প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী দীপাঞ্জন ঘোষ প্রিয়ম (২১) গত বুধবার সুইমিংপুলে সাঁতার কাটতে গিয়ে মারা যান। সহপাঠীরা দাবি করেছেন যে দীপাঞ্জন সাঁতার জানতেন। সাঁতার জানার পরও সুইমিংপুলের পানিতে ডুবে যাওয়ার ঘটনায় নানা প্রশ্ন উঠেছে। এদিকে, ৫ জন একসঙ্গে পুলে নামলেও দীপাঞ্জনের ডুবে যাওয়ার বিষয়টি কেউ দেখতে না পাওয়ায় অনেকে এটিকে রহস্যজনক মনে করছেন।
জানা গেছে, সুইমিংপুলে সাধারণত স্বয়ংক্রিয় ড্রেনেজ ব্যবস্থা বা স্মার্ট পুল কন্ট্রোলার থাকে। জরুরি পরিস্থিতিতে এর মাধ্যমে দ্রুত পানির স্তর কমানোর সুযোগ রয়েছে। তবে, এমন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এছাড়া, সুইমিংপুলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে অনেকেই অভিযোগ তুলেছেন। শিক্ষার্থী মৃত্যুর সময় দায়িত্বরতরা কোথায় ছিলেন? একজন সাঁতারু অসুস্থ হলে তাকে উদ্ধার কার্যক্রমের ব্যবস্থা নিয়ে বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অনেকে।
বৃটানিকা সুইমিংপুলের ইনস্ট্রাক্টর আমিরুল ইসলাম আবু জানিয়েছেন, "আমাদের নিয়ম অনুযায়ী সাঁতার না জানলে ৬ ফুটের বেশি গভীর পানিতে নামতে নিষেধ করা হয়। কিন্তু তিনি ৯ ফুট গভীর এলাকায় চলে গিয়েছিলেন।"
সহপাঠী ফায়াজ নবী বলেন, "আমরা তিন বন্ধু নিয়মিতই সেখানে সাঁতার কাটতে যেতাম। আজ প্রিয়মও আমাদের সঙ্গে যাওয়ার কথা বলে এবং জানায় সে সাঁতার জানত।"
তিনি আরও বলেন, "সাঁতার শুরু হলে প্রিয়ম দু-একবার ৯ ফুট গভীর অংশে গিয়ে আবার ফিরে আসে। পরে সে আবার গভীরে চলে যায়, আমরা কেউ টের পায়নি।"
এদিকে, শিক্ষার্থী মৃত্যুর বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোখলেছুর রহমান।
সিলেটের বিমানবন্দর থানার পরিদর্শক আব্দুস সালাম বলেন, "এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
প্রসঙ্গত, দীপাঞ্জন ঘোষ ও তাঁর সহপাঠীরা একসঙ্গে ব্রিটানিয়া সুইমিংপুলে সাঁতার কাটতে গিয়েছিলেন। সন্ধ্যা পৌনে ছয়টায় সুইমিংপুলের ৯ ফুট গভীর জায়গা থেকে ডুবন্ত অবস্থায় সুইমিংপুলের কর্মীরা দীপাঞ্জনকে উদ্ধার করেন। সিলেটের দরগা গেট–সংলগ্ন নুরজাহান হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
দীপাঞ্জন ঘোষ প্রিয়ম শাবিপ্রবির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের রতনকান্দি গ্রামের কৃষ্ণ দুলাল ঘোষ ও চম্পা ঘোষের ছেলে। তবে তাদের পরিবার ঢাকার মোহাম্মদপুরে বসবাস করে। প্রিয়ম বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন সুরমা আবাসিক এলাকার একটি মেসে থাকতেন। তিনি একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন এবং সহপাঠী ও শিক্ষকরা জানিয়েছেন যে তিনি অনেক বিনয়ী ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন