প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক শেখ খায়রুল কবির মন্তব্য করেছেন যে, গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়ন না হলে সরকারকে রাজনৈতিক মাশুল দিতে হবে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি গণভোটের রায়, রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতি এবং সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার যুক্তি নিয়ে নিজের অবস্থান প্রকাশ করেন।
শেখ খায়রুল কবির বলেন, রাজনৈতিক অনীহা, সাংবিধানিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার যুক্তি এক বিষয় নয়। এগুলোকে একসাথে দেখার সুযোগ নেই। প্রতিটি বিষয় আলাদা আলাদা আইনি ও রাজনৈতিক ব্যাখ্যা দাবি করে।
রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক নীতির প্রসঙ্গে তিনি ল্যাটিন ভাষার বিখ্যাত প্রবাদ ঝধষঁং চড়ঢ়ঁষর ঝঁঢ়ৎবসধ খবী উল্লেখ করেন। এর অর্থ জনগণের কল্যাণই সর্বোচ্চ আইন। তাঁর মতে, রাষ্ট্রীয় সংকট কিংবা সাংবিধানিক জটিলতার ক্ষেত্রেও জনস্বার্থ, আইনের শাসন ও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা অপরিহার্য।
সম্প্রতি সংসদে সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘আমরা সবকিছু মেনে নিয়েছিলাম নির্বাচনটার জন্য।’ নির্বাচন আয়োজনের স্বার্থে কী কী বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল এবং সেই সমঝোতার সঙ্গে গণভোটের রায় ও রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতির সম্পর্ক কী, তা নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শেখ খায়রুল কবির প্রশ্ন তোলেন, যদি জনগণের আকাঙ্ক্ষা, সংস্কারের প্রতিশ্রুতি এবং গণভোটের রায় পাশ কাটানো হয়, তাহলে সেই নির্বাচনের গণতান্ত্রিক তাৎপর্য কোথায়? গণভোটকে নিছক আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এর সঙ্গে জনগণের মতামত, রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের বৈধতা এবং রাজনৈতিক অঙ্গীকারের প্রশ্ন জড়িত।
গণভোট আয়োজনের পেছনে রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি মানুষের প্রত্যাশা ও অংশগ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ। ফলে গণভোটের ফলাফল বাস্তবায়ন নিয়ে টালবাহানা কিংবা রাজনৈতিক সুবিধা অনুযায়ী ব্যাখ্যা দাঁড় করানো জনগণের আস্থার সঙ্গে প্রশ্নবিদ্ধ আচরণ।
জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে শেখ খায়রুল কবির বলেন, জনগণ শুধু একটি সরকার পরিবর্তনের জন্য আত্মত্যাগ করেনি। তাদের প্রত্যাশা ছিল রাষ্ট্রের কাঠামোগত পরিবর্তন, ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে স্বৈরতন্ত্রের পুনরাবৃত্তি ঠেকানোর কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
তাঁর মতে, রাজনীতির পুরোনো বন্দোবস্তের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো ক্ষমতার সমীকরণ বদলালেও ক্ষমতা পরিচালনার মানসিকতা অপরিবর্তিত থেকে যাওয়া। একসময় যে ব্যবস্থার বিরুদ্ধে মানুষ আন্দোলন করেছে, সেই ব্যবস্থার সুবিধাভোগী হওয়ার সুযোগ তৈরি হলে সংস্কারের অঙ্গীকার কতটা গুরুত্ব পায়, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
গণতন্ত্রের পূর্ণতা কেবল নির্বাচন আয়োজন কিংবা সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। জনগণের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা, নির্বাচনী অঙ্গীকার রক্ষা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করাও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অপরিহার্য অংশ।
শেখ খায়রুল কবিরের বক্তব্যে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের প্রশ্নটি কেবল রাজনৈতিক বিতর্ক নয়, বরং রাষ্ট্র সংস্কার, সাংবিধানিক শাসন ও জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাঁর মতে, জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে অস্পষ্টতা কিংবা দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হলে সরকারের রাজনৈতিক দায় এড়ানোর সুযোগ থাকবে না।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন