প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) জানিয়েছে, তারা এক রাতে টানা চার জায়গায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ শিশা উদ্ধার করেছে। আন্দোলের পাশাপাশি তিনজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।
শুক্রবার অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত একটি সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পরিচালক (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ বদরুদ্দীন জানান, রাজধানীর গুলশান ও ভাটারা এলাকায় এই ‘সমন্বিত বিশেষ অভিযানে’ তারা ৬৫ কেজি ৯০০ গ্রাম শিশা, ৪১টি হুক্কা, শিশা সেবনের ৪০ কেজি কয়লার পাশাপাশি ৫টি মোবাইল ফোন জব্দ করেছেন।
বদরুদ্দীন বলেন, এই একক অভিযানে শিশা উদ্ধারের এটাই ‘সবচেয়ে বড়’ ঘটনা, যা দেশে ঘটেছে। তিনি উল্লেখ করেন, অভিযানের সময় তারা একটি ‘আন্তর্ভাগে অনলাইন মাদক চক্রের হোতা’ আহমেদ শরীফি (৩৪), মেহদাদ শরীফি (৩৪) নামে দুই ভাই এবং মাকসুদ আলম নামে আরেক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছেন।
তিনি আরও বলেন, আহমেদ ও মেহদাদ ইরান থেকে শিখে আসার পর দেশে এই শিশার ব্যবসা শুরু করেন। “দুই ভাইয়ের নেতৃত্বে একটি চক্র ফেইসবুকের মাধ্যমে ঢাকাসহ সারাদেশে অনলাইনে অবৈধ শিশা ও শিশা সেবনের উপকরণ বিক্রির কাজ করে আসছিল” জানান বদরুদ্দীন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, একটি ফেসবুক পেজের মাধ্যমে অর্ডার করা শিশার দুটি চালান কুরিয়ারের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছে পাঠানোর খবর পেয়ে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে একটি দল গত বৃহস্পতিবার বসুন্ধরা আবামিক এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। সেখান থেকে তারা ১ কেজি শিশাসহ একটি পার্সেল জব্দ করতে সক্ষম হন।
পরে, একই ফেসবুক থেকে অর্ডার করা আরও ১ কেজি শিশাসহ দ্বিতীয় পার্সেলটি মালিবাগ থেকে জব্দ করা হয়। পার্সেল দুটির প্রেরকের ঠিকানা যাচাই করার পর, ওইদিনই কালাচাঁদপুরে একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে দুই ভাই আহমেদ শরীফি ও মেহদাদ শরীফিকে আটক করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে আরো ৪৫ কেজি ৯০০ গ্রাম শিশা এবং ২০টি হুক্কা উদ্ধার করা হয়। বদরুদ্দীন বলেন, “দুই ভাই আমাদের জানায়, তারা মাকসুদ আলম নামে আরেক ব্যক্তির কাছ থেকে শিশার একটি বড় অংশ নিয়ে থাকেন। এরপর তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর ভাটারা থানাধীন নূরেরচালা এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে মাকসুদ আলমকে আটক করা হয়ে, সেখানে আরও ১৮ কেজি শিশা ও ২১টি হুক্কা উদ্ধার করা হয়।”
এছাড়া, দুই ভাই আহমেদ শরীফি ও মেহদাদ শরীফি দীর্ঘদিন ইরানে ছিলেন জানিয়ে অতিরিক্ত পরিচালক বলেন, সেখানে তারা শিশা ব্যবসার কার্যক্রম, বাজারব্যবস্থা এবং সরবরাহ পদ্ধতি সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করে। পরে বাংলাদেশে ফিরে তারা একই ব্যবসায়িক মডেল অনুসরণ করে অনলাইনে শিশা বিক্রির নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে এবং ধীরে ধীরে দেশের বিভিন্ন জেলায় তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন