প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
“সেতুতে উঠলেই ভয়ে বুক ধড়ফড় করে। মনে হয় যেকোনো সময় ভাঙা সেতুর বাকি অংশও ভেঙে সেতুর সাথে পানির নিচে চলে যাব। প্রতিদিন অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হয়। এই সেতু ছাড়া আমাদের আর কোনো রাস্তা নাই।”
এই কথাগুলো বলেছেন কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার পাঁচগাছিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের দুর্গাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. রাসেল। পাঁচ বছর আগে হরিনা বাজার–ভবানীপুর এলাকার বাজারখোলা খালের ওপর নির্মিত সেতুটি ভেঙে পড়েছে। এর ফলে রাসেলের মতো অনেকেই দুর্ভোগে পড়ছেন।
উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, ৯০-এর দশকে বাজারখোলা খালের ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। পাঁচ বছর আগে সেতুটির মাঝের অংশের পিলার দেবে গিয়ে ফাটল দেখা দেয়। এরপর থেকে সেতুটির সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করা হয়নি।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেতুটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে। তবুও জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে রেখে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা এর ওপর দিয়ে চলাচল করছেন। সিএনজি অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলও ঝুঁকি নিয়ে সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করছে। এতে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পাঁচগাছিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের গুচ্ছগ্রাম, ভবানীপুর, ঠেটালিয়া, তুলাতলী, নলচক, নয়াচর, পাঁচগাছিয়া, বাজারখোলা উত্তর, বাজারখোলা দক্ষিণ ও শৈঠারদিয়া গ্রামের বাসিন্দাদের বাজারখোলা সেতু দিয়ে চলাচল করতে হয়।
সেতুটির কারণে শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছে। বিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার সময় তাদের ঝুঁকি নিয়ে সেতু পার হতে হচ্ছে। অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময়ও স্বজনদের আতঙ্কে থাকতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. সরকার আরিফ এবং মো. শাকিল আহমেদ চৌধুরী বলেন, “পাঁচ বছর ধরে সেতুটি এভাবে পড়ে আছে। প্রতিদিন হাজারো মানুষ ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা আতঙ্ক নিয়ে স্কুলে যায়। রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতেও সমস্যা হয়। দ্রুত সেতুটি সংস্কার অথবা নতুন করে একটা সেতু নির্মাণ জরুরি।”
দাউদকান্দি উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, সেতুটি নতুন করে নির্মাণের জন্য অধিদপ্তরে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, “এই সেতুসহ প্রায় সাত থেকে আটটি সেতু মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।”
উপজেলা প্রকৌশলী আরও বলেন, “আমাদের এখানে মেরামতের যোগ্য প্রায় ৭০টি সেতুর তালিকা করে সদর দপ্তরে লিখিতভাবে আবেদন জানানো হয়েছে। অনুমোদন হলে এসব সেতু মেরামতের কাজ করা যাবে।”
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন