প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আজ ১৫ আগস্ট। বাঙালি জাতির ইতিহাসে গভীর শোক ও বেদনার একটি দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের নিজ বাসভবনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। আজ তাঁর শাহাদাতের ৫১ বছর পূর্ণ হলো।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোররাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবনে সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। ওই ঘটনায় বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্যও নিহত হন। বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা সে সময় দেশের বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান। সরকারি ও ঐতিহাসিক বিভিন্ন নথিতে ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডকে বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম মর্মান্তিক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, স্বাধিকার আন্দোলন, অসহযোগ আন্দোলন ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তাঁর নেতৃত্ব বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে সংগঠিত করে। স্বাধীনতার পর তিনি বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনেও বঙ্গবন্ধু সরকারের সামনে ছিল বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। অবকাঠামো পুনর্গঠন, প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা এবং নতুন রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ভিত্তি প্রতিষ্ঠার কাজও শুরু হয় তাঁর নেতৃত্বে।
নানা কর্মসূচিতে স্মরণ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের আয়োজন করা হয়েছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, কোরআনখানি, স্মরণসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি তাঁর রাজনৈতিক জীবন, স্বাধীনতা সংগ্রামে ভূমিকা এবং বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে তাঁর অবদান নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। অতীতেও ১৫ আগস্ট উপলক্ষে দেশজুড়ে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, স্মরণসভা, আলোকচিত্র প্রদর্শনীসহ নানা কর্মসূচি পালনের নজির রয়েছে।
ইতিহাসের শোকাবহ অধ্যায়
১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছে। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যার ঘটনা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি শোকাবহ অধ্যায় হিসেবে স্মরণ করা হয়। রাষ্ট্রীয় ও ঐতিহাসিক বিভিন্ন নথিতেও এ হত্যাকাণ্ডের মর্মান্তিকতার কথা উল্লেখ রয়েছে।
বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবন ছিল দীর্ঘ সংগ্রাম ও আন্দোলনে পরিপূর্ণ। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম নেওয়া শেখ মুজিবুর রহমান ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় হন। পরবর্তী সময়ে তিনি বাঙালির রাজনৈতিক অধিকার ও স্বাধিকার আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্মের পর বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেন। স্বাধীনতার পর মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই তাঁকে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে হয়।
প্রজন্মের পর প্রজন্মে স্মরণ
প্রতি বছর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর শাহাদাতবার্ষিকী পালনের মধ্য দিয়ে তাঁর জীবন, রাজনৈতিক সংগ্রাম ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা হয়। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ দিনটিকে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে স্মরণ করেন।
বঙ্গবন্ধুর জীবন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত—এমন মূল্যায়ন বাংলাদেশের সরকারি ও ঐতিহাসিক বিভিন্ন প্রকাশনায় উঠে এসেছে।
৫১ বছর পরও ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গভীর শোকের দিন হিসেবে আলোচিত। দিনটি স্মরণে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডে নিহত পরিবারের সদস্যদের আত্মার শান্তি কামনা করা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন