প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইরান দাবি করেছে যে, বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনার ৮৫টি লক্ষ্যবস্তুতে তারা হামলা চালিয়েছে। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, নৌ ও মহাকাশ বাহিনীর সমন্বয়ে এসব স্থাপনার লক্ষ্য করে যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটি এবং কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমান ঘাঁটি।
যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জের ধরে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে। একইসাথে, ওয়াশিংটন ইরানের তেল বিক্রির জন্য দেওয়া সাময়িক নিষেধাজ্ঞার মওকুফ সুবিধাও বাতিল করে দিয়েছে। এই তীব্র উত্তেজনার ফলে অঞ্চলটিতে বিরাজমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করা বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবে মার্কিন বাহিনী ইরানে অভিযান পরিচালনা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলার কয়েক ঘণ্টা পরেই ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। হামলার পর মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটি বাহরাইনে ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতার সাইরেন বেজে ওঠে। কুয়েতের সেনাবাহিনী জানায় যে, তারা আগত আকাশপথের হামলাগুলো প্রতিহত করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয় যে, দেশটির রেভল্যুশনারি গার্ডস এ পাল্টা হামলার দায় স্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, তাদের নৌ ও অ্যারোস্পেস বাহিনী দুই দেশে অবস্থিত ৮৫টি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। এছাড়া, একটি মার্কিন এমকিউ-নাইন ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে, কোনো পক্ষই ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি।
সেন্টকম তাদের সর্বশেষ বিবৃতিতে জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল নেটওয়ার্ক, উপকূলীয় রাডার সাইট, জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি থাকা রেভল্যুশনারি গার্ডসের ৬০টিরও বেশি ছোট বোটে সফলভাবে আঘাত হেনেছে। সব মিলিয়ে তারা ৮০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, দেশটির প্রধান তেল হাব খাগ দ্বীপ, কেশম দ্বীপ এবং দক্ষিণের বন্দর নগরী সিরিক ও বন্দর আব্বাসে বুধবার ভোরে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণ ঘটেছে।
ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সামরিক কমান্ড একে যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্পষ্ট আগ্রাসন বলে অভিহিত করে তীব্র প্রতিক্রিয়ার হুমকি দিয়েছে। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, হরমুজ প্রণালী ব্যবস্থাপনায় তারা কোনো ধরনের মার্কিন হস্তক্ষেপ বরদাশত করবে না।
এই পাল্টাপাল্টি হামলার ঠিক আগেই ওয়াশিংটন গত জুন মাসে হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির অধীনে দেওয়া তেলের নিষেধাজ্ঞা মওকুফ সুবিধা প্রত্যাহার করে নেয়। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা পূর্ববর্তী সমঝোতার সাথে সংগতিপূর্ণ নয় এবং এর জন্য ইরানকে চড়া মূল্য দিতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে চরম যুদ্ধাবস্থা বিরাজমান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন