প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানে জেলা শহর এবং আশপাশের নিম্নাঞ্চল, নাইক্ষ্যংছড়ি, রোয়াংছড়ি, লামা, আলীকদম উপজেলায় সহস্রাধিক ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়ে গেছে। জেলার সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যার কবলিতরা আশ্রয় কেন্দ্রে উঠতে শুরু করেছে।
বুধবার (৮ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত গত চব্বিশ ঘণ্টায় ৩০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা আগের চব্বিশ ঘণ্টার চেয়ে দ্বিগুণ। প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রোববার থেকে অব্যাহত ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবান জেলা শহরের শেরেবাংলা নগর, আর্মিপাড়া, মেম্বারপাড়া, ইসলামপুর, উজানীপাড়া, মধ্যমপাড়া এলাকায় সহস্রাধিক ঘরবাড়ি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পানিতে তলিয়ে গেছে। জেলার সাত উপজেলায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ।
এদিকে, অবিরাম বৃষ্টির কারণে জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসে অসংখ্য ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলার রুমা-থানচি এবং লামা-সূয়ালক সড়কসহ অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে ছোটবড় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। প্রাণহানির আশঙ্কায় পাহাড়ের ঢালুতে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে প্রশাসন, পৌরসভা, এবং ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলার চৌত্রিশটি ইউনিয়নে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সাইক্লোন সেন্টারে মোট ২২০টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
এদিকে, অব্যাহত বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলের ফলে সাঙ্গু, মাতামুহুরী ও বাকখালী তিনটি নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, এ তথ্য জানিয়েছেন বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অপু দেব। জেলা আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা সনাতন কুমার মন্ডল বলেন, রেকর্ডকৃত বৃষ্টিপাতের পরিমাণ মঙ্গলবারের চেয়ে বেড়ে গেছে। বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত গত চব্বিশ ঘণ্টায় বান্দরবান জেলায় ৩০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ভারি বৃষ্টিপাতে পাহাড় ধসে প্রাণহানির শঙ্কা থাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বলা হচ্ছে।
বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস জানান, অবিরাম বৃষ্টিপাত এবং পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। নদী তীরবর্তী এবং পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে থাকা বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে। ২২০টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং প্রশাসনের জরুরি কন্ট্রোল রুমও কাজ করছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন