০৬:৫৫ এম
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এই তদন্ত কমিটিকে আজ শনিবার (৬ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে প্রাথমিক প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) দিবাগত রাতে আগুন লাগা কার্গো শেড পরিদর্শনে গিয়ে এই কথা জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
আরও পড়ুন: স্পেনে দ্রুতগতির ট্রেন সংঘর্ষে ৬৮ জনের মৃত্যু
তিনি বলেন, 'তদন্ত সাপেক্ষে বোঝা যাবে কী থেকে আগুনটা ধরেছে। এ বিষয়ে পাঁচ সদস্যের একটা কমিটি করে দেয়া হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণটা নিরূপণের বিষয়ে কমিটি বলতে পারবে।'
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, 'প্রাথমিকভাবে এখানকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে বোঝা গেল, শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের ঘটনা ঘটতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন হলো শর্ট সার্কিট হবে কেন। এর আগেও যে অগ্নিকাণ্ড হয়েছিল, সেখানেও তদন্ত রিপোর্টের শর্ট সার্কিট ছিল। তাহলে নিশ্চয়ই গাফিলতি রয়েছে। আমাদের তা স্বীকার করতে হবে।'
তিনি যোগ করেন, 'শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় কমিটিকে প্রাথমিক তদন্ত দিতে বলা হয়েছে। এবার কারো গাফিলতির কারণে হয়ে থাকে, তাহলে খুব শক্ত ব্যবস্থা নেব, যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।'
রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, 'গত বছরের ১৮ অক্টোবরেও বিমানবন্দরের কার্গো শেডে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। কিন্তু তারপরে আমরা আর শেড নির্মাণ করতে পারিনি। সরকারের সাড়ে তিন মাস বয়সে কয়েকবার শেড নির্মাণের কথা ভেবেছিলাম। কিন্তু থার্ড টার্মিনাল উদ্বোধনের জন্য এরই মধ্যে জাপানের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। এই টার্মিনালের পেছনের দিকের দুইটি এক্সপোর্ট এবং ইম্পোর্টের জন্য কার্গো গোডাউন করা হয়েছে। সেগুলোতে ৮ লাখ টন করে মালামাল রাখা যাবে। এজন্য নতুন করে শেড করলে পরে পরবর্তীতে কোনো কাজে লাগবে না। তাই আমরা ছয় মাসের জন্য নতুন স্থাপনা তৈরি না করার জন্য সিভিল এভিয়েশনের পাশাপাশি আমরাও বলেছি। আপাতত অস্থায়ী শেড করার কথা বলা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় ৫২৫ জন আটক, মামলা ৪৬
এ বিষয়ে তবুও সিভিল এভিয়েশনকে জিজ্ঞেস করা হবে। তদন্তের পরে বোঝা যাবে কে দায়ী। সকাল বেলা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হবে। এরপর আসল ঘটনা কী, কেন এরকম হচ্ছে বারবার, তা নিয়ে শক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করব।
এর আগে রাত সোয়া ১১টার বিমানবন্দরের ৯ নম্বর গেটের পাশে কার্গো শেডের মালামাল রাখার স্থানে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিটের ১৪ মিনিটের চেষ্টায় রাত ১১টা ৩৮ মিনিটের দিকে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে।
কার্গো শেডের এই অগ্নিকাণ্ড বড় কোনো রূপ না নিলেও এটি বিমানবন্দর সংশ্লিষ্টদের মাঝে কিছুটা আতঙ্ক তৈরি করেছিল। কারণ, এর আগে গত বছরের ১৮ অক্টোবর শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ কমপ্লেক্সে একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল।
সে সময় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ১৩টি ফায়ার স্টেশনের ৩৭টি ইউনিটকে টানা প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টা অবিরাম চেষ্টা চালাতে হয়েছিল। ওই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে শাহজালাল বিমানবন্দরে সব ধরনের ফ্লাইট ওঠানামা ও চলাচল দীর্ঘ সময় বন্ধ রাখা হয়েছিল। তবে গতকাল রাতের অগ্নিকাণ্ড দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসায় বিমানবন্দর সচল ছিল এবং কোনো ফ্লাইট শিডিউল বিপর্যয় ঘটেনি।
আরও পড়ুন: মিরপুর-১০ এ ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন