প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ৪ আগস্ট, ২০২৬ : ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, বিএনপি সরকার জনগণের সরকার। তাই সরকারের কাছে জনগণের গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানিসহ সব মৌলিক চাহিদা পূরণে প্রতিশ্রুতি রয়েছে। দেশে পরিবর্তন শুরু হয়ে গেছে এবং এই পরিবর্তনের ধারা কখনো থেমে যাবে না। আমরা কোনো কিছুতেই ভয় পাই না।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে ডিএনসিসির ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব মানিকদি ও উত্তর মানিকদির রাস্তার উন্নয়নসহ বিভিন্ন উন্নয়নকাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা জানান।
প্রশাসক বলেন, জনগণ ভোট দিয়ে তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর জনগণের প্রতি যেমন দায়বদ্ধতা রয়েছে, তেমনি তাঁর কর্মী হিসেবে জনগণের কাছে সঠিক সেবা পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বও সংশ্লিষ্টদের রয়েছে। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী একজন মানবিক নেতা এবং তিনি জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। আমরা তাঁর নির্দেশনা বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছি।
তিনি আরও বলেন, রাজধানীকে আরও বাসযোগ্য ও সবুজ নগরীতে পরিণত করতে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে ডিএনসিসি। বৃক্ষরোপণ, জলাবদ্ধতা নিরসন, মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণ এবং নগরবাসীর নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করার জন্য এগুলো করা হচ্ছে।
শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ঢাকা শহরের জনসংখ্যা এখন এর ধারণক্ষমতার অনেক বেশি। অতীতে যেখানে এক বা দুইতলা ভবন ছিল, সেখানে এখন বহুতল ভবন নির্মিত হয়েছে এবং একই এলাকায় জনসংখ্যার ঘনত্ব বহুগুণ বেড়েছে। ফলে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে এবং জনগণের সহযোগিতা পেলে সফল হওয়া সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময় এলপিজি ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি করায় প্রাকৃতিক গ্যাসের সংকট তৈরি হয়েছে। এছাড়া অতীত সরকারের কারণে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ জনগণের কাছে যথাযথভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়নি। বর্তমান সরকার জনগণের কাছে এসব সেবা সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছে।
ডিএনসিসি প্রশাসক গত ১৮ বছরে জনগণের করের অর্থ ব্যাপকভাবে পাচার হয়েছে উল্লেখ করে বলেন, নগরবাসীর জীবনমান উন্নয়নে সিটি কর্পোরেশন সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। তবে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড টেকসই করতে নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি নগরবাসীর প্রতি সময়মতো হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ এবং উন্নয়নকাজ সংরক্ষণে সহযোগিতার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জনগণ সহযোগিতা করলে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হবে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রশাসক বলেন, প্রতিটি পরিবারকে নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। কোথাও পরিষ্কার পানি জমতে দেওয়া যাবে না, কারণ পরিষ্কার পানিতেই এডিস মশার লার্ভা জন্মায়। বিশেষ করে ছাদবাগানের টব বা পাত্রে জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণ করতে হবে।
তিনি জানান, অবৈধভাবে দখল হওয়া ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন সব খাল উদ্ধার করে পুনঃখনন করা হবে এবং খালের দুই পাশে নগরবাসীর চলাচলের জন্য ওয়াকওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা অনুযায়ী এ বিষয়ে প্রকল্প প্রস্তুতের কাজ চলছে। খাল দখলমুক্ত করতে নগরবাসীর সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।
ডিএনসিসির সব উন্নয়ন প্রকল্প যথাসময়ে ও নিয়মনীতি মেনে বাস্তবায়নের জন্য ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সবাই মিলে একযোগে কাজ করলে দেশের উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে এবং ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্য বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।
ডিএনসিসির জোন-২-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা জুলকারনাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রাকিবুল হাসানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন