক্তিগত বিনিয়োগের জন্য অর্থ গ্রহণ করেছিলেন বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ক্ষুদ্র চাল ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে। কিন্তু পরবর্তীতে সেই অর্থ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় তিনি দেউলিয়া ঘোষণা করার আবেদন করেন।
রায়ের পর মো. রুহুল আমিন মন্তব্য করেন, ‘এই রায়ের ফলে বিবাদীরা মারাত্মকভাবে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। আমরা এই আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাব।’ তিনি জানান, এ ধরনের রায় ভবিষ্যতে অনেক ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করার সুযোগ দিতে পারে, যা সমাজে নেতিবাচক নজির সৃষ্টি করবে।
জানা যায়, ২০২৪ সালের ৩০ জানুয়ারি ওসমান গনি দেউলিয়াবিষয়ক আইনের ১০ ধারায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ২৬৭ জনকে বিবাদী করা হয়।
মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পাওনাদারদের সঙ্গে সমঝোতা বা অন্য কোনো সম্ভাব্য সমাধানের পথ খুঁজে না পেয়ে বাধ্য হয়ে তিনি নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণার আবেদন করেছেন।
মামলায় ১ থেকে ৭ নম্বর বিবাদী হিসেবে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি ঋণ বা বিনিয়োগ সুবিধা গ্রহণ করেছিলেন বলে আরজিতে উল্লেখ করা হয়। আর ৮ থেকে ২৬৭ নম্বর বিবাদী হিসেবে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রোপ্রাইটরশিপ প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে। তাদের সঙ্গে ওসমান গনির দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক লেনদেন ছিল।
আরজিতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ ও বিনিয়োগ সুবিধা নিয়ে ওসমান গনি তার মালিকানাধীন তিনটি অটোমেটিক রাইস মিল স্থাপন ও পরিচালনা করেন। ব্যবসা শুরু করার পর নিয়মিত ঋণের কিস্তি ও অন্যান্য অর্থ পরিশোধ করতেন বলেও তিনি দাবি করেন।
তবে পরবর্তী সময়ে একই এলাকায় আরো একাধিক অটোমেটিক রাইস মিল গড়ে ওঠার কারণে শিল্পটি ধীরে ধীরে ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। চাল উৎপাদনের সার্বিক ব্যয় চালের বিক্রয়মূল্যের চেয়ে বেড়ে যাওয়ায় চালকল মালিকরা বড় ধরনের ব্যবসায়িক ক্ষতির সম্মুখীন হন।
এই পরিস্থিতিতে ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ওসমান গনি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের পাওনা অর্থ পরিশোধ করতে পারেননি বলে মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন