প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকায় জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান, শোক ও বিজয়ের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে শনিবার (৪ জুলাই) সকাল ১০টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়েছে জুলাই জাতীয় সম্মেলন-২০২৬।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। এছাড়া সরকারের মন্ত্রী, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রাজনৈতিক নেতা, সংসদ সদস্য, চিকিৎসক, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশ করেন বলে জানা যায়।
আয়োজকদের তথ্যমতে, জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি ও জুলাই যোদ্ধা কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি এর যৌথ উদ্যোগে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল ২০২৪শে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং তাদের স্মরণে আলোচনা সভার আয়োজন।
তবে সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানের জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সমালোচনা ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, জুলাই জাতীয় সম্মেলন হিসেবে প্রচার করা হলেও দেশের বহু জুলাই শহীদ পরিবার, আন্দোলনে আহত প্রকৃত জুলাই যোদ্ধাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। বরং সীমিত তথাকথিত কয়েকটি সংগঠনকে নিয়েই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে।
সমালোচকদের দাবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো একক ব্যক্তি বা সংগঠনের অর্জন নয়; এটি ছিল দেশের সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে সংঘটিত একটি গণআন্দোলন। তাই জাতীয় পর্যায়ের এমন কর্মসূচিতে জুলাই শহীদ পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং আন্দোলনের প্রকৃত অংশগ্রহণকারীদের বাদ দেওয়া হলে তার গ্রহণযোগ্যতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শহীদ পরিবারের সদস্যদের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ না জানানো তাদের আত্মত্যাগের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের পরিপন্থী। একইভাবে আন্দোলনে আহত এবং সরাসরি অংশ নেওয়া দেশের অনেক জুলাই যোদ্ধাও অনুষ্ঠানে স্থান পাননি বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ সরকারের গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধারা।
দেশের জুলাই যোদ্ধারা বলেন, যাদের রক্ত ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজকের এই আয়োজন সম্ভব হয়েছে, তাদেরই যদি আমন্ত্রণ জানানো না হয়, তাহলে এমন সম্মেলনের নৈতিক ভিত্তি প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
সমালোচকদের মতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা ছিল সাম্য, বৈষম্যহীন সমাজ, ন্যায়বিচার এবং মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা। তাই রাষ্ট্রীয় বা জাতীয় পর্যায়ের যেকোনো কর্মসূচিতে জুলাই শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধা এবং আন্দোলনের প্রকৃত অংশগ্রহণকারীদের যথাযথ মর্যাদা ও সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা প্রয়োজন ছিলো।
এ বিষয়ে আয়োজকদের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তবে সমালোচকরা ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ের কর্মসূচি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে আয়োজন এবং দেশের সব শহীদ পরিবার ও প্রকৃত জুলাই যোদ্ধাদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন