প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাথাপিছু জিডিপির দিক থেকে ভারতকে পেছনে ফেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর বাংলাদেশে প্রতিটি মানুষের মাথাপিছু গড় আয় ২,৮৮৬ ডলারে পৌঁছাবে, যেখানে ভারতের জন্য তা ২,৭৪৯ ডলার হবে। খবর আল-জাজিরা র।
ভারতের সামগ্রিক অর্থনীতি বাংলাদেশের তুলনায় আট গুণ বড় হলেও, বিশাল জনসংখ্যার হিসাব বাদ দিলে মাথাপিছু গড় আয় নিয়ে বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশটিকে ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর গত দুই দশকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। দেশের প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলারের পোশাকশিল্প, প্রবাসী ভাই-বোনদের পাঠানো রেমিট্যান্স এবং কর্মক্ষেত্রে নারীদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ এই সাফল্যের পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে।
তবে, এই সাফল্যের সঙ্গে কিছু নতুন চ্যালেঞ্জও সামনে আসছে। যেখানে ভারত চলতি বছর ৭ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির আশা করছে, সেখানে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩.৬ শতাংশে নেমে আসতে পারে। মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতার হিসাব করলে ভারত কিছুটা এগিয়ে রয়েছে।
স্থানীয় বাজার ও জীবনযাত্রার খরচের দিক থেকে ভারতের মানুষের জিনিসপত্র কেনার ক্ষমতা বাংলাদেশের তুলনায় বেশি। পাশাপাশি, বাংলাদেশে ৮.৭ শতাংশের মতো উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ মেলাতে বেশ কষ্ট হচ্ছে। আইএমএফের পূর্বাভাস বলছে, আগামী কয়েক বছরে এই ব্যবধান এদিক-সেদিক হলেও ২০২৯ সালের দিকে ভারত মাথাপিছু আয়ে আবার এগিয়ে যেতে পারে।
দুই দেশের অর্থনীতির কাঠামোতে উল্লেখযোগ্য তফাত রয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাত। গত এক দশকে দেশের উৎপাদন খাতের অবদান উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, তবে ভারত অনেক বেশি বৈচিত্র্যময় অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। প্রযুক্তি, বড় সেবা খাত এবং বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার মিলে ভারতকে ভিন্ন এক শক্তিমত্তা দিয়েছে। তবে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি দুই দেশের জন্যই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের ফলে হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরের বাণিজ্য পথ বন্ধ হওয়ায় জ্বালানি তেল ও এলএনজি আমদানি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বাংলাদেশ তার জ্বালানি চাহিদার প্রায় পুরোটাই বিদেশ থেকে আনে এবং তৈরি পোশাকের চালানও এই পথেই বিদেশে যায়, ফলে পরিবহন খরচ বাড়ায় অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
সবশেষে বলা যায়, মাথাপিছু জিডিপির এই হিসাব মূলত একটি গড়ের ওপর নির্ভর করে তৈরি হয়, যা সমাজের ভেতরের প্রকৃত আয়বৈষম্য বা ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান লুকিয়ে রাখে। বাংলাদেশ ও ভারত—উভয় দেশেই গত এক দশকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঘটলেও তার সুফল সব মানুষের ঘরে সমানভাবে পৌঁছায়নি, বরং মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের হাতে সম্পদ বেশি জমা হয়েছে। তাই এই পরিসংখ্যান যেমন দারুণ এক সফলতার গল্প শোনায়, তেমনি সাধারণ মানুষের জীবনে শান্তি ও স্বস্তি ফেরাতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বৈষম্য কমানোর তাগিদও দেয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন