প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফেরি সার্ভিস চালুর পর ভারী যানবাহনের চলাচল বেড়ে গেছে, তবে প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়ক এখনো অপ্রশস্ত রয়েছে।
চট্টগ্রাম থেকে ১৪ টন রড বোঝাই করে সন্দ্বীপে আসার পথে একটি ট্রাক সড়কের পাশের ড্রেনে পড়ে উল্টে গেছে। এই ঘটনায় বড় ধরনের কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১টার দিকে উপজেলার মালেক মুন্সি বাজার থেকে পশ্চিম সাইদ সেরাং মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটির নম্বর ঢাকা মেট্রো-১৬-৬৯৯৮। এটি দেওয়ানহাট ট্রাক মালিক সমিতির একটি ট্রাক বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ট্রাকটি রড বোঝাই করে যাওয়ার সময় একটি গাড়িকে ওভারটেক করার চেষ্টা করলে সড়কের পাশের ড্রেনে পড়ে উল্টে যায়। এ সময় স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হন। ট্রাকটি উল্টে গেলেও বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্দ্বীপের প্রধান সড়ক গুপ্তছড়া সড়কের বড় একটি অংশ এখনো মাত্র ১২ ফুট প্রশস্ত রয়েছে। ২০২৫ সালের আগে এই সড়কে মূলত কৃষিকাজে ব্যবহৃত ট্রাক্টর, ট্রলি, গরুর গাড়ি ও ভ্যানের মাধ্যমে পণ্য পরিবহন হতো। যাত্রীদের চলাচল ছিল রিকশা, টেম্পু ও মাইক্রোবাসে।
২০২৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি সন্দ্বীপ-চট্টগ্রাম নৌরুটে ফেরি সার্ভিস চালু হওয়ার পর সড়কটিতে বড় ট্রাক, বাস, হাইস, পিকআপসহ বিভিন্ন ভারী যানবাহনের চলাচল বেড়ে যায়। ফলে অপ্রশস্ত সড়কে যানবাহন চলাচল ও পরস্পরকে অতিক্রম করার সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালে প্রায় ২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটির উন্নয়নকাজের টেন্ডার হয়। তবে ১৮ ফুট প্রশস্ত করার কাজ মূলত বাজারসংলগ্ন অংশে করা হয়েছে। প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়কের বাকি অংশ এখনো ১২ ফুট প্রশস্ত রয়েছে।
এদিকে সড়কের দুই পাশে বিভিন্ন দোকানের সামনে থাকা ড্রেনগুলোও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। অনেক স্থানে ড্রেন ও সড়কের মধ্যকার পার্থক্য স্পষ্টভাবে বোঝা যায় না। কোথাও ড্রেনের ওপর যথাযথ ঢাকনা বা নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকায় বড় যানবাহনের চালকেরা বিশেষ করে সন্ধ্যা ও রাতে ঝুঁকিতে পড়ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ফেরি সার্ভিস চালুর পর সন্দ্বীপের সড়কে ভারী যানবাহনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কিন্তু যানবাহনের চাপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পুরো সড়কটি প্রশস্ত করা হয়নি। একই সঙ্গে সড়কের পাশের ড্রেনগুলো নিরাপদ ও দৃশ্যমান করা না হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা আরও ঘটতে পারে।
তাদের দাবি, গুপ্তছড়া সড়কের অবশিষ্ট ১০ কিলোমিটার অংশ দ্রুত প্রশস্ত করার পাশাপাশি সড়কের দুই পাশের ড্রেনগুলো সংস্কার, ঢাকনা স্থাপন ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন