প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
টেস্ট ক্রিকেটে সাধারণত আট নম্বরে ব্যাট করার জন্য নামা খেলোয়াড়ের মূল দায়িত্ব থাকে উইকেট ধরে রেখে রান বাড়ানো। কিন্তু ১৯৯৬ সালে পাকিস্তানের কিংবদন্তি পেসার ওয়াসিম আকরাম ব্যাট হাতে এমন এক কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন, যা আজও বিশ্ব ক্রিকেটের ইতিহাসে একটি বিস্ময়কর ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। যিনি বল হাতে বৈচিত্র্যময় সুইং দিয়ে ব্যাটারদেরকে হিমশিম খাওয়াতেন, সেই ওয়াসিম আকরাম সেদিন ব্যাট হাতে হয়ে উঠেছিলেন এক অপ্রতিরোধ্য বীর।
১৯৯৬ সালের ২১ অক্টোবর, জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে শেখুপুরা টেস্টে পাকিস্তানের হয়ে আট নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামেন অধিনায়ক ওয়াসিম আকরাম। মাঠে প্রবেশ করার পর থেকেই তার ব্যাটিং ছিল অত্যন্ত আক্রমণাত্মক এবং চমৎকার টাইমিংয়ের। জিম্বাবুয়ান বোলারদের বিরুদ্ধে একের পর এক বল সীমানা পার করতে থাকেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৩৬৩ বল খেলে ২৫৭ রানে অপরাজিত থাকেন এই বাঁহাতি। তার ইনিংসে ছিল ২২টি চার এবং ১২টি ছক্কার মার। টেস্ট ইতিহাসে আট নম্বর ব্যাটার হিসেবে এটি সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া, এক ইনিংসে ১২টি ছক্কা মারার মাধ্যমে তিনি ইংল্যান্ডের ওয়ালি হ্যামন্ডের বহু পুরনো বিশ্বরেকর্ড ভেঙে দেন।
ওয়াসিমের এই ঐতিহাসিক ইনিংসে দুর্দান্ত সহযোগিতা করেন স্পিনার সাকলাইন মুশতাক। একদিকে ওয়াসিমের চার-ছক্কার তাণ্ডব, অন্যদিকে সাকলাইনের চরম ধৈর্য—দুইয়ে মিলে অষ্টম উইকেটে ৩২৩ রানের একটি বিশাল রেকর্ড জুটি গড়ে ওঠে। সাকলাইন ৩৫৯ বল খেলে ৭৯ রান করে দলের জন্য শক্ত অবস্থান তৈরি করেন।
পাকিস্তানের এমন বিশাল স্কোরের পরেও ম্যাচের ফল আসেনি, টেস্টটি ড্রতেই শেষ হয়। তবে ম্যাচের জয়-পরাজয়কে ছাপিয়ে ওয়াসিম আকরামের এই ২৫৭ রানের ইনিংসটি ইতিহাসের পাতায় সোনালী অক্ষরে লেখা হয়ে যায়। আমরা তাকে মূলত মনে রাখি বিষাক্ত ইয়র্কার ও সুইং বোলিংয়ের জন্য, কিন্তু শেখুপুরের সেই দিনটি প্রমাণ করে দিয়েছিল—তিনি শুধু বল হাতে বিশ্বসেরা ছিলেন না, ব্যাট হাতেও ইতিহাস গড়ার অসাধারণ ক্ষমতা তার ছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন