মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:৫৫ এম
খুলনার কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নে জমি দখলের চেষ্টা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হয়রানিমূলক মামলার অভিযোগ জালিয়াতির মাধ্যমে জমির কাগজপত্র তৈরি করার ঘটনা সামনে এসেছে। এ বিষয়ে প্রতিকার ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগীরা।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১ টায় কয়রা উপজেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মহারাজপুর গ্রামের মৃত উজির আলীর পুত্র মো. আবুল হোসেন গাজী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মো. আশরাফ আলী, মো. রফিকুল ইসলাম গাজী সহ অন্যান্যরা। আবুল হোসেন গাজী তার লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন, মহারাজপুর মৌজার কয়েকটি খতিয়ানের জমি তারা দীর্ঘদিন ধরে ক্রয় ও ওয়ারিশসূত্রে ভোগদখল করে আসছেন। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট জমির মধ্যে প্রায় ৯৯ শতক জমি রেকর্ডীয় মালিকদের ওয়ারিশদের কাছ থেকে ক্রয় করা হয়েছে। পরবর্তীতে আরও প্রায় ৩৭ শতক জমি ক্রয় করে তারা দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে রয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সম্প্রতি মঠবাড়ি গ্রামের মোবারক আলী গাজী ও তার পরিবারের সদস্যরা ওই জমির দখল নেওয়ার চেষ্টা করছেন। অভিযোগ রয়েছে, তারা জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে কাগজপত্র তৈরি করে একটি খতিয়ানের প্রায় ১ দশমিক ১৬ শতক জমি নিয়ে ‘ভুয়া রেকর্ড’ প্রস্তুত করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, খুলনা জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে খোঁজ নিয়ে সংশ্লিষ্ট জমির বিষয়ে তাদের দাবির পক্ষে অন্য কোনো কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। তবুও প্রতিপক্ষ জমি দখলের চেষ্টা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বিভিন্ন ধরনের হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
লিখিত বক্তব্যে আবুল হোসেন আরও জানান, এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। তবে একটি ফেসবুক পোস্টের বিষয়ে ভুল বুঝতে পেরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পরে পোস্টটি সরিয়ে নিয়েছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। ভুক্তভোগীরা জানান, তারা শান্তিপ্রিয় মানুষ। জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি আইনগতভাবে নিষ্পত্তি করার পাশাপাশি জাল কাগজপত্র তৈরি, জমি দখলের চেষ্টা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমির কাগজপত্র যাচাই, দখল রক্ষা এবং হয়রানি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
"সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি" এবং "শান্তিতে বিনিয়োগ করুন, সকলের জন্য, সর্বত্র, প্রতিদিন" এই স্লোগানকে সামনে রেখে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস ২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। এই বিশেষ দিবসটি উপলক্ষে ২১ সেপ্টেম্বর সোমবার সকাল ১০ টায় একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। শোভাযাত্রাটি শুরু হয় মোরেলগঞ্জের কাপুড়িয়া পট্টি মুক্তিযোদ্ধা অফিস চত্বর থেকে এবং মোরেলগঞ্জ পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
মাল্টি-স্টেকহোল্ডার ইনিশিয়েটিভ ফর পিস অ্যান্ড স্ট্যাবিলিটি (গওচঝ) প্রজেক্টের আওতায় এবং ইউকে ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ও দি হাঙ্গার প্রজেক্টের সহোযোগিতায়, এই শোভাযাত্রাটি আয়োজন করে মোরেলগঞ্জের পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ (পিএফজি) এবং ইয়ুথ পিস অ্যাম্বাসেডর গ্রুপ (ওয়াইপিএজি)। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পিএফজি কোঅর্ডিনেটর ফারুক হোসেন সামাদ, পিএফজি অ্যাম্বাসেডর ও বিএনপির সংগঠনিক সম্পাদক সাবিনা ইয়াসমিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুর আমিন ফকির।
এছাড়াও, উপস্থিত ছিলেন পিএফজি অ্যাম্বাসেডর ও জাতীয় পার্টির নেতা মাসুদ রেজা, এমআইপিএস প্রকল্পের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর মো. রেজবিউল কবির, ওয়েভের সমন্বয়কারী মাহমুদা খানম মুক্তা, সহ-সমন্বয়কারী ও সাংবাদিক শেফালী আক্তার রাখি। শোভাযাত্রায় স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, তরুণ সমাজ ও নারী উদ্যোক্তারা অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা এসময় সমাজে সংঘাত এড়িয়ে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কয়রায় কৌশলগত পরিকল্পনা বিষয়ে একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই কর্মশালাটি সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১ টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ফেইথ ইন এ্যাকশান- মুক্তির আহবান (সিফরআর) প্রকল্পের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়। এতে সহযোগিতা প্রদান করে কিন্ডারনটহিলফে (কেএনএইচ)- জার্মানী।
উপজেলা কৃষি অফিসার তীলক কুমার ঘোষের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য প্রদান করেন উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোঃ আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার কেএম মফিজুর রহমান, মহিলা বিষয়ক অফিসার রেশমা আক্তার, ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সরদার নুরুল ইসলাম কোম্পানি, প্রকল্পের ব্যবস্থাপক ফারাহানা জাহান, কমিউনিটি ফেসিলিটেটর রাজর্শী মন্ডল, প্রিংয়ান্কা বিশ্বাস, ফাইমা খাতুন, অগ্রগামী এবং প্রত্যাশা সংগঠনের শারমিন আক্তার, মোহসিনা খাতুন, এনজিও প্রতিনিধি মুর্শিদা আক্তার, উপদেষ্টা মাসুম বিল্লাহ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, শিক্ষক, জনসংগঠনের সদস্য, সিপিসি সদস্য, উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য সহ প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। প্রকল্পের উদ্যোগে ২টি জন সংগঠনের সক্ষমতা দুর্বলতা, তাদের সুযোগ এবং ঝুঁকি নিরুপন করার মাধ্যমে ৩ বছরের জন্য পরিকল্পনা তৈরি করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
"আমার উপজেলা আমার দায়িত্ব, শিশুর জীবন হোক শিশুশ্রম ও বিদ্যালয় হতে ঝরে পড়া মুক্ত" এবং "শিশু শ্রম নয়, শিশুর জীবন হোক স্বপ্নময়" এই শ্লোগানকে সামনে রেখে দেবহাটায় সুশীলনের আয়োজন এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের অর্থায়নে দেবহাটা উপজেলাকে শিশুশ্রম মুক্ত ঘোষণা করেন সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন।
দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া ফুটবল মাঠে সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিলন সাহা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন। সুশীলনের কমিউনিটি ডেভলপমেন্ট অফিসার আসাদুজ্জামান রিপন ও জোৎসা বালার যৌথ সঞ্চালনায় শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সুশীলনের উপ-পরিচালক মোঃ মনিরুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেবহাটা উপজেলা শিক্ষা অফিসার সাইফুল ইসলাম, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার তরিকুল ইসলাম, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাসরিন জাহান, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মিজানুর রহমান, পারুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক বাবু, দেবহাটা সদর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন বকুল, নওয়াপাড়া ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোনায়েম হোসেন, দেবহাটা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি আর.কে.বাপ্পা, সুশীলনের ম্যানেজার মামুন হোসেন, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের কর্মকর্তা মিল্টন সিংহ, দেবহাটা থানার এসআই বিপ্লব মালাকার, কুলিয়া ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান ফাতেমা খাতুন, সখিপুর ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান সাজু পারভিন প্রমুখ।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এবং বক্তব্য রাখেন সুশীলনের কমিউনিটি ডেভলপমেন্ট অফিসার মিজানুর রহমান, দেবহাটা রিপোর্টার্স ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক কে এম রেজাউল করিম, উপকারভোগী শিক্ষার্থী আল আমিন, শাহিনুর রহমান ও আয়েশা খাতুন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন দেবহাটা উপজেলাকে শিশুশ্রম মুক্ত ঘোষণা করেন এবং সকলকে শিশুদের প্রতি যত্নশীল হওয়া ও তাদের ভবিষ্যতের কান্ডারী হিসেবে গড়ে তোলার আহবান জানান।
অনুষ্ঠানে শিশু চাইল্ড ফোরামের সভাপতি অনামিকা পাড় সকলকে শপথ বাক্য পাঠ করান। শেষে অতিথিবৃন্দ দেবহাটা উপজেলাকে শিশুশ্রম মুক্ত ঘোষণা সম্বলিত ফলক উন্মোচন করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যশোরের অভয়নগরে হত্যা মামলার আসামির তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ একটি পিস্তল, সাত রাউন্ড গুলি এবং একটি ওয়ান শুটারগান উদ্ধার করেছে। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে খুলনার ফুলতলা উপজেলার দক্ষিণডিহি গ্রামের সোবহান সরদারের বাঁশবাগান থেকে মাটির নিচে পুঁতে রাখা অবস্থায় এগুলো উদ্ধার করা হয়।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ সেপ্টেম্বর সকালে অভয়নগর উপজেলার শুভরাড়া ইউনিয়নের রানাগাতী গ্রামের একটি বাগান থেকে বাহারুল মল্লিকের (৪৩) গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বিল্লাল মল্লিক বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ৭ সেপ্টেম্বর রাতে অভয়নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় খুলনার ফুলতলা উপজেলার দক্ষিণডিহি গ্রামের মিনারুলের ছেলে রমজান আলীকে (২২) গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, বাহারুল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার রমজান আলীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৭ টার দিকে খুলনার ফুলতলা উপজেলার দক্ষিণডিহি গ্রামের সোবহান সরদারের বাঁশবাগানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় বাগানের পশ্চিম কোণে মাটিতে পুঁতে রাখা অবস্থায় একটি ৭.৬৫ বোরের ‘ইউপি’ লেখা পিস্তল, সাত রাউন্ড পিস্তলের গুলি এবং একটি দেশি তৈরী ওয়ান শুটারগান উদ্ধার করা হয়।
সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে অভয়নগর থানার ওসি (তদন্ত) শেখ লুৎফর রহমান বলেন, ‘বাহারুল মল্লিক হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি পিস্তল, সাত রাউন্ড পিস্তলের গুলি এবং একটি ওয়ান শুটারগান উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত অস্ত্র, গুলি এবং গ্রেপ্তার আসামি রমজান আলীকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ