প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশের ব্যাটিং দুর্বলতা ওয়ানডে ম্যাচে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মাঠে ভালো পারফর্ম না করেও কিছু খেলোয়াড় একাদশে সুযোগ পাচ্ছেন। বারবার ব্যাটিং পজিশনে পরিবর্তন এবং টিম সিলেকশনে স্বজনপ্রীতির অভিযোগও রয়েছে। তামিমের বোর্ড দায়িত্বে আসার পর অনেকের ভাগ্য খুলে গেছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের কারণে সাবেক টাইগার ওপেনার ইমরুল কায়েস সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
নুরুল হাসান সোহান। প্রায় এক দশক আগে ওয়ানডে অভিষেক ঘটে এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যানের। তিনি ১৫ ইনিংসে খেলে এখন পর্যন্ত একটি ফিফটি করতে পারেননি। ঘরোয়া লিগে নিয়মিত না হলেও ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে দলের নিয়মিত মুখ হয়ে উঠেছেন সোহান। তামিম ইকবালের বোর্ড দায়িত্বে আসার পর তার একাদশে জায়গা অনেকটা অটো চয়েজ হয়ে গেছে।
সৌম্য সরকার। তাকে আর কত সুযোগ দেওয়া হবে? এবছর ৯ ইনিংসে তার নামের পাশে কেবল একটি পঞ্চাশোর্ধ রান রয়েছে। কখনো তাকে পাঁচে, কখনো ওয়ান ডাউনে খেলানো হচ্ছে। ৫০ ওভারের এই ফরম্যাটে সাইফ হাসান এখনও নিজেকে প্রমাণ করতে পারেননি। মেহেদী মিরাজ নামের অলরাউন্ডার হলেও ব্যাটিংয়ে ধার নেই। নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাটেও ধারাবাহিকতার অভাব দেখা যাচ্ছে। এই অবস্থায় ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে টাইগাররা কতদূর যেতে পারবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
এদিকে, ঘরোয়া লিগে নিয়মিত পারফর্ম করেও জাতীয় দলের বিবেচনায় নেই বাংলাদেশের একমাত্র যুব-বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক আকবর আলী। ২০২৫ এশিয়া কাপের পর জাকের আলীকে আর জাতীয় দলের একাদশে দেখা যায়নি। বাংলাদেশ পাইপলাইনে আর কোনো ব্যাটসম্যান তৈরি করতে পারেনি। এই ব্যর্থতার দায়ভার কার? কেন একদিনের ম্যাচে এমন ভরাডুবি হচ্ছে? ইমরুল কায়েস উত্তর দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দল নির্বাচন নিয়ে স্বজনপ্রীতি হচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমে টিম ম্যানেজমেন্টের দায়িত্ব নিয়ে তিনি কঠোর সমালোচনা করেছেন।
কায়েস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ক্রিকেট বোর্ডের উচিত যোগ্যতা ও পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সম্ভাব্য সেরা একাদশ নির্বাচন করা। ক্রিকেট একটি গোটা জাতির প্রতিনিধিত্ব করে। তাই জাতীয় দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে আবেগের বশবর্তী হয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া কিংবা পক্ষপাতিত্বের কোনো সুযোগ থাকা উচিত নয়। যথেষ্ট হয়েছে! এবার যোগ্যতা, ন্যায্যতা এবং দেশের স্বার্থকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে রাখার সময় এসেছে।’
ম্যাচের শুরুতে উইকেট বিলিয়ে দেওয়া, ম্যাচের মোমেন্টাম বুঝে না খেলা এবং জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করেও শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং বিপর্যয়ে পরাজয় বরণ—এগুলো এখন বাংলাদেশের ওয়ানডে ফরম্যাটের নিয়মিত চিত্র। কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল কতটুকু দায়িত্ব পালন করতে পারছেন এসব সমস্যার সমাধানে? যে বাংলাদেশ একসময় জিম্বাবুয়েকে সহজেই হারাত, তারা এখন নিয়মিত হারছে। বিশেষ করে টাইগারদের প্রিয় সংস্করণ একদিনের ম্যাচে। আশরাফুলের আমলে ওয়ানডে দুর্দশায় পড়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপের আগে টাইগার ব্যাটসম্যানদের প্রস্তুতির ঘাটতি এখন দিবালোকের মতো সত্য।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন