প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
‘ভাই এইডা কি করেন— ফটো তুইলেন না, বিজিবি দেখলে খবর আছে। এইডাই আমরার রিজিক, পেটে লাথি দিয়েন না!’ কথাগুলো এক বালু শ্রমিকের, যিনি নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার পাতলা বন সন্ন্যাসীপাড়া এলাকার মহাদেব নদী থেকে বালু উত্তোলনের সময় মোবাইল ক্যামেরায় ছবি তুলতে দেখে আশঙ্কা ও আকুতির সুরে বলেন।
নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা উপজেলার পাতলা বন সন্ন্যাসীপাড়া সংলগ্ন মহাদেব নদীর চর থেকে দীর্ঘদিন ধরে গোপনে মূল্যবান লাল বালু উত্তোলন করা হচ্ছে, যা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে চলছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় অনেক হতদরিদ্র ও অসহায় মানুষ প্লাস্টিকের বস্তায় বালু ভরে ঘোড়ার গাড়িতে করে দিনভর নিয়ে যাচ্ছেন। পরে এই বালু বিক্রি করা হচ্ছে পাশের বালু ব্যবসায়ীদের কাছে।
অনুসন্ধান থেকে জানা যায়, প্রতি বস্তা লাল বালুর দাম মাত্র ১০০ টাকা। দিনশেষে এই আয়ের টাকায় এসব অসহায় পরিবারের জীবন-জীবিকা চলে। নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তোলার বিষয়ে আলী হোসেন নামের এক শ্রমিক বলেন, ‘কাজটা যে ঠিক না, তা আমরাও বুঝি। কিন্তু করব কী? আমাগো তো চলার আর কোনো পথ নাই। আর এই বালু তো কমবে না, পানির স্রোতে নতুন বালু তো প্রতিনিয়ত আসা-যাওয়া করছেই।’
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ ভিন্ন। তাদের দাবি, একটি চক্র প্রতিদিন এভাবে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে নদী থেকে বালু লুটে নিচ্ছে। নদীর কিনার ও চর থেকে এভাবে বালু কেটে নেওয়ার ফলে বর্ষায় পানির প্রবল স্রোতে নদীপাড়ে নতুন করে তীব্র ভাঙনের সৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে ফসলি জমি ও নদী তীরবর্তী মানুষের ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট হুমকির মুখে পড়ছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, জীবন-জীবিকার অজুহাতে নদীর চর ও তীর থেকে এভাবে বালু উত্তোলন করা হলে তা কলমাকান্দার পরিবেশ ও নদী অববাহিকার জন্য দীর্ঘমেয়াদী বিপর্যয় ডেকে আনবে। ভাঙন রোধ এবং সরকারি সম্পদ রক্ষায় অবিলম্বে এই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে স্থানীয় প্রশাসন ও বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) এর কঠোর নজরদারি ও দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন