প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে চলমান ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। দিনের বিভিন্ন সময় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে গেছে। বিশেষত স্কুল-কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনে অসংখ্যবার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করে। অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ নেই। প্রচণ্ড গরমের কারণে শিশু, বৃদ্ধ এবং অসুস্থ রোগীরা বিশেষভাবে কষ্ট ভোগ করছেন। ব্যবসা-বাণিজ্যেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, কারণ বিদ্যুৎ না থাকায় দোকানপাট, ছোট শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং নানা ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা জানিয়েছেন, সামনে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার সময় ঘনিয়ে আসছে, কিন্তু নিয়মিত বিদ্যুৎ না থাকায় সন্তানরা সঠিকভাবে পড়াশোনা করতে পারছে না। সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ না থাকলে অনেককে বাধ্য হয়ে মোমবাতি বা চার্জলাইটের আলোয় পড়তে হচ্ছে, যা তাদের শিক্ষাজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এদিকে সাধারণ মানুষের অভিযোগ, এমন ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকট চললেও বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কিংবা রাজনৈতিক নেতাদের কোনও দৃশ্যমান উদ্যোগ বা বক্তব্য দেখা যাচ্ছে না। এতে উপজেলা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
একজন ভুক্তভোগী বলেছেন, "আমরা নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল দিচ্ছি, কিন্তু প্রয়োজনের সময় বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। দিনের পর দিন এই ভোগান্তি চললেও আমাদের সমস্যার কথা কেউ গুরুত্ব দিচ্ছে না।"
আরেকজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেছেন, "বিদ্যুৎ না থাকায় সন্তানরা ঠিকমতো পড়তে পারছে না। সামনে পরীক্ষা, কিন্তু এমন অবস্থায় ভালো ফলাফলের আশা করা কঠিন।"
স্থানীয়দের দাবির মধ্যে রয়েছে, নাসিরনগরের বিদ্যুৎ সংকটের প্রকৃত কারণ দ্রুত তদন্ত করে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এখন প্রশ্ন একটাই— নাসিরনগরের মানুষের এই দুর্ভোগের শেষ কবে? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কত দ্রুত সাধারণ মানুষের এই ন্যায্য দাবির প্রতি সাড়া দেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন