প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ এবং ভিয়েতনামের দুই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদফতরে এই বৈঠক দু'পক্ষের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। অন্যদিকে, ভিয়েতনাম প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দেশটির জননিরাপত্তা বিষয়ক উপমন্ত্রী সিনিয়র লেফটেন্যান্ট জেনারেল নগুয়েন ভ্যান লং।
আজ বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বৈঠকের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল উভয় দেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করা, নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং মানবপাচার ও অবৈধ অভিবাসন রোধে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকারের বিষয়টি নিশ্চিত করা।
গত জানুয়ারিতে ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট পার্টির ১৪তম জাতীয় কংগ্রেস সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং নতুন নেতৃত্ব আগামী পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। এই বিষয়টি বৈঠকের শুরুতে ভিয়েতনাম সরকারকে সালাহউদ্দিন আহমদ আন্তরিক অভিনন্দন জানান।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের নতুন সরকার ভিয়েতনামের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক স্তরে পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সম্পর্ককে আরও গতিশীল করতে আগ্রহী।
১৯৭৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক কূটনৈতিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশ ভিয়েতনামের সঙ্গেও তার দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব ও বহুমুখী অংশীদারিত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দু'দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কানেক্টিভিটি এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
বৈঠকে ভিয়েতনামে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা জটিলতা এবং অনিয়মিত অভিবাসীদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সালাহউদ্দিন আহমদ অনিয়মিত অভিবাসীদের প্রত্যাবাসন বিষয়ে ভিয়েতনাম সরকারকে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেন।
তিনি বাংলাদেশি প্রকৃত পর্যটক, ব্যবসায়ী, বৈধ কর্মজীবী এবং পারিবারিক ভিসাপ্রত্যাশী নাগরিকদের জন্য ভিয়েতনামের ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ ও শিথিল করার অনুরোধ জানান।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করে মন্ত্রী বলেন, মানবপাচার, মাদক চোরাচালান ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনে উভয় দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ জোরদার করা প্রয়োজন।
এতদ্বারা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে বলেও মন্ত্রী জানান, দুই দেশের মধ্যে 'প্রেফারেন্সিয়াল ট্রেড এগ্রিমেন্ট' (পিটিএ) স্বাক্ষরিত হবে। এতে দ্রুতই বাণিজ্যের পরিমাণ দ্বিগুণ হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী ভিয়েতনাম সরকারকে ধন্যবাদ জানান কারণ তারা বাংলাদেশ থেকে আলু আমদানির অনুমতি দিয়েছে এবং তিনি আন্তর্জাতিক মানের বাংলাদেশি ওষুধ সাশ্রয়ী মূল্যে আমদানির অনুরোধ করেন।
একইসঙ্গে বাংলাদেশের আকর্ষণীয় বিনিয়োগ পরিবেশের সুবিধা নিয়ে ভিয়েতনামের ব্যবসায়ী এবং উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ আসিয়ান-এ বাংলাদেশের 'সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার' হওয়া এবং আরসিইপি-এর সদস্যপদ প্রাপ্তিতে ভিয়েতনামের জোরালো সমর্থন প্রত্যাশা করেন।
ভিয়েতনাম পক্ষ বাংলাদেশের উত্থাপিত বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে এবং দু'দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আগামীতে আরও নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন