প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। এর ফলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি শিগগিরই জাহাজ চলাচলের জন্য পুনরায় খোলা হতে পারে। এই আশাবাদে মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় মাত্রার পতন দেখা গেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে এবং চলতি সপ্তাহেই তেলবাহী জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হতে পারে।
এ খবরে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড-এর দাম প্রায় ৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দামও ৫ শতাংশের বেশি কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। উভয় সূচকই ১৩ জুলাইয়ের পর সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমেছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা কমাতে আগের একাধিক আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় তেলের বাজার এখনও অস্থির রয়েছে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত জ্বালানি তেলের খুচরা দামেও পড়তে পারে।
রুবিও সাংবাদিকদের বলেন, ইরান ও ওমানের সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে আরও বেশি জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা এগিয়েছে, তবে এখনও চূড়ান্ত কোনো সমঝোতা হয়নি। তিনি মন্তব্য করেন, খুব শিগগিরই এ বিষয়ে অগ্রগতি হবে।
অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, মঙ্গলবার বা বুধবারের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়ার বিষয়ে একটি সমঝোতা হতে পারে। সিএনবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, 'আজ বা আগামীকাল একটি চুক্তি হতে পারে, যা প্রণালিটি খুলে দিয়ে এই সংঘাতকে আরও স্বাভাবিক অবস্থার দিকে নিয়ে যাবে।'
জাহাজ চলাচলে ইরান কোনো ফি আরোপ করতে পারবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে বেসেন্ট বলেন, 'এটি হবে স্বাধীন চলাচলের বিষয়।' সম্ভাব্য চুক্তির কাঠামো বা শর্ত সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র এখনও কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বার বার কূটনৈতিক ব্যর্থতার পর ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার প্রক্রিয়া নিয়ে তারা বর্তমানে ওমানের সঙ্গে আলোচনায় রয়েছে।
দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজে জাহাজ চলাচল পরিচালনার বিষয়টি ইরান-ওমানের মধ্যে ভাগাভাগি হতে পারে। উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজগুলো ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং এর উপকূলের কাছাকাছি একটি নৌপথ দিয়ে যাতায়াত করবে। আর উপসাগর থেকে বহির্গামী জাহাজগুলো ওমানের নিকটবর্তী একটি প্রণালি ব্যবহার করবে।
এই প্রক্রিয়ায় কোনো টোল আরোপ করা হবে না, তবে চুক্তিতে পরিবেশগত প্রভাব, পণ্যবাহী জাহাজ ও ট্যাংকারের নিরাপত্তা এবং কর্মী খরচের জন্য একটি পরিষেবা ফি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। এই রাজস্ব ইরান ও ওমানের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
তবে, এই বিষয়েও তেহরান-মাস্কটের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। এছাড়া ইরান বার বার বলেছে, প্রণালির পরিস্থিতি যুদ্ধ শুরুর আগের অবস্থায় ফিরে যাবে না। মাইন অপসারণ অভিযান এবং সামুদ্রিক পরিষেবা শুল্ক আরোপ করা নিয়েও মতবিরোধের বিষয়।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি দ্বারা সংঘাত শুরুর আগে প্রতিদিন বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হতো।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরান প্রণালিটিতে অধিকাংশ জাহাজ চলাচল বন্ধ রেখেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চলে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করেছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন