প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
স্বামী নেই, সন্তান নেই। নেই নিজের কোনো ঘর কিংবা নিরাপদ আশ্রয়। অসুস্থ শরীর নিয়ে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে, ৭৫ বছর বয়সী জহুরা বেগমের ঠিকানা এখন খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের বেতছড়ির একটি জরাজীর্ণ যাত্রীছাউনি। কখনো খাবার জোটে, কখনো জোটে না—চিকিৎসা ও দেখভালেরও নেই স্থায়ী ব্যবস্থা।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একসময় স্বামী-সন্তান নিয়ে সংসার ছিল জহুরার। প্রায় তিন দশক আগে স্বামী মারা যান। এরপর এক ছেলে ও এক মেয়েকেও হারান তিনি। সন্তানদের মৃত্যুর পর একাকী হয়ে পড়েন জহুরা। তখন থেকেই স্বজনদের আশ্রয়ে কোনোভাবে জীবন কাটিয়ে আসছেন তিনি।
গত কয়েক বছরে এক আশ্রয় থেকে আরেক আশ্রয়ে ঘুরেছেন এই বৃদ্ধা। প্রায় দুই বছর আগে বেতছড়ির আলম মিয়ার বাড়িতে আশ্রয় নেন। কিন্তু আলম মিয়া বর্তমানে এলাকায় না থাকায়, সেই আশ্রয়ও আর স্থায়ী হয়নি। অন্য এক স্বজন থাকলেও তিনিও অসুস্থ। ফলে জহুরার দেখভালের দায়িত্ব নেওয়ার মতো কার্যত কেউ নেই।
সম্প্রতি অসুস্থ হয়ে পড়লে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন জহুরা। হাসপাতাল থেকে ফেরার পর, বেতছড়ির এক বাসিন্দার বাড়িতে প্রায় দুই মাস ছিলেন। পরে সেখান থেকেও সরে যেতে হলে, শেষ পর্যন্ত আশ্রয় নেন স্থানীয় একটি পুরোনো যাত্রীছাউনিতে।
সরেজমিনে দেখা যায়, যাত্রীছাউনিটির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। ছাদ ও কাঠামোর বিভিন্ন অংশ জরাজীর্ণ। বৃষ্টি হলে ভেতরে পানি পড়ে। এমন অনিরাপদ পরিবেশেই অসুস্থ শরীর নিয়ে রাত-দিন কাটছে জহুরার।
যাত্রীছাউনির পাশে পড়ে থাকা একটি হুইলচেয়ারও চোখে পড়ে। স্থানীয়রা বলছেন, বয়স ও অসুস্থতার কারণে জহুরার স্বাভাবিক চলাফেরা কঠিন হয়ে পড়েছে। অথচ নিরাপদ একটি ঘর, নিয়মিত খাবার ও চিকিৎসার মতো মৌলিক প্রয়োজনগুলোও তাঁর জীবনে অনিশ্চিত।
স্থানীয় বাসিন্দা সালমান বলেন, “জহুরার নিজের কোনো জায়গা-জমি বা ঘর নেই। বয়সের কারণে তিনি এখন অনেকটাই অসহায়। এভাবে যাত্রীছাউনিতে পড়ে থাকা তাঁর জন্য খুবই কষ্টকর। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিলে অন্তত শেষ বয়সে তিনি নিরাপদে থাকতে পারবেন।”
অসহায় জহুরা বেগম বলেন, “বয়স হয়ে গেছে, শরীরও ভালো না। নিজের বলতে কেউ নেই। থাকার জন্য একটা ছোট ঘর আর দুবেলা খাবারের ব্যবস্থা হলে শেষ বয়সটা একটু শান্তিতে কাটাতে পারতাম।”
স্থানীয়দের ভাষ্য, একজন বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষের এমন অবস্থায় দিন কাটানো মানবিকভাবে অত্যন্ত কষ্টদায়ক। তাঁরা জহুরাকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত খাবার, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।
তাদের মতে, সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষরাও এগিয়ে এলে জহুরার জীবনের শেষ দিনগুলো কিছুটা স্বস্তিতে কাটতে পারে।
একসময় স্বামী-সন্তানের সংসার ছিল, আর এখন ভাঙা যাত্রীছাউনিই তাঁর ঠিকানা। জীবনের শেষ অধ্যায়ে এসে জহুরার একটাই চাওয়া—নিরাপদে মাথা গোঁজার একটু জায়গা ও দুবেলা খাবারের নিশ্চয়তা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন