ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রাকৃতিক প্রভাব কেমন, রাশিয়ার কালিনিনের অভিজ্ঞতায় দেখা গেল


পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রাকৃতিক প্রভাব কেমন, রাশিয়ার কালিনিনের অভিজ্ঞতায় দেখা গেল

পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রাকৃতিক প্রভাব কেমন? প্ল্যান্ট চালুর পর জলাধার বা পরিবেশে কী কী পরিবর্তন দেখা যায়? দশকের পর দশক ধরে চলা নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টের আশেপাশের জীববৈচিত্র্যের পরিস্থিতি কেমন?

পদ্মাপাড়ে দাঁড়িয়ে যেমন পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চিত্র, রাশিয়ার উদোমলিয়া লেক থেকে ঠিক তেমনই চিত্র দেখা যায় কালিনিন নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টের। চার দশক আগে নির্মিত এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের লেকে অন্তত ৩০ প্রজাতির মাছের বিচরণ রয়েছে। মার্চ থেকে মে মাস ছাড়া বছরের পুরো সময়েই লেকে মাছ ধরে মানুষ।

এই লেকে বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রভাব কেমন? তা নির্ণয়ে নিয়মিত গবেষণা ও সমীক্ষা চালায় প্ল্যান্ট কর্তৃপক্ষ। সেখানে দেখা যায়, প্রাণপ্রকৃতিতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব নেই। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির আশেপাশের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্যও স্বাভাবিক রয়েছে। উদোমলিয়া জলাধারে মাছের আনুমানিক মজুত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪০ টনে। লেকটিতে পানির স্বচ্ছতা দেড় মিটার পর্যন্ত। প্ল্যান্টটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আন্দ্রে ইউ. ডানিউকিন জানান, অন্যান্য প্রাকৃতিক জলাশয়ের তুলনায় অনেক সূচকে ভালো অবস্থানে বিদ্যুৎকেন্দ্র লাগোয়া এই লেক।

আরও পড়ুন: গাজায় প্রায় প্রতিদিনই ইসরাইলি হামলা, যুদ্ধবিরতির পর নিহত ১৫২২

কালিনিন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিবেশ সুরক্ষা বিভাগের প্রধান আন্দ্রে ইউ. ডানিউকিন বলেন, এই লেকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ১ হাজার কিলোমিটার দূরে থাকলে যেমন নিরাপদ থাকত, এখানেও ঠিক একই অবস্থায় আছে। এখানকার মাছগুলো বড় এবং মাছের বিস্তারও যথেষ্ট পরিমাণে হচ্ছে। সার্বিকভাবে উদোমলিয়ার পরিবেশ বেশ ভালো। এর মানে, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রাণ-প্রকৃতির জন্য নিরাপদ।

কালিনিন নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টের তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে অর্ধশত সংরক্ষিত প্রাকৃতিক এলাকা, এর মধ্যে ৩৩টি সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ। এছাড়া, উদোমলিয়া পৌর এলাকায় ২২০টির বেশি প্রজাতির পাখির আবাস রয়েছে; আর উদ্ভিদ রয়েছে ৯১১ প্রজাতির।

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশেই বিশাল জলাশয়ে মাছের অবাধ বিচরণ। এসব নজির প্রমাণ করে যে, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রাণ-প্রকৃতিকে অনেকটা নিরাপদে রাখে। এসবের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকরা আশাবাদী যে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকেও নিরাপদে দশকের পর দশক ধরে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি হওয়ায় পরিবেশের ওপর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রভাব নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই।

আরও পড়ুন: ইয়েমেনের সেনা ঘাঁটিতে হুথিদের হামলায় নিহত ২০

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট পরিবেশবান্ধব। কালিনিন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশে পানিতে মাছ ধরা হচ্ছে, জীববৈচিত্র্যের একটা সহাবস্থান রয়েছে। আমাদের রূপপুরের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হওয়ার সুযোগ নেই। রূপপুরের জন্য প্রাণ-প্রকৃতির বিঘ্ন ঘটার সুযোগ নেই।

সব ঠিক থাকলে আগামী মাসেই পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হতে পারে রূপপুর নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টের প্রথম ইউনিট।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ সফরের আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে কিমো পলের পরিবর্তে শামার স্প্রিঙ্গার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৫৯ এম


বাংলাদেশ সফরের আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে কিমো পলের পরিবর্তে শামার স্প্রিঙ্গার

বাংলাদেশ সফরের পূর্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজের টেস্ট দলে পরিবর্তন ঘটেছে। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে সফর থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন কিমো পল। তার পরিবর্তে দলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন শামার স্প্রিঙ্গার। এই বিষয়টি ১৮ অক্টোবর নিশ্চিত করেছে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

ভারত সফর শেষ করে কিমো পল নিজ দেশে ফিরে যাবেন। তার বদলি হিসেবে নেওয়া শামার স্প্রিঙ্গার এখনও টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেকের অপেক্ষায় রয়েছেন। নির্বাচকেরা ওজে শিল্ডস ও নিয়াল স্মিথকে দলে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টিও বিবেচনা করেছিলেন। তবে চোটের কারণে তাদের কাউকেই শেষ পর্যন্ত দলে রাখা হয়নি।

সূচি অনুযায়ী, ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ১৮ অক্টোবর। সফরকারীরা এরপর কয়েক দিন অনুশীলন করবে। ২২ অক্টোবর বসুন্ধরায় বিসিবি একাদশের বিপক্ষে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে তারা।

দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শুরু হবে ২৮ অক্টোবর। প্রথম টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। এরপর দুই দল সিলেটে যাবে, যেখানে ৫ নভেম্বর সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের টেস্ট স্কোয়াড

রোস্টন চেজ (অধিনায়ক), জোমেল ওয়ারিকান (সহ-অধিনায়ক), জশুয়া বিশপ, জন ক্যাম্পবেল, ত্যাগনারায়ণ চন্দরপল, জশুয়া ডা সিলভা, জাস্টিন গ্রিভস, কাভেম হজ, আমির জাঙ্গু, শামার জোসেফ, ব্রেন্ডন কিং, শামার স্প্রিঙ্গার, কেমার রোচ, জেডন সিলস, কেভিন উইকম।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪৯০ জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৫৯ এম


রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪৯০ জন

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে রাজধানীতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৯০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সময়ে ৪২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে ডিএমপি থেকে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। রাজধানীর বিভিন্ন থানার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে গ্রেফতারকৃতদের বিভিন্ন আলামত ও মাদকদ্রব্যসহ আটক করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রমনা বিভাগ থেকে ৩৯ জন, লালবাগ বিভাগ থেকে ৫২ জন, ওয়ারী বিভাগ থেকে ৫৭ জন, মতিঝিল বিভাগ থেকে ৬২ জন, তেজগাঁও বিভাগ থেকে ৯২ জন, মিরপুর বিভাগ থেকে ১২৩ জন, গুলশান বিভাগ থেকে ৪০ জন এবং উত্তরা বিভাগ থেকে ২৫ জনকে আটক করা হয়েছে।

ডিএমপি জানিয়েছে, অভিযানের সময় ১৫টি মোবাইলফোন, ১টি রিয়ার সাইড পিলার কভার, ২টি অটোরিকশা, ১টি প্রাইভেটকার, ১টি সেলাই রেঞ্জ, নগদ ৩ হাজার ৩০৫ টাকা ও একজন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লাতিন আমেরিকার দেশগুলো ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে এগিয়ে যাচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:০০ এম


লাতিন আমেরিকার দেশগুলো ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে এগিয়ে যাচ্ছে

লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে ডানপন্থি সরকারগুলো ক্ষমতায় আসছে। এই সরকারের অনেকেই ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করার চেষ্টা করছে। কিছু সরকার তেল আবিব থেকে দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তরের ঘোষণা দিচ্ছে, আবার কেউ পুরোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠা করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন বলয়ের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা, ইভানজেলিক্যাল খ্রিষ্টানদের রাজনৈতিক প্রভাব এবং ইসরাইলের কূটনৈতিক তৎপরতা এর পেছনে রয়েছে।

গত ৮ অক্টোবর ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার ঘোষণা করেন, কলম্বিয়া তাদের দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তর করবে। তিনি এ ঘটনাকে ইসরাইলের কূটনৈতিক অবস্থানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।

সার বলেন, "এটি লাতিন আমেরিকার সরকারগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উষ্ণ হওয়ারও ইঙ্গিত।" তিনি আরও বলেন, ব্রাজিলও শিগগির কলম্বিয়ার সঙ্গে যোগ দিতে পারে। লাতিন আমেরিকার যেসব দেশ দূতাবাস জেরুজালেমে সরিয়েছে, তাদের তালিকায় ব্রাজিলের নামও যুক্ত হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। জেরুজালেমকে ইসরাইল ও ফিলিস্তিন—উভয় পক্ষই নিজেদের রাজধানী হিসেবে দাবি করে।

ইসরাইলের সঙ্গে লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর সম্পর্কের এই পরিবর্তন এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন অঞ্চলটিতে ডানপন্থি দলগুলোর প্রভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইসরাইলপন্থি রাজনীতিকেরা দেশটির প্রতি সমর্থনকে ভোটারদের কাছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন।

বৃহত্তম দেশ ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন চলছে। সেখানে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। বামপন্থি ও ফিলিস্তিনের কট্টর সমর্থক প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ডানপন্থি সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো। প্রচারে বলসোনারো ইসরাইলের পতাকা প্রদর্শন করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে নিজের বন্ধুত্বের কথা তুলে ধরেছেন। প্রথম দফার ভোটে প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ফল করার পর বলসোনারো রান-অফ নির্বাচনে লুলার মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। এতে ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতো কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

গত মাসে কলম্বিয়া ও ইসরাইল দুই দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা ছাড়াই যাতায়াতের সুযোগ চালু করেছে। এটি দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্গঠনের আরেকটি ইঙ্গিত। গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধের পর দুই দেশের সম্পর্ক ছিন্ন হয়েছিল। নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এস্প্রিয়েলা ক্ষমতায় আসার পর সেই অবস্থান পাল্টানোর উদ্যোগ নিয়েছেন।

মেক্সিকোর কলেজের আন্তর্জাতিক অধ্যয়নকেন্দ্রের গবেষক মার্তা তাওয়িল কুরি মনে করেন, এই পরিবর্তনের পেছনে একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করছে। নতুন নেতারা ওয়াশিংটনের সমর্থন পেতে চান। ইভানজেলিক্যাল খ্রিষ্টানদের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সমর্থন তাদের শক্তি জোগাচ্ছে। একই সময়ে ইসরাইলও লাতিন আমেরিকায় কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে ইসরাইলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও লাতিন আমেরিকায় তারা সমর্থন আদায়ের সুযোগ খুঁজছে।

একের পর এক দেশের অবস্থান বদল

কলম্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধকে গণহত্যা আখ্যা দিয়ে দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন। তিনি ইসরাইলে কলম্বিয়ার কয়লা রপ্তানি বন্ধ করেন, সামরিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা স্থগিত করেন এবং ফিলিস্তিনে কলম্বিয়ার দূতাবাস খোলার পরিকল্পনা করেন। বামপন্থি সাবেক এই গেরিলা যোদ্ধা প্রকাশ্যে ইসরাইলের সমালোচনা করতেন। এমনকি জাতিসংঘের সম্মেলনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে গিয়ে তিনি ট্রাম্প ও গাজায় যুদ্ধের বিরুদ্ধে বিক্ষোভেও অংশ নেন।

গত আগস্টে ক্ষমতায় আসার পর তার উত্তরসূরি দে লা এস্প্রিয়েলা দ্রুত ইসরাইলের বিষয়ে দেশের অবস্থান বদলাতে শুরু করেন। তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে দূতাবাস সরানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। পাশাপাশি রাষ্ট্রদূত পুনর্নিয়োগ এবং অধিকৃত সিরীয় ভূখণ্ড গোলান মালভূমির ওপর ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণকে স্বীকৃতি দেওয়ার পদক্ষেপ নেন।

কুরির মতে, লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা অনেক বেশি। অন্যদিকে, কূটনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো তুলনামূলক দুর্বল এবং পেশাদারিত্বের ঘাটতি রয়েছে। ফলে নতুন রাষ্ট্রপ্রধানেরা ক্ষমতায় এসেই ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দ্রুত অবস্থান বদলাতে পারেন।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন প্রশাসনের সময় ইসরাইলের প্রতি সমর্থন তুলনামূলক স্থিতিশীল থেকেছে। এর পেছনে রয়েছে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান ও দুই প্রধান দলের মধ্যে ঐকমত্য। কিন্তু লাতিন আমেরিকার অনেক দেশে সেই প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা নেই। তাই এক নির্বাচনের পরই পররাষ্ট্রনীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

২০২৩ সালে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ডানপন্থি জনতুষ্টিবাদী নেতা হাভিয়ের মিলেই। তিনি দূতাবাস জেরুজালেমে সরানোর প্রতিশ্রুতি দেন, জাতিসংঘে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং নিজেকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে ইহুদিবাদী প্রেসিডেন্ট’ বলে গর্ব প্রকাশ করেন।

বলিভিয়ায় ২০০৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা বামপন্থি নেতা ইভো মোরালেস ইসরাইলের সঙ্গে পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক রাখতে চাননি। তার উত্তরসূরি লুইস আরসের সময়ও এ অবস্থান বজায় ছিল। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর গাজায় যুদ্ধ শুরুর প্রেক্ষাপটে আরসে অঞ্চলটির অন্য কয়েকজন বামপন্থি নেতার সঙ্গে ইসরাইল থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করেন। গত বছর নির্বাচনে আরসে পরাজিত হলে নতুন প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ দ্রুত সেই নীতি পাল্টে দেন।

গত আগস্টে চিলির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর হোসে আন্তোনিও কাস্তও তার বামপন্থি পূর্বসূরির ইসরাইলবিরোধী পদক্ষেপগুলো বাতিল করেন। ইসরাইলে এমন একজন রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেন, যিনি নিজেকে ‘গর্বিত ইহুদিবাদী’ বলে পরিচয় দেন।

হন্ডুরাসে গত জানুয়ারিতে বামপন্থি সরকারের পরিবর্তে ডানপন্থি সরকার ক্ষমতায় আসে। নতুন প্রেসিডেন্ট নাসরি আসফুরার পূর্বপুরুষেরা ফিলিস্তিনের বেথলেহেম থেকে হন্ডুরাসে গিয়েছিলেন। তিনিও এ বছর ইসরাইলে রাষ্ট্রদূত পুনর্নিয়োগ দেন।

অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলা গত আগস্টে ইসরাইলের সঙ্গে কনস্যুলার সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয়। এর মধ্য দিয়ে নিকোলাস মাদুরো ও হুগো চাভেজের আমলে প্রায় দুই দশক ধরে চলা বৈরী অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দেয় দেশটি।

তবে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করলেও লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশ গাজায় যুদ্ধ নিয়ে আন্তর্জাতিক আইনি উদ্যোগে সমর্থন দিয়েছে। মেক্সিকো, বলিভিয়া, কলম্বিয়া, ব্রাজিল, চিলি, বেলিজ, কিউবা ও নিকারাগুয়া বিভিন্ন সময়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে ইসরাইলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার করা গণহত্যার মামলার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

ট্রাম্পের বলয়ে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা

গত জুলাইয়ে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচার শুরু করেন ফ্লাভিও বলসোনারো। ওই অনুষ্ঠানে তার পাশে ছিলেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। সেখানে উপস্থিত অনেকের হাতে ইসরাইলের পতাকা ছিল। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও ভিডিও বার্তায় বলসোনারোকে বন্ধু এবং দুই দেশের জনগণের বন্ধুত্বের ‘মহান সমর্থক’ বলে উল্লেখ করেন।

ওয়াশিংটনভিত্তিক সেন্টার ফর ইকোনমিক অ্যান্ড পলিসি রিসার্চের আন্তর্জাতিক নীতিবিষয়ক পরিচালক আলেকজান্ডার মেইন বলেন, লাতিন আমেরিকার নির্বাচনী প্রচারে বিদেশি নেতাদের এভাবে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দেওয়া আগে দেখা যায়নি। অন্তত এত প্রকাশ্যভাবে এমন ঘটনা ঘটেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, বলসোনারোর প্রচারশিবির নিজেদের এমন একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক বলয়ের অংশ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে, যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন ট্রাম্প। এই বলয়ের আন্তর্জাতিক অংশীদারদের মধ্যে রয়েছে ইসরাইল। কলম্বিয়ার দে লা এস্প্রিয়েলা ও হন্ডুরাসের আসফুরার মতো কয়েকজন নেতা ট্রাম্পের সরাসরি সমর্থনও পেয়েছেন।

এ নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা নতুন ডানপন্থি জোটগুলোর সঙ্গেও যুক্ত হয়েছেন। এর একটি হলো ‘শিল্ড অব দ্য আমেরিকাস’। মাদকবিরোধী নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে গঠিত এ জোটে রয়েছে আর্জেন্টিনা, বলিভিয়া, চিলি, কলম্বিয়া, কোস্টারিকা, ডোমিনিকান রিপাবলিক, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, গায়ানা, হন্ডুরাস, পানামা, প্যারাগুয়ে, পেরু এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগো।

ট্রাম্পের পশ্চিম গোলার্ধবিষয়ক নীতির অংশ এই উদ্যোগের লক্ষ্য, চীনের মতো অন্য বৈশ্বিক শক্তির প্রভাব ঠেকানো। এই বলয়ের সদস্য দেশগুলোর কয়েকটি অভিবাসন ঠেকাতে বিতর্কিত মার্কিন নীতিতেও সহযোগিতা করছে। যেমন এল সালভাদর যুক্তরাষ্ট্র থেকে তৃতীয় দেশের নাগরিকদের বহিষ্কারের পর তাদের আশ্রয় দিচ্ছে।

মেইনের মতে, এসব দেশ মাদকবিরোধী অভিযানকে নতুন ধরনের সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ হিসেবে তুলে ধরছে। এর ভাষা ও দৃষ্টিভঙ্গিতে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের যুদ্ধের প্রভাব রয়েছে। তার ভাষায়, আগে লাতিন আমেরিকার বামপন্থি রাজনীতিকদের অনেকে গাজার পরিস্থিতিকে যুদ্ধাপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে অভিহিত করতেন। এখন অন্য একটি অংশ এটিকে দীর্ঘদিনের শত্রুর বিরুদ্ধে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবে দেখছে এবং সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের কাঠামোয় ব্যাখ্যা করছে।

মেইন আরো বলেন, ইসরাইলের সঙ্গে ভালো সম্পর্কের মাধ্যমে এসব দেশ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম পাওয়ার সুযোগও পেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে পেগাসাসের মতো উন্নত নজরদারি সফটওয়্যার ব্যবহার, সামরিক বিমান কেনা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশিক্ষণ। পেগাসাস তৈরি করেছে ইসরাইলের একটি সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান।

ইভানজেলিক্যাল খ্রিষ্টানদের প্রভাব ও ইহুদিবাদী উদ্যোগ

গত আগস্টে ব্রাজিলে যে সমাবেশে নেতানিয়াহুর ভিডিও বার্তা প্রচার করা হয়েছিল, সেটি ছিল দেশটির বড় ও প্রভাবশালী একটি ভোটারগোষ্ঠীর সমর্থন পাওয়ার চেষ্টাও। এই গোষ্ঠীর অনেকের কাছে ইসরাইলকে সমর্থন করা ধর্মীয় বিশ্বাসের অংশ।

ব্রাজিলের নিম্নকক্ষ চেম্বার অব ডেপুটিজের ৪০ শতাংশের বেশি সদস্য এবং সিনেটের এক-চতুর্থাংশের বেশি সদস্য ইসরাইলপন্থি ইভানজেলিক্যাল আইনপ্রণেতাদের জোট ‘ইভানজেলিক্যাল পার্লামেন্টারি ফ্রন্টের’ সঙ্গে যুক্ত। এই অনানুষ্ঠানিক জোট আলাদা রাজনৈতিক দল গঠন করলে তা দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম দলে পরিণত হতে পারে।

মেইনের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলো ক্রমেই রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হয়েছে। ফলে রাজনীতিকদের জন্য তাদের সমর্থন পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইসরাইলের পক্ষে অবস্থান নেওয়া সেই সমর্থন আদায়ের একটি উপায়।

ব্রাজিলের বাইরেও ইভানজেলিক্যাল খ্রিষ্টানদের প্রভাব দেখা যাচ্ছে। কুরির মতে, বিশেষ করে খ্রিষ্টীয় ইহুদিবাদ হন্ডুরাস ও গুয়াতেমালার মতো দেশে গুরুত্বপূর্ণ ও ক্রমবর্ধমান শক্তি হয়ে উঠেছে। ওই দুই দেশের জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশ ইভানজেলিক্যাল খ্রিষ্টান। দুই দেশই তাদের দূতাবাস জেরুজালেমে সরিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংগঠনও লাতিন আমেরিকায় ইসরাইলের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছে। ফ্লোরিডাভিত্তিক ইভানজেলিক্যাল যাজক মারিও ব্রামনিকের নেতৃত্বাধীন ‘লাতিনো কোয়ালিশন ফর ইসরাইল’ এ অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে প্রতিনিধি দল পাঠায়। সংগঠনটি গুয়াতেমালা, এল সালভাদর, ব্রাজিল, পানামা, চিলি ও কোস্টারিকার নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে।

সংগঠনটির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ইসরাইলের প্রতি তাদের সমর্থনের মূল ভিত্তি বাইবেল। তাদের বক্তব্য, ঈশ্বর ইসরাইলের ভূমি এবং জেরুজালেমকে অবিভক্ত রাজধানী হিসেবে ইহুদি জনগণের জন্য চিরস্থায়ী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে দিয়েছেন। এ প্রতিবেদন নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি ব্রামনিকের একজন মুখপাত্র।

২০২৫ সালে ইসরাইলের সরকারের সমর্থনপুষ্ট অলাভজনক সংস্থা জেনেসিস প্রাইজ আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট মিলেইকে ১০ লাখ ডলার পুরস্কার দেয়। ১০ কোটি ডলারের তহবিল নিয়ে গঠিত সংস্থাটি ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর অন্যতম কঠিন সময়ে দেশটির প্রতি মিলেইয়ের ‘দ্ব্যর্থহীন সমর্থনের’ স্বীকৃতি হিসেবে এ পুরস্কার দেয়।

মিলেই সেই অর্থ দিয়ে ‘আইজ্যাক অ্যাকর্ডস’ উদ্যোগ গড়ে তোলেন। এর আদল নেওয়া হয়েছে ট্রাম্পের সমর্থনপুষ্ট ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ থেকে, যার লক্ষ্য ইসরাইল ও আরব বিশ্বের মধ্যে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।

আইজ্যাক অ্যাকর্ডসের মাধ্যমে লাতিন আমেরিকার ইসরাইলপন্থি নাগরিক সংগঠনগুলোকে অনুদান দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ডানপন্থি সরকারগুলো ইসরাইলের প্রতি সমর্থন জানাতে কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তার বিস্তারিত হিসাব রাখা হয়। এর মধ্যে রয়েছে দূতাবাস জেরুজালেমে সরানো এবং জাতিসংঘে ইসরাইল-সম্পর্কিত প্রস্তাবে ভোট দেওয়ার ধরন।

গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় অধিকাংশ শ্রোতা প্রতিবাদ জানিয়ে সভাকক্ষ ত্যাগ করেন। এরপর তার সফরের শেষ দিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বলিভিয়া, পানামা ও প্যারাগুয়ের নেতাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। নেতানিয়াহু তাদের আইজ্যাক অ্যাকর্ডসে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, ইসরাইলের সঙ্গে ‘বন্ধুত্ব ও অংশীদারত্বের পরিধি বাড়ানোই’ তার লক্ষ্য।

এএম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হালান্ডের জোড়া গোলে সিটির ৩-২ জয়, মারেস্কার নতুন রেকর্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:০১ এম


হালান্ডের জোড়া গোলে সিটির ৩-২ জয়, মারেস্কার নতুন রেকর্ড

ম্যানচেস্টার সিটি, আর্লিং হালান্ডের দুটি গোল এবং ফিল ফোডেনের একটি গোলের মাধ্যমে ইপসউইচ টাউনকে ৩-২ গোলে পরাজিত করেছে। শনিবার ইতিহাদ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচের ফলে প্রিমিয়ার লিগে টানা সাতটি ম্যাচ জিতে শতভাগ সাফল্য বজায় রেখেছে সিটি। কোচ এনজো মারেস্কা নতুন রেকর্ড গড়েছেন, যিনি প্রিমিয়ার লিগে কোনো ক্লাবের দায়িত্বে প্রথম সাত ম্যাচেই জয়লাভের কৃতিত্ব অর্জন করেছেন।

সিটি শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল প্রদর্শন করে। ১৯ মিনিটে জেরেমি ডোকুর পাস থেকে গোল করে ফিল ফোডেন দলকে এগিয়ে নেন। তবে এই আনন্দ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। দুই মিনিট পর দাইচেন মায়েদার গোলে সমতা ফেরায় ইপসউইচ। সফরকারীরা ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও বিরতির আগে আবারও পিছিয়ে পড়ে।

৩৪ মিনিটে মাতেও কোভাচিচের ক্রস থেকে হেডে গোল করে সিটিকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন হালান্ড। বিরতির পরেও নরওয়েজীয় স্ট্রাইকারের গোলের ক্ষুধা থেমে থাকেনি। ৬৯ মিনিটে ইলিমান এনদিয়ায়ের পাস ধরে নিখুঁত শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি।

শেষ দিকে সিটি আরও গোল করার সুযোগ পায়। হালান্ডের হ্যাটট্রিকের সম্ভাব্য গোলটি অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। এরপর ৮৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে জিয়ান ফ্লেমিং গোল করলে ইপসউইচের ম্যাচে ফেরার আশা জাগে। তবে শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা।

এই জয়ের পরও সিটির জন্য উদ্বেগের বিষয় হলো হালান্ডের চোটের শঙ্কা। ম্যাচ শেষে তিনি খুঁড়িয়ে মাঠ ছাড়েন। এদিন পেনাল্টি ছাড়া প্রিমিয়ার লিগে ১০০ গোলের মাইলফলকও স্পর্শ করেন হালান্ড, যা অর্জন করতে তাঁর লেগেছে মাত্র ১৩৯ ম্যাচ; প্রতিযোগিতাটির ইতিহাসে এটি দ্রুততম।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%