প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সুনামগঞ্জের ছাতকে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ এবং ধারণকৃত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগে গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বাদি, দুই সন্তানের জননী, ছাতক উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নের বোবরাপুর (দিগলবন্দ) গ্রামের আমিনুর রশিদের ছেলে কাইফ আহমদ (২১) এর বিরুদ্ধে এই গুরুতর অভিযোগ এনেছেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কাইফ আহমদ ভিকটিমের স্বামী দুবাইয়ে অবস্থান করায় তাকে বিভিন্ন সময়ে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। প্রতিবারই ভিকটিম সেগুলো প্রত্যাখ্যান করেন। চলতি বছরের ১২ মার্চ, কাইফ আহমদ ভিকটিমের ঘরে এসে জানায় যে, তার পিতা আমিনুর রশিদ তাদের ঘরে ডাকছেন। ভিকটিম যখন ঘরে প্রবেশ করে, তখন তার চাচা শশুরকে সেখানে দেখতে পাননি। এই সুযোগে কাইফ আহমদ দরজা বন্ধ করে ভিকটিমের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং ঘটনার ভিডিও ধারণ করে। পরে ওই ভিডিও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ভিকটিমকে হুমকি দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে এবং তার কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়।
সর্বশেষ কাইফ আহমদ ভিকটিমের কাছে আরো ১ লাখ টাকা দাবি করে। দাবিকৃত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে কাইফ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগে বলা হয়েছে যে, পরবর্তীতে অভিযুক্ত ব্যক্তি তার মোবাইল ফোনে ধারণকৃত একটি ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে ছড়িয়ে দেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, অভিযুক্ত ব্যক্তি ভিকটিমকে প্রাণনাশের ভয় দেখান এবং ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। ভিকটিম বিভিন্ন সময়ে ধর্ষণের শিকার হওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন। ভিকটিমের সাথে ঘটে যাওয়া ধর্ষণ, ফেইসবুকে ভিডিও প্রকাশ, হত্যার হুমকি এবং অর্থ নেওয়ার বিষয়ে ছাতক থানায় মামলা দায়েরের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। ফলে বাদি আদালতের শরণাপন্ন হন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০-এর ৯ (১) ধারায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য সুনামগঞ্জের ডিবি পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন