প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ১১ অক্টোবর, ২০২৬ : সাইপ্রাসে ৬০ লাখ ইউরোর একটি উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যা উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি, বিশেষজ্ঞ সেবা, মানসম্মত উপাত্ত এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিং অবকাঠামোয় গবেষক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি করবে।
দেশটির জাতীয় এআই ফ্যাক্টরি অ্যান্টেনা ‘ফ্যারোস-সাই’-এর অধীনে স্বাস্থ্যসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজের নেতৃত্ব দেবে সাইপ্রাস ইনস্টিটিউট অব নিউরোলজি অ্যান্ড জেনেটিকস (সিআইএনজি)।
প্রতিষ্ঠানটির এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সিআইএনজি তার বায়োইনফরমেটিকস বিভাগের মাধ্যমে এই প্রকল্পে অংশগ্রহণ করছে। স্বাস্থ্যসেবায় এআইয়ের দায়িত্বশীল ব্যবহার ও প্রয়োগ বিকাশ এবং বাস্তবায়নে সহায়তা করাই হবে প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
ফ্যারোস-সাইকে উন্নত এআই-সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ জ্ঞান ও বিশেষায়িত সেবা, মানসম্মত উপাত্তভান্ডার, নিরাপদ উপাত্ত ব্যবস্থাপনা পরিবেশ এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিং সুবিধা পাওয়ার জাতীয় কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
এই উদ্যোগের আওতায় গবেষক, স্টার্টআপ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি সংস্থা এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান উপাত্ত ও ধারণাকে বাস্তবভিত্তিক এআই প্রয়োগে রূপান্তরের সুযোগ লাভ করবে।
প্রকল্পটির প্রধান ক্ষেত্রগুলো হলো স্বাস্থ্য, টেকসই উন্নয়ন, সংস্কৃতি ও ভাষা। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্ভাবন এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি খাত ও বৃহত্তর সমাজের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
জিনোমবিদ্যা, আণবিক রোগনির্ণয়, জীবচিকিৎসা গবেষণা এবং স্বাস্থ্য-উপাত্ত ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সিআইএনজি প্রকল্পটির স্বাস্থ্যবিষয়ক এআই কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেবে।
গবেষণা ও স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা পূরণে প্রয়োজনীয় সেবা ও প্রয়োগ বিকাশে সহায়তা করাও এর দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। বৈজ্ঞানিক নির্ভরযোগ্যতা, নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সিআইএনজি ফ্যারোস-সাইয়ের সহযোগিতা ও নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার কার্যক্রমেও নেতৃত্ব দেবে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মপরিকল্পনার সমন্বয় এবং গবেষণা, স্বাস্থ্য, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিবিষয়ক জাতীয় ও ইউরোপীয় নেটওয়ার্কগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানো হবে।
এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো, সাইপ্রাসের প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেশে ও ইউরোপের অন্যান্য স্থানে উপলব্ধ উপযুক্ত সেবা, অবকাঠামো এবং সুযোগ শনাক্ত করতে এবং সেগুলো ব্যবহারের সুযোগ পেতে সহায়তা করা।
এ ছাড়া উপাত্তের আইনি, নৈতিক ও দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার কাজেও সিআইএনজি অবদান রাখবে। এর মধ্যে ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্যের সুরক্ষা, স্বচ্ছতা এবং ইউরোপীয় নিয়ন্ত্রক কাঠামো মেনে চলার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ফ্যারোস-সাই গ্রিসের ‘ফ্যারোস এআই ফ্যাক্টরি’ এবং এআই ফ্যাক্টরি ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিং অবকাঠামোর বৃহত্তর ইউরোপীয় নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ জ্ঞান, বিদ্যমান উপাত্তভান্ডার ও মডেল, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং ইউরোপীয় কম্পিউটিং সুবিধা ব্যবহারের সুযোগ পাওয়া যাবে।
সাইপ্রাস ইনস্টিটিউট প্রকল্পটির সমন্বয় করছে। সিআইএনজিসহ সাইপ্রাসের অন্যান্য গবেষণা ও উদ্ভাবনবিষয়ক প্রতিষ্ঠান এতে অংশ নিচ্ছে।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রকল্পসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৯ সালের মার্চ পর্যন্ত ৩৬ মাস মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০ লাখ ইউরো।
প্রকল্পটি ইউরোপীয় হাই-পারফরম্যান্স কম্পিউটিং জয়েন্ট আন্ডারটেকিং (ইউরোএইচপিসি জেইউ) এবং সাইপ্রাস প্রজাতন্ত্রের অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর অনুদান চুক্তির নম্বর ১০১২৬৩০০৭। জাতীয় অর্থায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে দেশটির গবেষণা, উদ্ভাবন ও ডিজিটাল নীতিবিষয়ক উপমন্ত্রীর দপ্তর।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন