প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্র বন্দর মোংলায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আয়, কার্গো ও কনটেইনার হ্যান্ডলিংসহ সব ধরনের পরিচালন সূচকে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা সকাল ১১টায় মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের অডিটরিয়ামে বাগেরহাট ও মোংলা প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
মতবিনিময় সভায় তিনি উল্লেখ করেন, বিদায়ী অর্থবছরে মোংলা বন্দর ৩ হাজার ৮৭৯ কোটি ৫১ লাখ ২০ হাজার টাকা রাজস্ব আয় করেছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি এবং আগের অর্থবছরের তুলনায় ৪০৮ কোটি ২৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা বা ১১.৭৬ শতাংশ বেশি।
এছাড়া, ওই অর্থবছরে মোংলা বন্দরে মোট ৮১৫টি সমুদ্রগামী জাহাজ নোঙর করেছে। একই সময়ে ১ কোটি ২২ লাখ ৫১ হাজার মেট্রিক টন কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি এবং পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ১৭.৬৬ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে। কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে; অর্থবছরে ২৯ হাজার ৭১ ৪ টিইইউজ কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়, যা আগের বছরের চেয়ে ৩৮.৪৯ শতাংশ বেশি। গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রেও গতি এসেছে, এ সময়ে বন্দর দিয়ে ১২ হাজার ৭৫টি রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি হয়েছে।
বন্দরের অবকাঠামোগত সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বন্দর চেয়ারম্যান উল্লেখ করেন, বর্তমানে মোংলা বন্দরের বার্ষিক সক্ষমতা ১,৫০০টি জাহাজ, ১ কোটি ৫০ লাখ মেট্রিক টন কার্গো, ১ লাখ টিইইউজ কনটেইনার এবং ২০ হাজার ইউনিট গাড়ি হ্যান্ডলিং। এই সক্ষমতা আরও বাড়াতে বিভিন্ন চলমান প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে দুটি টাগবোট, বয়া লেইং ভেসেল, সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ ভেসেলসহ বেশ কিছু প্রয়োজনীয় সহায়ক জলযান বহরে যুক্ত হবে। পশুর নদের ইনার বার ড্রেজিং এবং ভারতীয় এলওসি-৩ অর্থায়নে দুটি আধুনিক কনটেইনার টার্মিনাল ও হ্যান্ডলিং ইয়ার্ড নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় কর্মসংস্থান প্রসারিত হবে।
মতবিনিময় সভায় সুন্দরবন ও পশুর নদী রক্ষায় বর্জ্য ও নিঃসৃত তেল অপসারণ ব্যবস্থার অগ্রগতির কথাও তুলে ধরা হয়।
বন্দর চেয়ারম্যান জানান, নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের সঠিক দিকনির্দেশনা ও স্বচ্ছতার সাথে কার্যক্রম পরিচালনা করার ফলে এই গতিশীলতা সম্ভব হয়েছে। মোংলাকে 'ফার্স্ট কলিং পোর্ট' হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা, তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্য এ বন্দর দিয়ে সরাসরি রপ্তানি এবং সিঙ্গাপুরসহ আন্তর্জাতিক বন্দরে ফিডার জাহাজ চালু করার নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। খুলনা-মোংলা সড়ক চার লেনে উন্নীত করা এবং রেলপথে ওয়াগন ও কনটেইনার সার্ভিস চালুর বিষয়টিকেও গুরুত্ব প্রদান করা হচ্ছে।
উক্ত মতবিনিময় সভায় মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমোডর শফিকুল ইসলাম সরকার, ভারপ্রাপ্ত সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) শেখ শওকত আলী, পরিচালক (প্রশাসন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ বিল্লাহ, সচিব কালাচাঁদ সিংহ, পরিচালক (ট্রাফিক) মো. কামাল হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন