প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু মন্তব্য করেছেন যে, রোগ হওয়ার পর নিয়ন্ত্রণের চেয়ে রোগ প্রতিরোধই অধিক গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, যদি আগেভাগে সচেতনতা তৈরি করা যায় এবং যথাযথ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, তাহলে জলাতঙ্কে আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
রাজধানীর তুলা উন্নয়ন বোর্ডের সম্মেলনকক্ষে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘Stronger Together: একসাথে, আরও শক্তিশালী জলাতঙ্কমুক্ত বিশ্ব গড়ি’।
প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, জলাতঙ্ক প্রতিরোধের জন্য টিকাদান কর্মসূচি সম্প্রসারণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং রোগ হওয়ার পর দ্রুত ও কার্যকর চিকিৎসা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শহরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে এ রোগ সম্পর্কে সচেতনতা তুলনামূলকভাবে বেশি থাকলেও প্রান্তিক পর্যায়ে সচেতনতা কম।
ফলস্বরূপ, সেখানে জলাতঙ্কে মৃত্যুর ঘটনা বেশি দেখা যায়। এজন্য শহরের পাশাপাশি গ্রাম পর্যায়েও জলাতঙ্ক প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে জোরদার করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।
এ লক্ষ্যে আগের মতো সারা দেশে কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, জনগণের কল্যাণ ও জনস্বার্থে সরকারের সব কার্যক্রম পরিচালিত হয়। মানুষ খাদ্যনিরাপত্তার পাশাপাশি খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করা প্রাণীটি রোগমুক্ত ও নিরাপদ কিনা, সে বিষয়েও সচেতন হচ্ছে। প্রাণীর রোগ নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি সরাসরি জড়িত। তাই প্রাণিস্বাস্থ্য ও জনস্বাস্থ্যকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
প্রান্তিক পর্যায়ে সচেতনতা বাড়াতে আরও বেশি সেমিনার, প্রচার-প্রচারণা ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে মাঠপর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তাদের তদারকি বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক মো. রেজাউল আমিন। অনুষ্ঠানে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্বাগত বক্তব্য দেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. বয়জার রহমান। বক্তব্য দেন পরিচালক (সম্প্রসারণ) ড. বেগম শামছুননাহার আহম্মদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধিদপ্তরের উপপরিচালক ডা. মো. আ. মান্নান মিয়া এবং পথ কুকুরের মাধ্যমে জলাতঙ্ক রোগ বিস্তার রোধ প্রকল্পের পরিচালক ডা. মেহেদি হাসান ভূঁইয়া।
মূল প্রবন্ধে দেশে জলাতঙ্কের বর্তমান পরিস্থিতি, প্রতিরোধ কার্যক্রম, কুকুরের টিকাদান কর্মসূচি এবং ২০৩০ সালের মধ্যে জলাতঙ্ক নির্মূলের লক্ষ্যে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরা হয়।
এর আগে বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস উপলক্ষে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। এতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, ভেটেরিনারিয়ান, শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশ নেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন