শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:৩৬ পি.এম
বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি (বাকশিস—সেলিম ভূঁইয়া) ঝালকাঠি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক, রিপোর্টার্স ক্লাব ঝালকাঠির সেক্রেটারি, শিক্ষক ও সাংবাদিক নেতা এবং ঝালকাঠি জেলা কৃষক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি উপাধ্যক্ষ রিয়াজুল ইসলাম বাচ্চুর বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও সাইবার বুলিংয়ের অভিযোগে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন রিপোর্টার্স ক্লাব ঝালকাঠির সকল পর্যায়ের সদস্যরা।
৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে রিপোর্টার্স ক্লাব ঝালকাঠির পক্ষ থেকে এক প্রতিবাদ বিবৃতিতে বলা হয়, ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ ও পূর্বশত্রুতার জেরে কতিপয় ব্যক্তি উপাধ্যক্ষ রিয়াজুল ইসলাম বাচ্চুকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালিয়ে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রিয়াজুল ইসলাম বাচ্চুর কথোপকথনের একটি কল রেকর্ড কথিতভাবে ‘সুপার এডিটিং’ করে এর বিভিন্ন অংশ সংযোজন-বিয়োজনের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও তাকে হেয়প্রতিপন্নের চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ ধরনের অপপ্রচার ও সাইবার বুলিং থেকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে রিপোর্টার্স ক্লাব ঝালকাঠি। একই সঙ্গে অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়।
রিপোর্টার্স ক্লাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, তাদের জানামতে উপাধ্যক্ষ রিয়াজুল ইসলাম বাচ্চু একজন সজ্জন, সৎ, সহজ-সরল, ধর্মপ্রাণ ও উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তি। তার সম্পর্কে যাচাই-বাছাই না করে কোনো ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কারও ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক বিরোধের কারণে একজন শিক্ষক ও সাংবাদিক নেতার সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার কোনো প্রচেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের ভিত্তিতে বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইয়েমেনে সউদী আরব সমর্থিত সরকারি বাহিনী এবং ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া ভয়াবহ সংঘর্ষে গত দুই দিনে অন্তত ১২০ জনেরও বেশি সামরিক ও বেসামরিক যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সামরিক কর্মকর্তা ও চিকিৎসা সূত্র।
প্রতিবেদন অনুসারে, বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) হুথি বিদ্রোহীরা একটি নতুন স্থল অভিযান শুরু করার ফলে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সূচনা ঘটে। বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি রকেট এবং ড্রোন হামলার মাধ্যমে লোহিত সাগর উপকূলীয় এলাকা ও তাইজ (Taiz) অঞ্চলে একযোগে আক্রমণ চালায়।
লোহিত সাগর উপকূলীয় অঞ্চলের এক সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় তাঁর অধীনস্থ অন্তত ২৪ জন সরকারি সেনা সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। অন্যদিকে, দেশের মধ্যাঞ্চলীয় তাইজ অঞ্চলের অপর এক সামরিক কর্মকর্তা জানান, সেখানে সংঘাত চলাকালে ১৫ জন সরকারি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।
বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকার চিকিৎসা সূত্রগুলো জানাচ্ছে, এ সংঘর্ষে অন্তত ৪২ জন হুথি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে দুই পক্ষের নিহতের সংখ্যা ১২০ ছাড়িয়ে গেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি-কে সরকারি সামরিক সূত্রগুলো জানায়, বিদ্রোহীরা মূলত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বন্দর নগরী মোখাকে (Mokha) অন্যান্য সরকারি অঞ্চল থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করছে। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মানদাব (Bab al-Mandab) প্রণালী সংলগ্ন এলাকাগুলোর দিকে অগ্রসর হওয়ার লক্ষ্যেই এই সমন্বিত হামলা চালানো হয়েছে।
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা গৃহযুদ্ধে জর্জরিত ইয়েমেনে ২০২২ সালে একটি অস্ত্রবিরতি চুক্তি হলেও সম্প্রতি হুথি বিদ্রোহীরা তা অকার্যকর করে দেয়। লোহিত সাগরের কৌশলগত পথগুলো দখলের এই নতুন উত্তাপ মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে মাদক ব্যবসায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও অস্ত্রের মহড়ার ঘটনায় পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছে গুলিভর্তি একটি বিদেশি পিস্তল।শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার তারাবো বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়।রাত পৌনে ৯টার দিকে রূপগঞ্জ থানায় সংবাদ সম্মেলনে নবনিযুক্ত নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।গ্রেপ্তারকৃতদের নাম হলো—নাজমুল হোসেন (৩০), নিহাল মিয়া (২১), সাজ্জাদ হোসেন (২০) এবং শফিকুল ইসলাম (২৪)।পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, তারাবো বাজার এলাকায় মাদক ব্যবসায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে শ্রাবণ ওরফে ‘কুত্তা শ্রাবণ’ গ্রুপ এবং নবী গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। তারা প্রায়ই অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মহড়া, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হচ্ছে।পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দুই গ্রুপ অস্ত্রের মহড়ার পাশাপাশি ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষে জড়ায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।এর পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার সন্ধ্যায় পুলিশ তারাবো বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।এ সময় নবী গ্রুপের চার সদস্যকে গুলিভর্তি একটি বিদেশি পিস্তলসহ গ্রেপ্তার করা হয়।পুলিশ সুপার আরও জানান, এ ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। গ্রেপ্তারকৃতদের শনিবার নারায়ণগঞ্জ আদালতে পাঠানো হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৮৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ডিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ জানানো হয়, বিভাগের বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় অভিযান চালিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার তাদের গ্রেফতার করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মোহাম্মদপুর থানা ২৬ জন, আদাবর থানা পুলিশ ২৩ জন, হাতিরঝিল থানা পুলিশ ১৩ জন, তেজগাঁও থানা পুলিশ ৭ জন, শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ ৭ জন এবং তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশ ৭ জনকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- মো. মামুন খান (২৬), ইমতিয়াজ আহম্মেদ আসিফ (৩০), মো. সজীব হোসেন (৩৬), সাব্বির (২১), মো. বাবু হোসেন (২৩), মো. রবিউল (২৯), হাফিজুর রহমান (৫৫), মো. সাদ্দাম হোসেন (৩০), মো. রহিম (২৯), বিপ্লব পাল (২১), মো. ফয়সাল (১৮), মো. খোকন (১৯), মো. আলী (২০), ময়ুখ আমিন (৩০), মো. রাহিম সরকার (২১), মো. সাজেদুল ইসলাম শাওন (৩৫), সরোয়ার আহমেদ মুহিন (২৭), মো. মাঈনুদ্দিন (৩২), মো. তারেক (১৯), শামীনুর রহমান ওরফে শামীম আল নকশাবন্দী (৩৬), মো. জাবেদ (৪৯), মো. আশরাফ (৪১), মো. তারেক (১৯), মো. আব্দুল সাত্তার (৩৫), সুলতান (৩৪), মো. শাহজাহান (৪৮), মো. মাসুদ (২৮), মো. মেহেদী হাসান হৃদয় (২৩), মো. আশরাফুল ইসলাম (৩৫), মো. মৃদুল হাসান (২১), মো. আশিক (২৩), মো. সজিব হোসেন শান্ত (২১), মো. হোসাইন (২১), নুর মোহাম্মদ বাবলু (৩৫), মো. আশিক (২২), মো. রাজা (২২), মো. জনি মাঝি (২৪), মিম্নো সরকার (৩৫), মো. মিরাজ (২৪), মো. মামুন (২৪), মো. মোর্শেদ আলম, মো. অমিত হাসান (২৬), মো. রেজাউল ওরফে সজিব (২৫), মো. রাব্বী (২২), বদিউজ্জামান ওরফে জামাল (৪৫), মো. জিয়ারুল (৪৫), মো. রাজা (৪৫), মো. শাহজালাল ওরফে আকাশ (১৯), ইব্রাহিম আকন্দ হালিম (৪২), মো. হাবিব (১৯), মো. সজীব খাঁন (২৪), মো. সজিব (২০), মো. হান্নান (৬৫), মো. দেলোয়ার (৭১), মো. হোসাইন (২৪), মো. ওয়াসিম (২৬), মো. ইমন (২৬), মো. মনির হোসেন (১৮), মো. আরিফ হোসেন (২২), মো. হৃদয় (১৯), লিটন (৩১), মো. সাইফুল ইসলাম (৫০), মো. কাউছার (১৮), মো. ইয়াসিন আরাফাত (২০), মনির হোসেন (২৪), মো. রিফাত রহমান (২৬), শিফাত খান (২৪), মো. রায়হান (২০), মো. ইউনুস খান (৩১), মো. ইমরান হোসেন সৈকত (২৪), মো. লাবু ইসলাম সাগর (২০), মো. মারুফ আহম্মেদ (২৭), মো. কামরুল ইসলাম (৩৬), মো. নূর আলম (৪৫), মো. আলতাফ হোসেন (৪৫), সাকিব (৩০), মো. মাসুদ (৩৮), বাদল (২৯), ইসরাফিল (৪০), বিল্লাল (৪২), মো. আল আমিন (২২), রবিউল (২৫) ও মো. আরিফ হাওলাদার (২৬)।গ্রেফতারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী মন্তব্য করেছেন, নৃত্য ও সংগীতের সমন্বয়ে যে সাংস্কৃতিক জাগরণ সৃষ্টি হয়, তা মানুষের রক্তে ক্ষোভ ও উদ্দীপনার আগুন জ্বালিয়ে দেয়। এটি একটি অত্যন্ত শক্তিশালী মাধ্যম, যা জোরপূর্বক রাজসিংহাসন দখল করে থাকা ভয়ংকর ফ্যাসিস্টদের আসনও নাড়িয়ে দিতে সক্ষম।
তিনি আরও বলেন, সংস্কৃতির ঐতিহ্যগত অন্ধকার ও অমানবিক দিকগুলোকে দূরীভূত করে সত্য, সুন্দর, নারী ক্ষমতায়ন ও অগ্রগতির চর্চাকে ধারণ করা উচিত আধুনিক সংস্কৃতির মূল লক্ষ্য।
আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থা’র নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী তার বক্তব্যে সংস্কৃতির মেলবন্ধন এবং পারিবারিক ঐতিহ্যের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘সব পরিবারে সংস্কৃতির মেলবন্ধন থাকে না। একমাত্র কিছু খানদানি পরিবারেই এই চর্চা দেখা যায়। উদাহরণস্বরূপ, যাদের পিতা নজরুল ললিতকলা একাডেমি গড়ে তুলেছেন এবং যার মা এ দেশের নৃত্যশিল্পের একজন গুরুস্থানীয় ‘গুরু মা’ হিসেবে পরিচিত, তাদের অবদান অনস্বীকার্য। আমি সেই শ্রদ্ধেয় মাতাকে অত্যন্ত সম্মান জানাচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘আমি রাজনীতি করি, নৃত্য সম্পর্কে আমার গভীর কোনো টেকনিক্যাল জ্ঞান নেই। তবে যেকোনো নৃত্য যখন গান ও বাদ্যের তালে তালে মঞ্চস্থ হয়, তখন তা সত্যি মনকে নির্মল করে তোলে। কাজের বা মনের যতই চাপ থাকুক না কেন, তা মুহূর্তেই দূরে ঠেলে দেয়। আমার কাছে মনে হয়েছে—গীত এবং বাদ্যের ছন্দে শরীরের অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে যে ভাব, অনুভূতি ও চিত্রকল্প গড়ে ওঠে, সেটারই ললিতকলা হলো নৃত্য।’
তিনি আরও বলেন, যুগ যুগ ধরে নানাভাবেই বিশ্বজুড়ে এবং আমাদের দেশে নৃত্যশিল্প গড়ে উঠেছে। শাস্ত্রীয় নৃত্য, লোকনৃত্য, আধুনিক নৃত্য—এমন বহু শাখা-প্রশাখা রয়েছে। আমাদের লোকজ সংস্কৃতির ঐতিহ্যের ধারক হিসেবে প্রাচীনকাল থেকেই লেটো দল, কবিগান কিংবা গম্ভীরার মতো অনুষ্ঠানগুলো চলে আসছে। কবিগানে যেমন দুই পক্ষের গানের প্রতিযোগিতা ও অঙ্গভঙ্গি থাকে, তেমনি উত্তরাঞ্চলের ‘গম্ভীরা’ একটি বড় মাপের নৃত্যকলা। এসব লোকজ ঐতিহ্যের গান ও নাচ আমাদের সংস্কৃতিকে দীর্ঘদিন ধরে টিকিয়ে রেখেছে।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘নৃত্য এমন একটি শক্তিশালী সাংস্কৃতিক মাধ্যম যা ইতিহাস পরিবর্তন করতে পারে। এক সময় আন্দোলনের মঞ্চে যখন গান ও নাচের মাধ্যমে প্রতিবাদ রূপ পেত, তা মানুষের রক্তের মধ্যে দারুণ উদ্দীপনা সঞ্চার করত। বিশেষ করে ‘কারার ওই লৌহ কপাট’ যখন নাচের তালে তালে গীত হয়, তখন মানুষের রক্তে আগুন ধরে যায়। তখন সামনে পুলিশের ব্যারিকেড থাকুক কিংবা র্যাবের ব্যারিকেড থাকুক—সব বাধা ভেঙে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রবল প্রবণতা ও প্রেরণা তৈরি হয়। বিগত ফ্যাসিবাদের আমলেও ‘দেশটা কি তোর বাপের নাকি’ গানের সঙ্গে শিল্পীদের অঙ্গভঙ্গি গণআন্দোলনের স্রোতকে আরও শক্তিশালী ও বেগবান করেছিল।’
আবহমান সংস্কৃতির অন্ধকার দিক বর্জনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের লোকজ ও আবহমান সংস্কৃতির মধ্যে কিছু অন্ধকারের দিকও ছিল। ঐতিহ্যকে ভুলে গেলে চলবে না, তবে সেই অন্ধকারগুলোকে সরিয়ে প্রগতির পথে এগোতে হবে। আমাদের ঐতিহ্যে একসময় সতীদাহ প্রথা ছিল, যা একটি অত্যন্ত অমানবিক বিষয়। পরবর্তীতে বিধবা বিবাহ প্রচলন হয়েছে। সতীদাহ প্রথাকে উৎসাহিত করতেও একসময় গান বা চর্চা ছিল। কিন্তু লোকজ ঐতিহ্য থেকে সেই অমানবিক প্রথা বিলোপ করে নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারীকে শিক্ষাদীক্ষায় উন্নত করার জন্য যে গান ও আধুনিক নৃত্যের সূচনা হয়, সেটাই প্রগতির প্রতীক। অতীতের অমানবিক ও অন্ধকার দিক বাদ দিয়ে অগ্রগতির জন্য যে নৃত্য ও গান রচিত হবে, সেটাই আমাদের সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘আজকে আর পূর্বের নষ্ট সংস্কৃতির অংশ হলে আমাদের চলবে না। এখন আর গুম, গুপ্তহত্যা কিংবা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের যুগ নেই। বিরোধী দল এখন লংমার্চ বা বিভিন্ন কর্মসূচির কথা বলছে। গণতন্ত্রে বিরোধী দলের কর্মসূচি থাকবে, তারা পার্লামেন্টের ভেতরে ও বাইরে কথা বলবে এবং সরকারের যৌক্তিক সমালোচনা করবে—এতে কোনো বাধা বা আপত্তি নেই। কিন্তু অতীতের কুৎসিত সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি করলে দেশ আবার অন্ধকারের দিকে যাবে।’
জ্বালানি সংকট ও বিরোধী দলের ভূমিকার বিষয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটের কারণ সরকারের কোনো অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা নয়। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার বৈশ্বিক যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচলের ঝুঁকির কারণে আন্তর্জাতিকভাবে এই সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
শিল্প ও সংস্কৃতির অব্যাহত চর্চার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, যা সত্য ও সুন্দর—তার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সংগীত, সাহিত্য ও নৃত্যের নিয়মিত চর্চা মানুষের মন থেকে নিষ্ঠুরতা ও রক্তপিপাসু মানসিকতা দূর করে এবং সমাজে মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ