প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে (ঢাবি) পরিবেশবান্ধব ও জ্বালানি-আত্মনির্ভর ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সমন্বিত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রস্তাব দিয়েছেন ছাত্রদল নেতা শেখ তানভীর বারী হামিম।
আজ বৃহস্পতিবার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচারকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে এই প্রস্তাব জানানো হয়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল মনোনীত ডাকসু ২০২৫-এর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদপ্রার্থী ও কবি জসীমউদ্দীন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক শেখ তানভীর বারী হামিম স্মারকলিপিটি তুলে ধরেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবন ও আবাসিক হলগুলোর ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন করে বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করার প্রস্তাব রয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিদিন প্রায় ৮ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহারের কথা উল্লেখ করে, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন ও আবাসিক হলের ছাদকে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ উদ্দেশ্যে ‘ঢাকা ইউনিভার্সিটি রুফটপ সোলার অ্যান্ড গ্রিন এনার্জি প্রজেক্ট’ নামে একটি সমন্বিত প্রকল্প গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ভবনের ছাদের কাঠামোগত সক্ষমতা, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা ও ধারণক্ষমতা যাচাই করে একটি ‘সোলার মাস্টার প্ল্যান’ তৈরি করা যেতে পারে। এরপর অধিক বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী কয়েকটি ভবনে পরীক্ষামূলকভাবে পাইলট প্রকল্প চালু করে, সফলতার ভিত্তিতে ধাপে ধাপে পুরো ক্যাম্পাসে তা সম্প্রসারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
স্মারকলিপিতে উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য ‘নেট মিটারিং’ ব্যবস্থা চালুর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভবিষ্যতে শুধুমাত্র বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠান নয়, বরং একটি ‘নেট এনার্জি কনট্রিবিউটর’ হিসেবেও ভূমিকা রাখতে পারবে বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া, প্রকল্পটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ‘লিভিং ল্যাবরেটরি’ হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বিজ্ঞান, প্রকৌশল, পরিবেশবিজ্ঞানসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষার্থীরা সৌরবিদ্যুৎ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সবুজ প্রযুক্তি নিয়ে সরাসরি গবেষণা ও ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন।
প্রকল্পের অর্থায়নে সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি গ্রিন ফাইন্যান্সিং, করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) মতো বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাব করা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে বলেও স্মারকলিপিতে দাবি করা হয়েছে।
শেখ হামিম বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু জ্ঞান উৎপাদন করবে না-পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎও উৎপাদন করবে।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, উপাচার্য এই পরিবেশবান্ধব ও সময়োপযোগী উদ্যোগ বাস্তবায়নে নীতিগত অনুমোদন দেবেন।
স্মারকলিপি প্রদানকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মৌসুমী শেখ, ক্রীড়া সম্পাদক মো. সাইফ উল্লাহ, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. জাহিদুল ইসলাম, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান আসিফ, ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক মালিহা বিনতে অবন্তী খান, স্যার এ এফ রহমান হল ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান মুন্না, সহক্রীড়া সম্পাদক সাদমান সাকিব বিশ্বাস মাহির, ফজলুল হক মুসলিম হল ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখওয়াত হোসেন, মাস্টারদা সূর্যসেন হল ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাজা আমিনুল হক অভি এবং মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফুল ইসলামসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন