প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী এবং জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমানের উদ্যোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার শারীরিক প্রতিবন্ধী ইমাম হোসেনের পিঠ থেকে প্রায় দুই কেজি ওজনের টিউমার অপসারণ করা হয়েছে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ইমাম হোসেনের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে যান জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের পরিচালক (প্রোগ্রাম) অধ্যাপক ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ। তিনি রোগীর চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং রোগীর পাশে থাকার আশ্বাস প্রদান করেন।
ইমাম হোসেন জন্মগতভাবে স্নায়ুর টিউমারজনিত জটিলতায় আক্রান্ত। দীর্ঘদিন ধরে তিনি অসহনীয় শারীরিক কষ্টের মধ্যে জীবনযাপন করছেন। দিনমজুর বাবার আট সন্তানের মধ্যে সপ্তম ইমাম হোসেন প্রায় ১৭ বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে তার চলাচলের সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। জন্মগত প্লেক্সিফর্ম নিউরোফাইব্রোমা রোগের কারণে তার পিঠের টিউমার ক্রমেই বড় হতে থাকে। টিউমারের কারণে গত প্রায় ১০ বছর ধরে তিনি ঠিকমতো ঘুমাতে পারছিলেন না। শারীরিক অক্ষমতার কারণে উপার্জন করতে না পারায় নিজের দৈনন্দিন খাবারের সংস্থান করাও তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। এই অবস্থায় ব্যয়বহুল চিকিৎসার ব্যবস্থা করা ছিল প্রায় অসম্ভব।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইমাম হোসেনের দুর্দশার একটি ভিডিও ডা. জুবাইদা রহমানের দৃষ্টিগোচর হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংযুক্তিতে কর্মরত চিকিৎসক ও জেডআরএফের পরিচালক (প্রোগ্রাম) অর্থোপেডিক সার্জন অধ্যাপক ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহকে নির্দেশনা দেন ইমাম হোসেনের চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।
এরপর অধ্যাপক ডা. আমান উল্লাহর নির্দেশনায় ডা. এম আর হাসান ইমাম হোসেনের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তাকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করার ব্যবস্থা করেন। ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দিন আহমেদের অধীনে তার চিকিৎসা শুরু হয়।
ইমাম হোসেনের জটিল শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ডে ভাস্কুলার সার্জন, অর্থোপেডিক সার্জন, অ্যানেসথেসিওলজিস্টসহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তাদের তত্ত্বাবধানে ২৫ অক্টোবর প্রাথমিক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার পিঠ থেকে প্রায় দুই কেজি ওজনের টিউমার অপসারণ করা হয়।
ডা. আমান উল্লাহ বলেন, "জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন অতীতেও দলমত ও ধর্মনির্বিশেষে অসহায়, নিরীহ মানুষের কল্যাণে কাজ করে এসেছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।"
ইমাম হোসেনের চিকিৎসায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. অভিজিত সরকার, সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান, সহকারী অধ্যাপক ডা. শাহীন, অ্যানেসথেসিয়া বিভাগের ডা. তাজিন আহসান, সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. ফজলে রাব্বি, রেজিস্ট্রার ডা. সুলতান মাহমুদ সিকদার এবং আবাসিক সার্জন ডা. মো. শফিকুল আলম সুমন, নিউরোসার্জন ডা. রবার্ট আহমেদ খান, ডা. দেওয়ান সামসুল আসিফসহ আরও অনেকে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন