প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
এক যুগের কাছাকাছি সময় কাটিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নিতেই গিয়েছিলেন। তাঁর স্বপ্ন ছিল, দেশের আর্থিক অবস্থার উন্নতি করে দেশে ফিরে এক নতুন জীবন শুরু করবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন অপূর্ণই রয়ে গেল। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বাসিন্দা মো. ফাহিম (২৯) দক্ষিণ আফ্রিকার কুইন্সটাউনে ভয়াবহ এক অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন।
মঙ্গলবার স্থানীয় সময় ভোরে কুইন্সটাউনের একটি দোকানে আগুন লাগার ঘটনায় নিহত ছয় বাংলাদেশির মধ্যে একজন ছিলেন ফাহিম। তাঁর মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছানোর পর থেকেই পরিবার ও স্বজনরা শোকে ভেঙে পড়েছেন।
ফাহিমের মা, লুৎফা আক্তার, বলেন, তার সন্তান সংসারের বড় ছেলে হিসেবে সব দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিল। পরিবারের সুখের জন্য বিদেশে পাড়ি দিয়েছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আগুনের করুণ কবলে প্রাণ হারাতে হলো তাকে। তিনি তার ছেলেকে দেশে ফিরিয়ে এনে শেষবারের মতো দাফনের আকুতি জানান।
পরিবারের সদস্যরা জানালেন, ফাহিম বিগত ১১ বছর ধরেই দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাস করছে। তিন ভাই এবং তিন বোনের মধ্যে সে বড়। দক্ষিণ আফ্রিকায় যাওয়ার পর তিনি আর দেশে আসেননি। তিনি আশা করেছিলেন যে, পরিবারের সকল সদস্যদের নিয়ে একদিন দেশে ফিরে আসবেন। বিয়ের পরিকল্পনাও ছিল তার। কিন্তু এখন সেই স্বপ্ন আর পূরণ হবে না, কারণ আগুনে পুড়ে ছাই হতে হলো তাকে।
মো. ফাহিমের মামা, তাজুল ইসলাম, বলেন, আমার ভাগ্নে অনেক আদরের ছিল। আমার কাছে বলার ভাষা নেই। ভাগ্নে কত কষ্ট করে মারা গেল। বর্তমানে সে কোথায়, সেটাও জানি না। আমার ভাগ্নের লাশ ফেরত পেতে চাই। আমি চাই, আমার ভাগ্নেকে দেশের মাটিতে কবর দিতে।
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও ফয়েজ উদ্দিন বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকার অগ্নিকাণ্ডে নিহত ছয়জনের মধ্যে ৪ জনের বাড়ি আলীরটেকে, একজনের বাড়ি বক্তাবলীতে এবং একজনের বাড়ি মুন্সিগঞ্জে। ইতোমধ্যে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়েছে। সরকারিভাবে যে সহায়তা ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা রয়েছে, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ তদন্ত শেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন