প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্র অভিবাসী ভিসার আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকারের সময়সূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এই পদক্ষেপটি নিয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে অভিবাসী ভিসার জন্য আবেদনকারীদের ওপর প্রভাব ফেলবে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযানের অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোতে একটি বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এই প্রশিক্ষণের সঙ্গে সমন্বয় করে ভিসা সেবার সাক্ষাৎকারের সময়সূচি পরিবর্তন করা হবে।
প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে আসছে, যার মধ্যে রয়েছে ব্যাপক বহিষ্কার অভিযান, ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিল এবং বিভিন্ন কারণে ভিসার আবেদন প্রত্যাখ্যানের মতো পদক্ষেপ।
রাজনৈতিক মতামত এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরায়েলের গাজা অভিযানবিরোধী ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভে অংশ নেওয়াও এসব সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, এসব পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা আরও জোরদার করা। তবে তাঁর প্রশাসনের অভিবাসন নীতি বেশ কিছু আইনি বাধার মুখোমুখি হয়েছে। গত শুক্রবার, এক মার্কিন বিচারক ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের অভিবাসী ভিসা দেওয়ার স্থগিত করার ট্রাম্প প্রশাসনের একটি নীতি বাতিল করেন।
বিচারকের মতে, ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের অভিবাসী ভিসা দেওয়ার স্থগিত করার এই নীতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর আইনগত ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে।
এদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নতুন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সময়সীমা বা এর বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তবে মন্ত্রণালয় বলেছে, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের এমন আবেদনকারী শনাক্ত করতে সহায়তা করা হবে, যারা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন। পাশাপাশি, সব ভিসা আবেদনকারীকে যেন একই নিয়মে ও সামগ্রিকভাবে মূল্যায়ন করা হয়, সেটি নিশ্চিত করা হবে।
ভিসা সাক্ষাৎকারের সময়সূচিতে এই বিরতির খবর প্রথম প্রকাশ করে ফিন্যানশিয়াল টাইমস। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে সাক্ষাৎকারের তারিখ পাওয়া অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীরা ইমেইল পেয়েছেন। এতে জানানো হয়েছে, তাদের সাক্ষাৎকারের তারিখ পরিবর্তন করা হচ্ছে এবং নতুন তারিখ পরে জানানো হবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী কঠোর নীতির কারণে মানবাধিকার সংগঠনগুলোও সমালোচনা করছে। তাদের অভিযোগ, এসব পদক্ষেপ বৈষম্যমূলক এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকারের পরিপন্থী। অধিকারকর্মীদের আরও দাবি, এই অভিযান যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি করেছে। তাদের অনেকেই জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে অতিরিক্ত নজরদারি বা বৈষম্যের আশঙ্কা করছেন।
২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে তাঁর প্রশাসনের পদক্ষেপে বৈধ অভিবাসনও কঠিন হয়ে পড়েছে। এর উদাহরণ হিসেবে নির্দিষ্ট কিছু কর্মভিত্তিক ভিসার আবেদনকারীদের জন্য নতুন ও ব্যয়বহুল ফি চালুর বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন