প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ হবিগঞ্জ শহরের পুরাতন হাসপাতাল সড়ক এলাকায় ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা এই হামলা চালান। হামলার সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ছাত্রদলের নেতা–কর্মীদের হামলা থেকে বাঁচতে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে সার্কিট হাউসে চলে আসেন। এরপর তিনি ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেন।
অন্যদিকে, সারজিস আলম সোনালী ব্যাংকের কার্যালয়ে আশ্রয় নেন। সেখানে ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা তাঁকে প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে পুলিশ এসে সারজিস আলমকে উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়। বর্তমানে তিনি সেখানে অবস্থান করছেন।
দুই নেতার গাড়িতে হামলার খবর শুনে প্রতিরোধ করতে যাওয়ার সময় এনসিপি নেতা–কর্মীদের সঙ্গে ছাত্রদলের নেতা–কর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রায় ১৫ জন আহত হন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন বিকেল পাঁচটার দিকে হবিগঞ্জ শহরের টাউনহলে এনসিপির একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সারজিস আলমসহ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশ শেষে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী একটি জিপ গাড়িতে করে সমাবেশস্থল থেকে হবিগঞ্জ সার্কিট হাউসের দিকে রওনা দেন। কিন্তু তাঁর গাড়িটি শহরের পুরাতন হাসপাতাল সড়কের এলাকায় পৌঁছালে ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা তাঁর গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। দ্রুত গতিতে গাড়িটি প্রায় এক কিলোমিটার দূরের সার্কিট হাউসে গিয়ে আশ্রয় নেয়।
এ ঘটনার পর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়ির পেছনে থাকা সারজিস আলমের গাড়িতেও ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া শুরু হয়। ফলে সারজিসের গাড়ি দ্রুত গতিতে হবিগঞ্জ সোনালী ব্যাংকে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।
এই সময় এনসিপির নেতা–কর্মীদের সঙ্গে জেলা ছাত্রদলের নেতা–কর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চালানোর ফলে শহরের প্রধান সড়ক দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
সারজিস আলম সোনালী ব্যাংকে অবস্থান করছেন, এই খবর পাওয়ার পর ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে এসে ব্যাংকটি ঘেরাও করে। পরে পুলিশ এসে রাত আটটার দিকে ছাত্রদল নেতা–কর্মীদের সরিয়ে দিয়ে সারজিস আলমকে উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়।
এ ঘটনার জন্য বিএনপিকে দায়ী করেছেন এনসিপি নেতারা। এ বিষয়ে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান বলেছেন, এনসিপি নেতাদের উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তাদের বক্তব্যের ফলে নেতা–কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী হবিগঞ্জের কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেছেন, বিএনপি জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, বিএনপির নেতা-কর্মীদের একটি অংশ বিভিন্ন অনিয়ম ও অপকর্মের সঙ্গে জড়িত।
এনসিপির নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেন, জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়া হবে না এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে এনসিপি তাদের কর্মসূচি চালিয়ে যাবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন