প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ (ইউএনজিএ) বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির জন্য অতিরিক্ত তিন বছরের সময় প্রদান করেছে। ফলে এলডিসি থেকে উত্তরণের নতুন সময়সীমা ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে, যা পূর্বে ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর ছিল।
গতকাল বৃহস্পতিবার উরুগুয়ের উত্থাপিত প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এই বাড়তি সময় বাংলাদেশকে কাঠামোগত দুর্বলতা দূরীকরণ, রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সুবিধার পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সুযোগ প্রদান করবে। জাতিসংঘ একই সঙ্গে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া এবং প্রতিবছর অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছে।
বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, জ্বালানি ও সরবরাহব্যবস্থার ঝুঁকি এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষিতে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সরকার ইউএন-সিডিপির কাছে সময় বাড়ানোর আবেদন করে। পরে ইউএন-সিডিপি আবেদনটি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার সুপারিশ করে। গত ২১ জুলাই জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক) এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুপারিশ পাঠায়।
বাংলাদেশ ১৯৭৫ সালের ডিসেম্বরে এলডিসি তালিকাভুক্ত হয়। ২০১৮ ও ২০২১ সালের পর পর দুটি পর্যালোচনায় মাথাপিছু জাতীয় আয়, মানবসম্পদ সূচক এবং অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ভঙ্গুরতা—এই তিনটি মানদণ্ড পূরণ করে দেশটি। ২০২১ সালে উত্তরণের সুপারিশ অনুমোদনের পর কোভিডের প্রভাবের কারণে বাংলাদেশকে পাঁচ বছরের প্রস্তুতির সময় দেওয়া হয়েছিল।
এলডিসি থেকে উত্তরণের পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও জাপানসহ বিভিন্ন বাজারে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা পরিবর্তিত হতে পারে। এতে বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমার আশঙ্কা রয়েছে।
বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক জাতিসংঘ সম্মেলনের (আঙ্কটাড) ২০২৫ সালের এক বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে, বাণিজ্য সুবিধা হারালে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি প্রায় ৩২ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন