প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কিছু কৃষক আখের পরিচর্যা করছেন, আবার কেউ পরিপক্ব আখ কেটে পাইকারদের কাছে বিক্রি করছেন। সকলেই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।
তবে তাদের মুখে তৃপ্তির ছাপ স্পষ্ট।
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বিভিন্ন আখক্ষেত ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা যায়।
কৃষকরা জানান, কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় এই উপজেলায় আখ চাষ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভালো ফলন ও বাজারের চাহিদার কারণে প্রতিবছরই তারা এই ফসল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
আট মাস পর বিক্রির উপযোগী হয়ে ওঠা আখের ফলন চলতি মৌসুমেও সন্তোষজনক। ফলে আখ চাষি ও ব্যবসায়ীরা উভয়েই খুশি।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গঙ্গাচড়ায় এ বছর ১০ হেক্টর জমিতে আখ চাষ হয়েছে। এর মধ্যে আলদাদপুর এলাকায় সবচেয়ে বেশি আখ চাষ হয়েছে।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে বেতগাড়ী ইউনিয়নের আলদাদপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানকার আখক্ষেতে কৃষকরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।
৪০ শতক জমিতে আখ চাষ করেছেন আলদাদপুরের কৃষক মন্টু দাস। তার ক্ষেতের আখ এখন বিক্রির জন্য প্রস্তুত। পাইকাররা সরাসরি ক্ষেত থেকে আখ তুলে নিয়ে যাচ্ছেন। একেকটি আখ ১৫ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মন্টু দাস বলেন, "আখ চাষে খরচ তুলনামূলক কম। প্রায় আট মাস পর আখ বিক্রি করা যায়। ক্ষেত থেকেই পাইকাররা আখ কিনে নিয়ে যান। তাই বাজারে নিয়ে বিক্রির ঝামেলা নেই। এবারের ফলনও ভালো হয়েছে।"
আখচাষি মহন্ত রায় জানান, "প্রতিবিঘা জমিতে ৩৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ করে আখ চাষ করা যায়। ভালো ফলন হলে এক লাখ ১২ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা সম্ভব। ন্যায্য দাম পেলে আগামীতে আরো বেশি জমিতে আখ চাষ করব।"
অন্য এক চাষি রতন চন্দ্র বলেন, নিয়মিত পরিচর্যা করলে আখের ফলন ভালো হয়। পাইকাররা ক্ষেত থেকে আখ কিনে নেওয়ায় পরিবহন খরচও লাগে না। অন্যান্য ফসলের তুলনায় আখ চাষে লাভ ভালো হওয়ায় তিনি এই চাষে আগ্রহী।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুবেল হুসেন বলেন, গঙ্গাচড়ার মাটি ও আবহাওয়া আখ চাষের জন্য উপযোগী। উৎপাদন বাড়াতে আধুনিক প্রযুক্তি ও চাষাবাদ বিষয়ে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সঠিক নির্দেশনা ও ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা গেলে আখ চাষ কৃষকদের লাভবান করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন