প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নিউ জিল্যান্ডের সাদা বলের অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার বিগ ব্যাশ লিগে খেলার একটি আকর্ষণীয় প্রস্তাব পেয়েও তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। ৩৪ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার দেশের ক্রিকেটকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের আর্থিক সুবিধার তুলনায় তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সম্প্রতি নিউ জিল্যান্ডের ক্রিকেটারদের মধ্যে কেন্দ্রীয় চুক্তি ত্যাগ করে ‘ক্যাজুয়াল’ চুক্তিতে যাওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে বিগ ব্যাশসহ বিশ্বের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। স্যান্টনারের জন্যও একই পথ খোলা ছিল। কিন্তু তিনি কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বিগ ব্যাশের সময় নিউ জিল্যান্ডের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মৌসুম চলতে থাকে, ফলে দেশটির ক্রিকেটারদের জন্য ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ এবং জাতীয় দলের দায়িত্বের মধ্যে একটি বেছে নেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়। টিম সাইফার্ট, অ্যাডাম মিল্ন, লকি ফার্গুসন, ফিন অ্যালেন ও মার্ক চ্যাপম্যান ইতোমধ্যে ‘ক্যাজুয়াল’ চুক্তির দিকে অগ্রসর হয়েছেন। সাবেক অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনও একই ধরনের চুক্তিতে ছিলেন।
নিউ জিল্যান্ডে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে আর্থিক আয় তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট অনেক ক্রিকেটারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে স্যান্টনার মনে করেন, দেশের ক্রিকেটে তার এখনও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
স্যান্টনার নিউ জিল্যান্ড হেরাল্ডকে বলেন, বিগ ব্যাশের প্রস্তাবটি সত্যিই আকর্ষণীয় ছিল এবং তিনি বিষয়টি নিয়ে গুরুত্ব সহকারে ভেবেছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, "মিথ্যা বলব না, প্রস্তাবটি ভালো ছিল। তারা জানত, চুক্তির শর্ত এবং সামনে যা কিছু আসবে, সবকিছু বিবেচনায় রেখেও প্রস্তাবটি আকর্ষণীয় হতে হবে। আমিও বিষয়টি নিয়ে ভেবেছিলাম। কিন্তু আমাদের সামনে যা কিছু আছে, সেদিকে তাকালে মনে হয়, টেস্টে আমি প্রতিটি ম্যাচ না খেললেও দলে আমার একটি ভূমিকা থাকবে।"
সাদা বলের অধিনায়কত্বও তার সিদ্ধান্তে একটি বড় ভূমিকা রেখেছে। ‘ক্যাজুয়াল’ চুক্তিতে থেকেও নেতৃত্ব চালিয়ে যাওয়ার সম্ভাব্য পথ নিয়ে বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল। তবে স্যান্টনার সেটিকে উপযুক্ত মনে করেননি।
তিনি আরও বলেন, "অধিনায়কত্ব ছাড়তে চাই না আমি। আমার জন্য তাই সিদ্ধান্তটি নেওয়া সহজ ছিল। অবশ্য এমন আলোচনাও হয়েছিল যে, একটা পথ বের করা যেত। কিন্তু কেন্দ্রীয় চুক্তিতে না থেকে অধিনায়কত্ব চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা এই পর্যায়ে ঠিক হতো কি না, সে ব্যাপারে আমি নিশ্চিত নই।"
নিউ জিল্যান্ডের সামনে একটি ব্যস্ত সাদা বলের সূচি রয়েছে। আগামী বছর ওয়ানডে বিশ্বকাপ এবং পরের বছর দেশের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে। স্যান্টনার দুটি টুর্নামেন্টেই দলের নেতৃত্ব দিতে চান। তিনি বলেন, "আগামী বছর ওয়ানডে বিশ্বকাপ আছে। তার পরের বছর নিউ জিল্যান্ডে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। আমি এসবের অংশ হতে চাই। তখনও যদি দলের নেতৃত্ব দিতে পারি, তাহলে দারুণ হবে।"
তবে সতীর্থদের ‘ক্যাজুয়াল’ চুক্তি বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করছেন না স্যান্টনার। বরং নিউ জিল্যান্ড ক্রিকেটের আর্থিক বাস্তবতা তিনি বুঝতে পারছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন