প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কিশোরগঞ্জ, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : সিভি হাতে নিয়ে চাকরির সন্ধানে কিশোরগঞ্জের তরুণ-তরুণীরা মেলায় হাজির হয়েছেন।
নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের স্টলের সামনে দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। কেউ সিভি জমা দিচ্ছেন, কেউ চাকরির তথ্য নিচ্ছেন, আবার কেউ সরাসরি নিয়োগদাতাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করছেন।
কিশোরগঞ্জে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত চাকরি ও যুব উদ্যোক্তা মেলায় ২১টি চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানে নিবন্ধন করেছেন ১ হাজার ৮৫ জন চাকরিপ্রার্থী।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ডিওয়াইডি ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ও ইউসেফ বাংলাদেশের আয়োজনে সেভ দ্য চিলড্রেন মেলায় সহযোগিতা করেছে।
মেলায় অংশগ্রহণকারী ২১টি চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানের স্টলে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে সিভি সংগ্রহের পাশাপাশি বিভিন্ন পদ, যোগ্যতা ও নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য প্রদান করা হয়। সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে চাকরিপ্রার্থীরা মেলা প্রাঙ্গণে আসতে শুরু করেন।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ইউসেফ বাংলাদেশের মাধ্যমে ৫০৭ জন এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের রেজিস্টার অনুযায়ী ৫৭৮ জন চাকরিপ্রার্থী নিবন্ধন করেন। দুই আয়োজকের নিবন্ধন মিলিয়ে মোট ১ হাজার ৮৫ জন চাকরিপ্রার্থী মেলায় অংশ নেন।
চাকরির পাশাপাশি তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য ও পরামর্শ প্রদান করা হয়। তরুণ উদ্যোক্তাদের তৈরি বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির জন্যও স্টল রাখা হয়।
মেলার উদ্বোধন করেন কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমন। ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে উদ্বোধনের পর তিনি বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং চাকরিপ্রার্থী ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সেভ দ্য চিলড্রেনের সিনিয়র ম্যানেজার মোহাম্মদ ওবায়দুল হক, ইউসেফ বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ও ইনোভেশন বিভাগের উপপরিচালক ইঞ্জিনিয়ার জয় প্রকাশ বড়ুয়া এবং জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল মান্নান উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কিশোরগঞ্জ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. রফিকুল ইসলাম শামীম।
মেলায় অংশ নেওয়া যুব উদ্যোক্তা সুমন জানান, করোনা মহামারির সময় বেকার হয়ে পড়ার পর ছোট বোনের কাছ থেকে তিনটি পাঞ্জাবি নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। পরে ব্যবসায় সাড়া পেয়ে তা সম্প্রসারণ করেন। বর্তমানে অনলাইন ও অফলাইনে পাঞ্জাবি বিক্রি করে পরিবার নিয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন।
নারী উদ্যোক্তা সুমি জানান, ইউসেফ বাংলাদেশের সহযোগিতায় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারী-পুরুষদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। তাদের সংগঠনের মাধ্যমে এবারের মেলায় ২০ জন বেকার নারী-পুরুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
মেলায় নিজের তৈরি বিভিন্ন পণ্য নিয়ে অংশ নেন বাকপ্রতিবন্ধী উদ্যোক্তা গোলসান আরাও।
কিশোরগঞ্জ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. রফিকুল ইসলাম শামীম বলেন, মেলায় প্রত্যাশার চেয়েও বেশি কর্মপ্রত্যাশী যুবক-যুবতীর অংশগ্রহণ ছিল। মোট ১ হাজার ৮৫ জন নিবন্ধন করেছেন।
তিনি আরও বলেন, চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান ও কর্মপ্রত্যাশীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি করাই ছিল মেলার মূল উদ্দেশ্য। পাশাপাশি ক্যারিয়ার গাইডেন্সেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি জানান, প্রথমবারের আয়োজন থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এ ধরনের মেলা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
আয়োজকরা জানান, তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, উদ্যোক্তা তৈরি এবং তাদের উৎপাদিত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে সহায়তা করাই এ মেলার মূল উদ্দেশ্য।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন